অর্থনীতি
বাড়তি ৫ হাজার কোটি টাকা আদায়ে সম্পদ কর ফের চালুর পরিকল্পনা সরকারের

আগামী জাতীয় বাজেটে সর্বোচ্চ ১ শতাংশ পর্যন্ত সম্পদ কর পুনরায় চালুর পরিকল্পনা করছে সরকার। বিদ্যমান সম্পদ সারচার্জ ব্যবস্থা বাতিল করে সরাসরি নিট সম্পদের ওপর কর আরোপের মাধ্যমে অতিরিক্ত প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আসন্ন বাজেটকে সামনে রেখে আয়কর কাঠামো নিয়ে চলমান আলোচনার অংশ হিসেবে সোমবার অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ড–এর কর্মকর্তাদের বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, বর্তমানে করদাতাদের ঘোষিত সম্পদের ওপর আয়করের সঙ্গে যুক্ত যে সারচার্জ নেওয়া হয়, সেটি বাতিল করে সরাসরি নিট সম্পদের ওপর কর আরোপ করা হবে। শুরুতে করদাতাদের ট্যাক্স ফাইলে ঘোষিত সম্পদের ভিত্তিতেই কর নির্ধারণের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে ভবিষ্যতে সম্পদের বাজারমূল্য নির্ধারণের জন্য আলাদা মূল্যায়ন ব্যবস্থা গড়ে তোলার কথাও ভাবা হচ্ছে।
এনবিআর কর্মকর্তাদের ধারণা, বাজারমূল্যভিত্তিক মূল্যায়ন কার্যকর করা গেলে সম্পদ কর থেকে রাজস্ব আদায় আরও কয়েকগুণ বাড়তে পারে।
প্রাথমিক প্রস্তাব অনুযায়ী, ৪ কোটি টাকা পর্যন্ত নিট সম্পদ করমুক্ত রাখা হতে পারে। ৪ কোটি থেকে ৬ কোটি টাকার সম্পদের ওপর ০.২৫ শতাংশ, পরবর্তী ৫ কোটি টাকার ওপর ০.৫০ শতাংশ, এরপরের ৫ কোটি টাকায় ০.৭৫ শতাংশ এবং ১৬ কোটি টাকার বেশি সম্পদের ওপর ১ শতাংশ পর্যন্ত কর আরোপের চিন্তা করা হচ্ছে।
একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে এ বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টা তারেক রহমান–এর সঙ্গে বৈঠক হতে পারে। আগামী ১১ জুন জাতীয় সংসদে নতুন বাজেট উপস্থাপনের সম্ভাবনা রয়েছে।
বাংলাদেশে প্রথম ১৯৬৩ সালে ‘ওয়েলথ ট্যাক্স অ্যাক্ট’-এর মাধ্যমে সম্পদ কর চালু হয়েছিল। তবে সম্পদের মূল্যায়ন জটিলতা এবং দ্বৈত কর আরোপের অভিযোগে ১৯৯৯ সালে আইনটি বাতিল করা হয়।
সাম্প্রতিক সময়ে বৈষম্য কমাতে সম্পদ কর পুনরায় চালুর সুপারিশ করে আসছেন অর্থনীতিবিদেরা। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ–এর সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “বাংলাদেশে সম্পদ বৈষম্য দ্রুত বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে বাড়তি সম্পদের ওপর কর আরোপ যৌক্তিক উদ্যোগ।”
তবে বাস্তবায়ন নিয়ে সতর্ক করেছেন সাবেক এনবিআর সদস্য অপূর্ব কান্তি দাস। তার মতে, কার্যকর নজরদারি ছাড়া নিয়মিত করদাতাদের ওপরই বেশি চাপ পড়তে পারে, অথচ সম্পদ গোপনকারীরা করের বাইরে থেকে যেতে পারে।
বর্তমানে দেশে ১১ হাজারের কিছু বেশি করদাতা সম্পদ সারচার্জের আওতায় রয়েছেন। এনবিআর আশা করছে, তথ্য আদান-প্রদান ও করদাতা শনাক্তকরণ ব্যবস্থা শক্তিশালী করা গেলে ভবিষ্যতে এই সংখ্যা আরও বাড়বে।
জনপ্রিয়
সর্বশেষ
অর্থনীতি থেকে আরও পড়ুন
নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য বিনা জামানতে ১০ লাখ টাকা ঋণ, স্টার্টআপে ৪% সুদে বিশেষ তহবিল
নতুন উদ্যোক্তাদের ঋণপ্রাপ্তি সহজ করতে কুটির, মাইক্রো ও ক্ষুদ্র (সিএমএসএমই) খাতের নতুন উদ্যোক্তা পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের আকার ১০০ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০০ কোটি টাকায় উন্নীত করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ তহবিল থেকে নতুন উদ্যোক্তারা বিনা জামানতে সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ সুদে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবেন। একই সঙ্গে স্টার্টআপ উদ্যোক্তাদের জন্য ৪ শতাংশ সুদে ঋণ সুবিধা দিতে ৫০০ কোটি টাকার একটি বিশেষ পুনঃঅর্থায়ন তহবিল গঠন করা হয়েছে।

আজকের স্বর্ণের দাম: ০৭ জুলাই ২০২৬
দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমানো হয়েছে। ফলে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৫ হাজার ২৯০ টাকা।

৪ জুলাই ২০২৬: ২২ ক্যারেট স্বর্ণের ভরি কত?
টানা দুই দফা কমার পর দেশের বাজারে ফের টানা দুই দফা স্বর্ণের দাম বাড়িয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। সবশেষ ভরিতে ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা বাড়িয়ে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২৮ হাজার ৫৫৬ টাকা নির্ধারণ করেছে সংগঠনটি।

২ জুলাই ২০২৬: ২২ ক্যারেট স্বর্ণের ভরি কত?
দেশের বাজারে টানা দুই দফা স্বর্ণের দাম কমার পর আবারও দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ভ্যাটসহ ২ হাজার ২১৬ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা।









