আন্তর্জাতিক


ইরানে কি শিগগিরই হামলা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র? সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধির ইঙ্গিতগুলো কী বলছে


দূরবিন ডেস্ক

দূরবিন ডেস্ক

প্রকাশিত:৩০ জানুয়ারি ২০২৬, ০৫:১৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার

ইরানে কি শিগগিরই হামলা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র? সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধির ইঙ্গিতগুলো কী বলছে

ছবি: সংগৃহীত


ইরানের উপকূলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি হঠাৎ করেই ব্যাপকভাবে বেড়ে যাওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ওয়াশিংটনের এই তৎপরতা কেবল প্রতিরোধমূলক সতর্কতা নয় বরং সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের স্পষ্ট সংকেতও হতে পারে।

 

পারমাণবিক শক্তিচালিত বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন বর্তমানে আরব সাগরে মোতায়েন রয়েছে। এটি মার্কিন নৌবাহিনীর অন্যতম বৃহৎ ও শক্তিশালী যুদ্ধজাহাজ। এর সঙ্গে রয়েছে একাধিক ডেস্ট্রয়ার, সাবমেরিন ও আধুনিক যুদ্ধবিমানবাহী বহর। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, ‘আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা’ বজায় রাখতেই এই মোতায়েন।

 

তবে এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নন বিশ্লেষকেরা। কারণ, ইরানে চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা, সাম্প্রতিক গণবিক্ষোভ এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর বক্তব্য সব মিলিয়ে পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

 

২০২৫ সালের ডিসেম্বরের শেষ দিকে ইরানে শুরু হয় ব্যাপক গণবিক্ষোভ। শুরুতে মুদ্রাস্ফীতি ও অর্থনৈতিক সংকটের প্রতিবাদে আন্দোলন হলেও দ্রুত তা সরকার পরিবর্তনের দাবিতে রূপ নেয়। জাতিসংঘের তথ্যমতে, নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে অন্তত পাঁচ হাজার বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন এবং হাজার হাজার মানুষ আটক হয়েছেন।

 

এই পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রকাশ্যে ইরানের ধর্মীয় নেতৃত্বের সমালোচনা করেন এবং বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে বলেন, ‘সাহায্য আসছে’। তিনি হুঁশিয়ারি দেন, বন্দীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক ব্যবস্থা নেবে।

 

যদিও পরবর্তীতে ইরান সরকার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আশ্বাস দিলে ট্রাম্প কিছুটা নমনীয় অবস্থান নেন, তবু মার্কিন সামরিক প্রস্তুতি থেমে থাকেনি।

 

বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে প্রায় ৪০ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে। বাহরাইন, কাতার, কুয়েত, ইরাক, সৌদি আরব, জর্ডান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে মার্কিন বিমানবাহিনীও একাধিক যুদ্ধপ্রস্তুতিমূলক মহড়ার ঘোষণা দিয়েছে।

 

ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের মতো রণতরি একটি ভাসমান বিমানঘাঁটি হিসেবে কাজ করে। এতে প্রায় ৬৫টি যুদ্ধবিমান রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে অত্যাধুনিক এফ/এ-১৮ সুপার হর্নেট। দ্রুতগতিসম্পন্ন ডেস্ট্রয়ার জাহাজগুলো টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপে সক্ষম।

 

২০২৫ সালের জুনে যুক্তরাষ্ট্র ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’-এর মাধ্যমে ইরানের তিনটি পারমাণবিক কেন্দ্রে সরাসরি হামলা চালায়। এটি ছিল ইরানের ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম প্রকাশ্য সামরিক অভিযান। সেই হামলার আগে একই ধরনের সামরিক তৎপরতা লক্ষ্য করা গিয়েছিল।

 

বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, বর্তমান প্রস্তুতি নতুন হামলার দিকেই ইঙ্গিত করছে। তবে অন্যরা বলছেন, বিক্ষোভ এখন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এবং একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক মূল্য যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত বেশি।

 

ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের মতে, যেকোনো সামরিক সংঘাতের সবচেয়ে বড় মূল্য দিতে হবে ইরানের সাধারণ মানুষকে। এতে মধ্যপ্রাচ্য আরও অস্থিতিশীল হয়ে উঠবে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।


সম্পর্কিত

ইরানযুক্তরাষ্ট্রআন্তর্জাতিক

জনপ্রিয়


আন্তর্জাতিক থেকে আরও পড়ুন

আহত হলেও নিরাপদে আছেন ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি

যুদ্ধকালীন ঘটনায় আহত হলেও বর্তমানে নিরাপদ ও সুস্থ আছেন ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। বুধবার (১১ মার্চ) এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের ছেলে ও সরকারের উপদেষ্টা ইউসেফ পেজেশকিয়ান।

ট্রাম্পকে চাপে ফেলতে দীর্ঘ যুদ্ধের কৌশল নিচ্ছে ইরান, বলছেন বিশ্লেষকরা

যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় সামরিক শক্তিতে পিছিয়ে থাকলেও একাধিক ফ্রন্টে পাল্টা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইরান। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাইরে থেকে ইরানের প্রতিক্রিয়া কিছুটা অগোছালো মনে হলেও বাস্তবে এটি শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলার একটি পুরোনো যুদ্ধ কৌশলের অংশ।

ইরান ও লেবাননে নতুন করে ইসরায়েলি হামলা, বৈরুতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও তীব্র হয়েছে। ইরান ও লেবাননের বিভিন্ন স্থানে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। একই সময়ে ইরানও পাল্টা হামলার দাবি করেছে, যার ফলে পুরো অঞ্চলে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় হোম অফিস চালু থাইল্যান্ড–ভিয়েতনামে

জ্বালানি সাশ্রয় এবং তেলের দামের অস্থিরতা সামাল দিতে সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য হোম অফিস পদ্ধতি চালুর নির্দেশ দিয়েছে থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনাম। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) দেশ দুটির সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাসা থেকে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।