জাতীয়


৫ আগস্ট বঙ্গভবনে কী ঘটছিল- প্রথমবার জানালেন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন


নিজস্ব প্রতিবেদক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত:২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৬:৪২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার

৫ আগস্ট বঙ্গভবনে কী ঘটছিল- প্রথমবার জানালেন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন । ছবি: সংগৃহীত


২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের আন্দোলন যখন জনবিস্ফোরণে রূপ নেয়, তখন বঙ্গভবনের ভেতরে দ্রুত পাল্টে যেতে থাকে পরিস্থিতি। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন জানিয়েছেন, সেদিন হঠাৎ করেই ঘটনাপ্রবাহ এমন মোড় নেয় যে সবাই প্রায় কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েছিলেন।

 

সম্প্রতি বঙ্গভবনে নিজ কার্যালয়ে একটি বেসরকারি গণমাধ্যমকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি সেদিনের ঘটনাবলি বিস্তারিত তুলে ধরেন।

 

রাষ্ট্রপতি বলেন, “যখন বিক্ষোভকারীরা গণভবনের দিকে যাচ্ছিল, তখন আমাকে জানানো হলো যে যেকোনো মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গভবনে আসতে পারেন। দুপুর ১২টার দিকে বলা হলো, তিনি আসার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, হেলিকপ্টারও প্রস্তুত। তখনই আমরা পরিস্থিতির ভয়াবহতা আঁচ করতে পারি।”

 

তিনি জানান, বঙ্গভবনের নিরাপত্তা সদস্যরা সতর্ক অবস্থান নেন। তবে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে হঠাৎ জানানো হয়, প্রধানমন্ত্রী আর আসছেন না। কিছুক্ষণ পর জানা যায়, তিনি দেশ ছেড়ে চলে গেছেন। “সব মিলিয়ে ৩০ থেকে ৪০ মিনিটের মধ্যে ঘটনাপ্রবাহের দ্রুত পরিবর্তন দেখতে পাই,” বলেন রাষ্ট্রপতি।

 

রাষ্ট্রপতির ভাষ্য অনুযায়ী, বিকেল ৩টার দিকে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান তাকে ফোনে পরিস্থিতি অবহিত করেন। পরে তিনি সাংবাদিকদের সামনে ব্রিফিং দিয়ে জানান, প্রধানমন্ত্রী দেশত্যাগ করেছেন।

 

এরপর সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী প্রধান বঙ্গভবনে এসে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বৈঠকে বসেন। “তখন আমাদের প্রায় কিংকর্তব্যবিমূঢ় অবস্থা। কী করা যায়, কিভাবে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যায় এসব নিয়ে দুই থেকে তিন ঘণ্টা আলোচনা হয়,” বলেন তিনি।

 

পরিস্থিতি মোকাবিলায় সব রাজনৈতিক দলের নেতাদের ডাকার সিদ্ধান্ত হয়। সেনাবাহিনীর উদ্যোগে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কয়েকজন প্রতিনিধি বঙ্গভবনে আসেন। রাষ্ট্রপতির সভাপতিত্বে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় এবং সেনাপ্রধান পরিস্থিতির ব্যাখ্যা দেন।

 

রাষ্ট্রপতি বলেন, “বৈঠকে দেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতা ছিল সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। কিভাবে দ্রুত মানুষকে স্বস্তি দেওয়া যায়, তা নিয়েই আলোচনা হয়েছে।” বৈঠকে তিনটি প্রস্তাব ওঠে তত্ত্বাবধায়ক সরকার, সর্বদলীয় বা জাতীয় সরকার এবং অন্তর্বর্তী সরকার। বিভিন্ন দিক বিবেচনায় ‘অন্তর্বর্তী সরকার’ গঠনের বিষয়ে ঐকমত্য হয়।

 

রাষ্ট্রপতি বলেন, “সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়ে পরিস্থিতি সম্পর্কে মানুষকে আশ্বস্ত করার দায়িত্ব আমার ওপর পড়ে। রাত ১১টার দিকে আমি ভাষণ দিই। সরকার গঠনের প্রক্রিয়া রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সেনাবাহিনীর আলোচনার মাধ্যমে এগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।”

 

এই সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি ৫ আগস্টের ঘটনাপ্রবাহকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ ও নাটকীয় মুহূর্ত হিসেবে উল্লেখ করেন।


সম্পর্কিত

রাষ্ট্রপতিসাহাবুদ্দিন

জনপ্রিয়


জাতীয় থেকে আরও পড়ুন

রাষ্ট্রপতিকে নিয়ে হাসনাত আব্দুল্লাহর তিন শব্দের স্ট্যাটাস, মুহূর্তেই ভাইরাল

রাষ্ট্রপতিকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিন শব্দের একটি সংক্ষিপ্ত স্ট্যাটাস দিয়েছেন সংসদ সদস্য ও এনসিপি নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহ। পোস্টটি প্রকাশের পরপরই তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

হট্টগোলের মধ্যেই রাষ্ট্রপতির ভাষণ, প্ল্যাকার্ড হাতে প্রতিবাদ ও ওয়াকআউট বিরোধী দলের

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে হট্টগোলের মধ্যেই ভাষণ শুরু করেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। ভাষণ শুরুর আগে প্ল্যাকার্ড হাতে প্রতিবাদ জানিয়ে পরে ওয়াকআউট করেন বিরোধী দল জামায়াতের সংসদ সদস্যরা।

সংসদে শোকপ্রস্তাবে সাঈদী, হাদি, আবরার ফাহাদের নাম যুক্ত করার দাবি বিরোধীদলের

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে উত্থাপিত শোকপ্রস্তাবে আরও কয়েকজন ব্যক্তির নাম অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছে বিরোধীদল।

‘আজ থেকে বাংলাদেশে গণতন্ত্রের নতুন যাত্রা শুরু’- সংসদে তারেক রহমান

সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে আবারও গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু হলো।