রাজনীতি


খালেদা জিয়ার মৃত্যুর দায় থেকে শেখ হাসিনা কখনো মুক্তি পাবেন না: নজরুল ইসলাম খান


খেলা ডেস্ক

খেলা ডেস্ক

প্রকাশিত:৩১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১১:০৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার

খালেদা জিয়ার মৃত্যুর দায় থেকে শেখ হাসিনা কখনো মুক্তি পাবেন না: নজরুল ইসলাম খান

বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর দায় থেকে ফ্যাসিবাদী শেখ হাসিনা কখনো মুক্তি পাবেন না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। তিনি বলেছেন, খালেদা জিয়া দেশ-বিদেশের কোনো অপশক্তির কাছে কখনো মাথা নত করেননি। যাঁরা তাঁকে জেলে পাঠিয়েছে, গৃহহীন করেছে, তারাই আজ পালিয়ে বেড়াতে বাধ্য হয়েছে।

 

বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) দুপুরে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে খালেদা জিয়ার জানাজার আগে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

 

নজরুল ইসলাম খান বলেন, ফ্যাসিবাদী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত প্রতিহিংসার শিকার হয়ে মিথ্যা মামলায় ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে দীর্ঘ সময় কারাবন্দী ছিলেন খালেদা জিয়া। ওই সময় উপযুক্ত চিকিৎসা না পাওয়ায় তাঁর শারীরিক অবস্থা মারাত্মকভাবে অবনতি ঘটে। তিনি বলেন, ‘সারা দেশ জানে, তিনি পায়ে হেঁটে কারাগারে ঢুকেছিলেন। কিন্তু কারাগার থেকে বেরিয়ে এসেছেন চরম অসুস্থ অবস্থায়। পরবর্তী সময়ে চার বছর গৃহবন্দী রেখে তাঁকে বিদেশে চিকিৎসার সুযোগ দেওয়া হয়নি। দেশি-বিদেশি চিকিৎসকদের মতে, এই অবহেলাই তাঁর মৃত্যুকে ত্বরান্বিত করেছে। তাই এই মৃত্যুর দায় থেকে শেখ হাসিনা কখনো মুক্তি পাবে না।’

 

Related posts here

 

তিনি আরও বলেন, খালেদা জিয়ার জনপ্রিয়তা, সাংগঠনিক দক্ষতা ও দেশের স্বার্থে আপসহীন অবস্থানের কারণে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা তাঁকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হয়। ফলে তাঁকে ব্যক্তিগত শত্রু হিসেবে বিবেচনা করে দমন-পীড়নের পথ বেছে নেয়। স্বৈরাচার শেখ হাসিনা, স্বৈরাচার এরশাদ এমনকি তথাকথিত ১/১১ সরকারের সময়ও তাঁকে কারারুদ্ধ করা হয়েছে। শুধুমাত্র প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে শহীদ জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত বাসভবন থেকে তাঁকে উৎখাত করা হয় এবং মিথ্যা মামলায় দীর্ঘ সাজা দেওয়া হয়।

 

নজরুল ইসলাম খান বলেন, এসব নির্যাতনের পরও খালেদা জিয়া আধিপত্যবাদী রাজনীতির সঙ্গে কখনো আপস করেননি। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা কিংবা ভোটাধিকারের প্রশ্নেও তিনি ছিলেন অনড়। এ কারণেই তিনি ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের এক অনন্ত অনুপ্রেরণায় পরিণত হন।

 

তিনি বলেন, ‘আজ দেশনেত্রী সব অভিযোগ থেকে মুক্ত হয়ে লক্ষ মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত। আর যারা তাঁকে নির্যাতন করেছে, তারা আজ পালিয়ে বেড়াচ্ছে। এরশাদকে দীর্ঘ কারাবাস ভোগ করতে হয়েছে, ১/১১-এর নেপথ্যের ব্যক্তিরাও দেশত্যাগে বাধ্য হয়েছে।’

 

খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবনের কথা স্মরণ করে নজরুল ইসলাম খান বলেন, ১৯৮২ সালের ৩ জানুয়ারি তিনি বিএনপির সদস্যপদ গ্রহণের মধ্য দিয়ে রাজনীতিতে পথচলা শুরু করেন। এরপর ধাপে ধাপে ভাইস চেয়ারম্যান, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এবং নির্বাচিত চেয়ারপারসনের দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর ৪৩ বছরের রাজনৈতিক জীবনের ৪১ বছরই তিনি বিএনপির নেতৃত্ব দিয়েছেন।

