জাতীয়
রাষ্ট্রপতির ভাষণ ও রাজনৈতিক বাস্তবতা: সময়ের সঙ্গে পরিবর্তন হয়?

ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরুর দিনে ভাষণ দেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। ১২ মার্চ, ২০২৬ । ছবি: পিআইডি
ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের ভাষণ নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার প্রতিফলন হিসেবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। তিন বছরের মধ্যে তিনটি ভিন্ন সরকারের সময় তিনি রাষ্ট্রপতি থাকলেও সরকারের স্বরূপ ভিন্ন হওয়া সত্ত্বেও তাদের কার্যক্রমের প্রশংসা করেছেন।
রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনকে ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেয়া হয়। এর আগে তিনি জেলা ও দায়রা জজ, দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার ও ব্যাংক ব্যবস্থাপনা ক্ষেত্রে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন। এ কারণে রাষ্ট্রপতি নিয়োগ নিয়ে রাজনৈতিক এবং সামাজিক বিভিন্ন মহলে নানা আলোচনা হয়।
সংসদে তার ভাষণে উল্লেখিত হয়েছে, জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষক এবং বেগম খালেদা জিয়ার গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় আপসহীন ভূমিকার কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণযোগ্য। পাশাপাশি ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানকে দেশের গণতন্ত্রের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। তিনি একে ফ্যাসিবাদী সরকারের পতনের সঙ্গে যুক্ত করেছেন এবং হাজারো শহীদের রক্তের বিনিময়ে নতুন গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের সূচনা উল্লেখ করেছেন।
রাজনৈতিক দৃশ্যপটের প্রতিফলন দেখা যায় যখন রাষ্ট্রপতির এই বক্তব্যের সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও বিএনপির সদস্যরা টেবিল চাপড়ে সমর্থন জানিয়েছেন। অন্যদিকে, জামায়াত ও এনসিপি সংসদে ভাষণ চলাকালীন সময়ে ওয়াকআউট করেছেন।
২০২৪ সালের নির্বাচনের প্রসঙ্গও উল্লেখ করেছেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেছিলেন, জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ নির্বাচনের সাফল্য নিশ্চিত করেছে এবং সরকারের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের পদক্ষেপ যথার্থ ছিল। তৎকালীন বক্তব্যে তিনি ‘জয় বাংলা’ বলে বক্তৃতা শেষ করেছিলেন, এবার শেষ করেছেন ‘বাংলাদেশ জিন্দাবাদ’ বলে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রাষ্ট্রপতির ভাষণ সাধারণত সরকার বা মন্ত্রিসভার প্রস্তুতকৃত হয়। তবে এবারের সংসদে ভিন্ন রাজনৈতিক বাস্তবতার কারণে তার বক্তব্যে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদধারীর নিজস্ব অবস্থানও প্রতিফলিত হয়েছে। বহু প্রাণের বিনিময়ে ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ও রাষ্ট্রের মৌলিক পরিবর্তন আশা, এ ভাষণকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।
বিরোধী দল এনসিপি নেতৃবৃন্দ রাষ্ট্রপতির ভাষণের সমালোচনা করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। একদিকে রাষ্ট্রপতির সমর্থকরা নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে তার বক্তব্যের প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরছেন, অন্যদিকে সমালোচকরা তাকে বিভিন্ন পদে থাকা অতীত কর্মকাণ্ডের কারণে সমালোচনা করেছেন।
সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণ রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকলেও এটি এখনও সাংবিধানিক আনুষ্ঠানিকতার অংশ। প্রশ্ন উঠে, ভবিষ্যতে রাষ্ট্রপতির ভাষণ কি কেবল আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে থাকবে নাকি সেখানে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদধারীর নিজস্ব অবস্থান প্রতিফলিত হবে?
সম্পর্কিত
জনপ্রিয়
সর্বশেষ
জাতীয় থেকে আরও পড়ুন
শেখ হাসিনা ফিরলে আত্মসমর্পণ করে জেলে যেতে হবে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে আত্মসমর্পণ করে কারাগারে যেতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি বলেন, শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে এবং দেশে ফেরার পর প্রচলিত আইন অনুযায়ী তাঁর বিরুদ্ধে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বন্যায় প্রাণহানির জন্য ফ্যাসিস্ট সরকারের অপরিকল্পিত উন্নয়ন দায়ী: রিজভী
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, বিগত সরকারের অপরিকল্পিত উন্নয়ন এবং প্রকৃতিবিরোধী অবকাঠামো নির্মাণের কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়েছে। এর ফলেই ব্যাপক প্রাণহানি ও দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

নয়াদিল্লিতে বিমসটেক বৈঠকে অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশ
দিল্লি বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমানের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার বিষয়ে ভারতের দেওয়া ব্যাখ্যা প্রত্যাখ্যান করলেও আসন্ন ‘বিমসটেক ন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যাডভাইজার্স মিটিং’-এ অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ।

জুবাইদার স্মৃতিবিজড়িত হোস্টেলে প্রধানমন্ত্রী, শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাস
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান শনিবার ঢাকা মেডিকেল কলেজের (ডিএমসি) কাজী ফজলুল হক মহিলা হোস্টেল পরিদর্শন করেছেন। এ সময় হোস্টেলের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে কিছু সময় কাটান তারা।








