সারাদেশ


হালিশহরে বিস্ফোরণ: দগ্ধ তিন শিশু জানে না পরিবারের আর কেউ বেঁচে নেই


নিজস্ব প্রতিবেদক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত:০১ মার্চ ২০২৬, ০৬:৫২ পূর্বাহ্ন, রবিবার

হালিশহরে বিস্ফোরণ: দগ্ধ তিন শিশু জানে না পরিবারের আর কেউ বেঁচে নেই

বাবা শাখাওয়াত ও ভাই শাওনের সঙ্গে শিশু উম্মে আইমান (মাঝখানে) । ছবি: স্বজনদের সৌজন্যে


চট্টগ্রামের হালিশহরে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দগ্ধ তিন শিশু এখনো জানে না তাদের পরিবারের অন্য কেউ আর বেঁচে নেই। আগুনে পোড়া শরীর নিয়ে ঢাকায় হাসপাতালের শয্যায় কাতরাচ্ছে ১০ বছরের উম্মে আইমান। মাঝেমধ্যে সে মা–বাবাকে দেখতে চেয়ে আকুতি জানায়, অথচ তার মা–বাবা ও বড় ভাই ইতোমধ্যে মারা গেছেন।

 

উম্মে আইমান চিকিৎসাধীন রয়েছে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট–এ। একই হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে তার চাচাতো ভাই–বোন আয়েশা (৪) ও ফারহান আহমেদ (৬)। তাদের মা–বাবাও চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। শিশুদের এখনো জানানো হয়নি পরিবারের অন্য সদস্যদের মৃত্যুর খবর।

 

গত সোমবার ভোর সাড়ে চারটার দিকে হালিশহর এলাকার ‘হালিমা মঞ্জিল’ নামের ছয়তলা ভবনের তৃতীয় তলার একটি ফ্ল্যাটে বিস্ফোরণ ও আগুনের ঘটনা ঘটে। এতে ফ্ল্যাটে থাকা ৯ জন দগ্ধ হন। এর মধ্যে ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছে তিন শিশু।

 

ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক ধারণা, গ্যাস লাইনে লিকেজ থেকে নির্গত গ্যাস জমে বিস্ফোরণ ঘটে থাকতে পারে। তবে কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড গ্যাস লিকেজের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

 

দুর্ঘটনার সময় ফ্ল্যাটটিতে ছিলেন তিন ভাই শাখাওয়াত হোসেন (৪৯), সামির আহমেদ (৪০) ও শিপন হোসেন (৩০)। শাখাওয়াত ও সামিরের স্ত্রী ও সন্তানরাও সেখানে ছিলেন। বিস্ফোরণে সবাই দগ্ধ হন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিন ভাইসহ শাখাওয়াতের স্ত্রী নুরজাহান বেগম ও সামিরের স্ত্রী পাখি আক্তারের মৃত্যু হয়। বেঁচে রয়েছে কেবল তিন শিশু আইমান, আয়েশা ও ফারহান।

 

স্বজনদের তথ্য অনুযায়ী, প্রবাসী সামির সম্প্রতি চিকিৎসার জন্য দেশে ফিরে ভাইয়ের বাসায় উঠেছিলেন।

 

চিকিৎসকদের তথ্যমতে, আইমানের শরীরের ৩৮ শতাংশ, ফারহানের ৩০ শতাংশ এবং আয়েশার ৪৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। সর্বশেষ শনিবার সন্ধ্যায় শিপন হোসেনের মৃত্যু হয় বলে নিশ্চিত করেছেন ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক শাওন বিন রহমান।

 

শিশুদের খোঁজখবর রাখছেন শাখাওয়াতের ব্যবসায়িক অংশীদার মনসুর আলী। তিনি বলেন, তিন শিশুর অবস্থাই গুরুতর। তারা বারবার মা–বাবাকে খুঁজছে, কিন্তু পরিবারের অন্যদের মৃত্যুর বিষয়টি তাদের জানানো হয়নি।

 

এদিকে বিস্ফোরণের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো নিশ্চিত হয়নি। তদন্তে ফায়ার সার্ভিস, কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি ও জেলা প্রশাসন পৃথক তিনটি কমিটি গঠন করেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানা যাবে।


সম্পর্কিত

সারাদেশচট্টগ্রাম

জনপ্রিয়


সারাদেশ থেকে আরও পড়ুন

একসঙ্গে এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছেন মা-ছেলে

জীবনের নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে ৪০ বছর বয়সে এসএসসি পরীক্ষার হলে বসেছেন ফুলঝড়ি বেগম। আর তার পাশেই পরীক্ষার্থী হিসেবে রয়েছেন তার ছেলে মনিরুল ইসলাম। নাটোরের লালপুর উপজেলায় চলতি বছর মা-ছেলের একসঙ্গে এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার ঘটনা এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

সড়কে শুকাতে দেওয়া খড়ে পিছলে ট্রাকের ধাক্কায় মোটরসাইকেলচালক নিহত

গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলায় সড়কে রোদে শুকাতে দেওয়া খড়ে পিছলে ধানবোঝাই ট্রাকের ধাক্কায় এক মোটরসাইকেলচালকের মৃত্যু হয়েছে। দুর্ঘটনায় তার বুকের পাঁজরের হাড় ভেঙে যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সংবিধান সংস্কারে সরকারি দলের জ্ঞানের ঘাটতি আছে: শিশির মনির

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির বলেছেন, সংবিধান ও সাংবিধানিক সংস্কার বিষয়ে সরকারি দলের পর্যাপ্ত পড়াশোনা ও জ্ঞানের ঘাটতি রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর নিয়োগসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে সমালোচনা করেন।

ধর্ষণ মামলায় ফাঁসানো হয়েছিল মসজিদের ইমামকে, ডিএনএ পরীক্ষায় মিলল শিশুর প্রকৃত পিতৃপরিচয়

ফেনীর পরশুরামে কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া মসজিদের ইমাম মোজাফফর আহমদ অবশেষে ডিএনএ পরীক্ষায় নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছেন। একই সঙ্গে তদন্ত ও ফরেনসিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে ভূমিষ্ঠ হওয়া শিশুর প্রকৃত পিতৃপরিচয়। পুলিশ জানিয়েছে, পরিকল্পিতভাবে ওই ইমামকে মামলায় ফাঁসানো হয়েছিল।