 

তিনি বলেন, নয় বছর স্বৈরাচার এরশাদের বিরুদ্ধে আপসহীন আন্দোলনের মাধ্যমে ১৯৯১ সালে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনে বিএনপিকে রাষ্ট্রক্ষমতায় আনেন খালেদা জিয়া। এ জন্যই জাতি তাঁকে ‘আপসহীন দেশনেত্রী’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।

 

নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘তিনি বলতেন বিদেশে আমাদের বন্ধু আছে, প্রভু নেই।’ দেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির লক্ষ্যে তিনি একের পর এক যুগান্তকারী কর্মসূচি গ্রহণ করেন। তাঁর শাসনামলেই বাংলাদেশ বিশ্বে ‘ইমার্জিং টাইগার’ হিসেবে পরিচিতি পায়।

 

তিনবারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁর জনপ্রিয়তার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, খালেদা জিয়া যতগুলো আসনে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন, প্রতিবারই বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন। জনপ্রিয়তার এমন দৃষ্টান্ত শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্ব রাজনীতিতেও বিরল।

 

তিনি আরও বলেন, গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার সংগ্রামে খালেদা জিয়ার ভূমিকার কারণেই দেশ-বিদেশের গণতন্ত্রকামী মানুষ তাঁকে ‘গণতন্ত্রের মাতা’ হিসেবে সম্মান জানায়। নারীশিক্ষা প্রসারে উপবৃত্তি, শিক্ষার জন্য খাদ্য কর্মসূচি, মুক্তিযোদ্ধা ও প্রবাসীদের জন্য পৃথক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা ছিল তাঁর উল্লেখযোগ্য অবদান।

 

মুক্তিযুদ্ধের সময় খালেদা জিয়ার ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন নজরুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের ২ জুলাই থেকে বিজয় অর্জন পর্যন্ত খালেদা জিয়া দুই শিশুপুত্রসহ পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে বন্দী ছিলেন। এই পরিবারের ত্যাগ মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে অনন্য দৃষ্টান্ত।

 

শেষে তিনি বলেন, দলমত নির্বিশেষে পুরো জাতির শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা নিয়ে খালেদা জিয়া বিদায় নিচ্ছেন। তিনি রেখে গেছেন একজন মহীয়সী নারী, সংগ্রামী রাজনীতিবিদ ও দেশপ্রেমিক রাষ্ট্রনায়কের অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত। তিনি বলেন, ‘দেশের বাইরে তাঁর কোনো ঠিকানা ছিল না, বাংলাদেশই ছিল তাঁর সবকিছু। এই দেশের মাটিতেই তিনি চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন। ইনশা আল্লাহ, তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমরা তাঁর দেখানো পথেই এগিয়ে যাব।’

 

এ সময় জানাজায় উপস্থিত প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, তিন বাহিনীর প্রধানসহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান নজরুল ইসলাম খান।


সম্পর্কিত

খালেদা জিয়াশেখ হাসিনানজরুল ইসলাম

জনপ্রিয়


রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

হঠাৎ অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি মির্জা আব্বাস

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস অসুস্থ হয়ে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

ছাত্রদলের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি নিয়ে জোর আলোচনা, সভাপতি–সম্পাদক পদে একাধিক নেতা আলোচনায়

ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নতুন কমিটি ঘোষণার প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে। যে কোনো সময় নতুন কমিটি ঘোষণা করা হতে পারে। রোববার (৮ মার্চ) বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম বকুল বলেন, দ্রুতই ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটিসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নতুন কমিটি প্রকাশ করা হবে। তাঁর এ বক্তব্যের পর থেকেই সম্ভাব্য নতুন নেতৃত্ব নিয়ে সংগঠনটির নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনা আরও জোরদার হয়েছে।

জবি ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্বের দৌড়ে শাহরিয়ার,পরাগ ও রুমি

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শাখা ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্বকে ঘিরে সংগঠনটির নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। সম্ভাব্য নেতৃত্বের তালিকায় উঠে এসেছে তিন নেতার নাম তারা হলেন- মো. শাহরিয়ার হোসেন, সাখাওয়াতুল ইসলাম খান পরাগ ও মোস্তাফিজুর রহমান (রুমি)।

বিদেশি চুক্তি নিয়ে আমাদের সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি: জামায়াত আমির

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বিভিন্ন দেশের সঙ্গে হওয়া আন্তর্জাতিক চুক্তি নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে কোনো আলোচনা করা হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন দলটির আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।