রাজনীতি
ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন: বিএনপি সরকার গঠন করলে কি তারেক রহমানের নেতৃত্বে শুরু হবে নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়?
.jpg)
তারেক রহমান । ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে একটি নাম জনাব তারেক রহমান। দীর্ঘ সময় প্রবাসে অবস্থান করেও দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এর চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি দলীয় রাজনীতি, কৌশল নির্ধারণ এবং সাংগঠনিক কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তার করে চলেছেন। আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে তাঁর সম্ভাব্য নেতৃত্ব, রাজনৈতিক কৌশল এবং ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চলছে ব্যাপক আলোচনা।
উত্তরাধিকার থেকে নেতৃত্বের পথে
তারেক রহমান বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া–এর সন্তান। রাজনৈতিক ঐতিহ্যে বেড়ে ওঠার কারণে রাজনীতিতে তাঁর প্রবেশ ছিল অনেকটাই স্বাভাবিক ধারাবাহিকতা।
২০০০-এর দশকের শুরুতে সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত হয়ে তিনি দলীয় সাংগঠনিক পুনর্গঠনে ভূমিকা রাখেন। বিশেষ করে তৃণমূল পর্যায়ে দলকে পুনরুজ্জীবিত করা, নতুন নেতৃত্ব তৈরি এবং আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থার ব্যবহার এসব ক্ষেত্রে তাঁর উদ্যোগ দলীয় মহলে গুরুত্ব পায়।
বিভিন্ন রাজনৈতিক ও আইনি জটিলতার কারণে দীর্ঘ সময় দেশের বাইরে অবস্থান করলেও তিনি ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্ম ও দলীয় কাঠামোর মাধ্যমে দলের নীতি ও কৌশল নির্ধারণে সক্রিয় থেকেছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি বাংলাদেশের রাজনীতিতে দূরবর্তী নেতৃত্বের একটি নতুন বাস্তবতা তৈরি করেছে।
প্রজন্মগত পরিবর্তনের প্রতীক
বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় বিএনপির সমর্থকদের একটি বড় অংশ তারেক রহমানকে দলীয় প্রজন্মগত পরিবর্তনের প্রতীক হিসেবে দেখছেন। বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের কাছে তাঁর বক্তব্য গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, রাজনৈতিক সংস্কার এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। তবে সমালোচকদের একটি অংশ তাঁর অতীত রাজনৈতিক ভূমিকা এবং চলমান আইনি মামলাগুলো নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। তাদের মতে, জাতীয় নেতৃত্বের ভূমিকায় আসতে হলে এসব বিতর্ক মোকাবিলা করাই হবে তাঁর অন্যতম বড় পরীক্ষা। অন্যদিকে সমর্থকদের দাবি, পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতায় তিনি নতুনভাবে নিজেকে উপস্থাপনের সুযোগ পাচ্ছেন।
সম্ভাব্য নেতৃত্বের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ
যদি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি সরকার গঠন করতে সক্ষম হয় এবং তারেক রহমান সরাসরি নেতৃত্বে আসেন, তাহলে তাঁর সামনে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ থাকবে- দলীয় ঐক্য সুসংহত রাখা দীর্ঘ সময় বিরোধী রাজনীতিতে থাকা একটি বড় দলকে ক্ষমতায় এনে অভ্যন্তরীণ ঐক্য বজায় রাখা হবে বড় দায়িত্ব।
রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা নির্বাচনের পর রাজনৈতিক পরিবেশ স্থিতিশীল রাখা এবং বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে কার্যকর সম্পর্ক গড়ে তোলা প্রয়োজন হবে।
সন্ত্রাস দমন ও আইন-শৃঙ্খলা উন্নয়ন: অগ্রাধিকার ইস্যু
রাজনৈতিক সহিংসতা ও দলীয় সন্ত্রাস কঠোরভাবে দমন করতে হবে এবং আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার পেশাদারিত্ব বাড়িয়ে বিচারপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও দ্রুততা নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে মানবাধিকার রক্ষা করে নাগরিক নিরাপত্তা বজায় রাখা এবং চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা প্রয়োজন।
আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ভারসাম্য রক্ষা বিশ্ব রাজনীতির পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখা হবে বড় পরীক্ষা। অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের রূপরেখা উপস্থাপন মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়ন এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করা এসব ক্ষেত্রে কার্যকর নীতিমালা উপস্থাপন করতে হবে।
আইনি ও রাজনৈতিক বিতর্ক মোকাবিলা রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা শক্তিশালী করতে আইনি ও রাজনৈতিক বিতর্কের কার্যকর সমাধান জরুরি হয়ে উঠতে পারে।
দুই নেত্রীর যুগের পর কি নতুন অধ্যায়? বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে দুই প্রধান নেত্রীর প্রভাব ছিল সুস্পষ্ট। সেই প্রেক্ষাপটে তারেক রহমানের সম্ভাব্য নেতৃত্বকে অনেকেই একটি নতুন রাজনৈতিক যুগের সূচনা হিসেবে দেখছেন।
রাজনীতিতে উত্তরাধিকার একটি বাস্তবতা হলেও টিকে থাকতে প্রয়োজন দক্ষতা, গ্রহণযোগ্যতা এবং সময়োপযোগী নেতৃত্বের প্রমাণ। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন তাই শুধু ক্ষমতার পালাবদলের সম্ভাবনা নয় এটি হতে পারে নেতৃত্বের নতুন অধ্যায়ের সূচনা।
আগামী নির্বাচনই হয়তো নির্ধারণ করবে, তারেক রহমান কেবল দলের প্রতীক হয়ে থাকবেন, নাকি হয়ে উঠবেন বাংলাদেশের জাতীয় নেতৃত্বের কেন্দ্রবিন্দু।
জনপ্রিয়
সর্বশেষ
রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন
হঠাৎ অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি মির্জা আব্বাস
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস অসুস্থ হয়ে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

ছাত্রদলের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি নিয়ে জোর আলোচনা, সভাপতি–সম্পাদক পদে একাধিক নেতা আলোচনায়
ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নতুন কমিটি ঘোষণার প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে। যে কোনো সময় নতুন কমিটি ঘোষণা করা হতে পারে। রোববার (৮ মার্চ) বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম বকুল বলেন, দ্রুতই ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটিসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নতুন কমিটি প্রকাশ করা হবে। তাঁর এ বক্তব্যের পর থেকেই সম্ভাব্য নতুন নেতৃত্ব নিয়ে সংগঠনটির নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনা আরও জোরদার হয়েছে।

জবি ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্বের দৌড়ে শাহরিয়ার,পরাগ ও রুমি
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শাখা ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্বকে ঘিরে সংগঠনটির নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। সম্ভাব্য নেতৃত্বের তালিকায় উঠে এসেছে তিন নেতার নাম তারা হলেন- মো. শাহরিয়ার হোসেন, সাখাওয়াতুল ইসলাম খান পরাগ ও মোস্তাফিজুর রহমান (রুমি)।

বিদেশি চুক্তি নিয়ে আমাদের সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি: জামায়াত আমির
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বিভিন্ন দেশের সঙ্গে হওয়া আন্তর্জাতিক চুক্তি নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে কোনো আলোচনা করা হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন দলটির আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।


.jpg)






