অর্থনীতি
জিএফআই প্রতিবেদন: ১০ বছরে বাণিজ্যের আড়ালে বাংলাদেশ থেকে পাচার ৬৮ বিলিয়ন ডলার

ছবি: সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের আড়ালে গত এক দশকে বাংলাদেশ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচারের তথ্য উঠে এসেছে এক গবেষণায়। ২০১৩ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত সময়ে প্রায় ৬৮ দশমিক ৩ বিলিয়ন (৬ হাজার ৮৩০ কোটি) ডলার অবৈধভাবে বিদেশে পাচার হয়েছে বলে জানিয়েছে গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটি (জিএফআই)।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) প্রকাশিত সংস্থাটির সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়, আমদানি ও রপ্তানিতে পণ্যের মূল্য বা পরিমাণে অসত্য তথ্য দেওয়ার মাধ্যমে যা ‘ট্রেড মিস-ইনভয়েসিং’ নামে পরিচিত এই অর্থ পাচার করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, কর ফাঁকি, মুনাফা স্থানান্তর এবং বিদেশে পুঁজি সরানোর উদ্দেশ্যে আমদানিতে অতিরিক্ত মূল্য দেখানো (ওভার ইনভয়েসিং) এবং রপ্তানিতে কম মূল্য দেখানোর (আন্ডার ইনভয়েসিং) মাধ্যমে এই কারসাজি করা হয়।
জিএফআই-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এশিয়ার উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্য মূল্যের গরমিলের দিক থেকে শীর্ষ ১০ দেশের তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশ।
বিশ্লেষণে আরও দেখা গেছে, পাচার হওয়া অর্থের বড় একটি অংশ উন্নত দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্যের সময় ঘটেছে। মোট অর্থের মধ্যে প্রায় ৩৩ বিলিয়ন ডলার যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে লেনদেনের ক্ষেত্রে গরমিলের মাধ্যমে সরানো হয়েছে।
প্রতিবেদনটি বলছে, বাংলাদেশের রপ্তানিমুখী শিল্প ও আমদানিনির্ভর খাতগুলোতে এ ধরনের অনিয়ম বেশি দেখা যায়। ফলে এই প্রবণতা দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
দক্ষিণ এশিয়ার প্রেক্ষাপটে তুলনা করলে দেখা যায়, একই সময়ে ভারত থেকে বাণিজ্যের আড়ালে প্রায় ১ দশমিক ০৬ ট্রিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে, যা অঞ্চলের মধ্যে সর্বোচ্চ। অন্যদিকে, শ্রীলঙ্কায় প্রায় ২৪ বিলিয়ন ডলারের গরমিল ধরা পড়েছে।
পুরো এশিয়া অঞ্চলের চিত্র তুলে ধরে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুধু ২০২২ সালেই উন্নয়নশীল দেশগুলো থেকে বাণিজ্যের আড়ালে প্রায় ১৬৯ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে।
গবেষণায় সতর্ক করা হয়েছে, এই প্রবণতা দীর্ঘদিন ধরে চলমান এবং তা কমানোর সুস্পষ্ট কোনো লক্ষণ এখনো দেখা যাচ্ছে না। ফলে কার্যকর নীতি ও কঠোর নজরদারি ছাড়া এই আর্থিক অনিয়ম নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সম্পর্কিত
জনপ্রিয়
সর্বশেষ
অর্থনীতি থেকে আরও পড়ুন
নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য বিনা জামানতে ১০ লাখ টাকা ঋণ, স্টার্টআপে ৪% সুদে বিশেষ তহবিল
নতুন উদ্যোক্তাদের ঋণপ্রাপ্তি সহজ করতে কুটির, মাইক্রো ও ক্ষুদ্র (সিএমএসএমই) খাতের নতুন উদ্যোক্তা পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের আকার ১০০ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০০ কোটি টাকায় উন্নীত করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ তহবিল থেকে নতুন উদ্যোক্তারা বিনা জামানতে সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ সুদে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবেন। একই সঙ্গে স্টার্টআপ উদ্যোক্তাদের জন্য ৪ শতাংশ সুদে ঋণ সুবিধা দিতে ৫০০ কোটি টাকার একটি বিশেষ পুনঃঅর্থায়ন তহবিল গঠন করা হয়েছে।

আজকের স্বর্ণের দাম: ০৭ জুলাই ২০২৬
দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমানো হয়েছে। ফলে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৫ হাজার ২৯০ টাকা।

৪ জুলাই ২০২৬: ২২ ক্যারেট স্বর্ণের ভরি কত?
টানা দুই দফা কমার পর দেশের বাজারে ফের টানা দুই দফা স্বর্ণের দাম বাড়িয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। সবশেষ ভরিতে ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা বাড়িয়ে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২৮ হাজার ৫৫৬ টাকা নির্ধারণ করেছে সংগঠনটি।

২ জুলাই ২০২৬: ২২ ক্যারেট স্বর্ণের ভরি কত?
দেশের বাজারে টানা দুই দফা স্বর্ণের দাম কমার পর আবারও দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ভ্যাটসহ ২ হাজার ২১৬ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা।









