ক্যাম্পাস
ভর্তি অনিয়ম প্রকাশের পর মাস্টার্স ভর্তি স্থগিত করল মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয়

ভর্তি প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ প্রকাশের পর এক শিক্ষার্থীর মাস্টার্স ভর্তি স্থগিত করার ঘটনায় নতুন করে আলোচনায় এসেছে বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী তৌফিকুল ইসলাম আশিকের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি জালিয়াতি ও প্রশাসনিক অনিয়ম নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করায় তাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভর্তি থেকে বিরত রাখা হচ্ছে। অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলছে, শৃঙ্খলাভঙ্গসহ একাধিক অভিযোগের কারণে তার ভর্তি প্রক্রিয়া স্থগিত করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পোর্ট অ্যান্ড শিপিং ম্যানেজমেন্ট বিভাগ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করা আশিক দীর্ঘদিন ধরে সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত। বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি সাংবাদিক সমিতির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন অনিয়ম, স্বচ্ছতার ঘাটতি ও ভর্তি প্রক্রিয়ার অসঙ্গতি নিয়ে কাজ করেছেন। বিশেষ করে গত ৫ আগস্টের পর ভর্তি জালিয়াতি নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর থেকেই তিনি প্রশাসনের নজরে আসেন বলে জানা গেছে।
সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দপ্তর থেকে পাঠানো এক চিঠিতে তার মাস্টার্স প্রোগ্রামে ভর্তি সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার বিষয়টি জানানো হয়। চিঠিতে বলা হয়, আশিকের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার এবং বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে পল্লবী থানা-তে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে দুটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। অভিযোগগুলোর তদন্ত এবং চলমান আইনি প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত তার ভর্তি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড মেরিন বায়োটেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ নাজির হোসেনের বিরুদ্ধে মানহানিকর তথ্য প্রকাশের অভিযোগ রয়েছে আশিকের বিরুদ্ধে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট শিক্ষককে বিভিন্ন মাধ্যমে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও তোলা হয়েছে। বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেটের বিবেচনায় রয়েছে।
তবে আশিক এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অনিয়ম ও দুর্নীতি নিয়ে প্রমাণসহ প্রতিবেদন প্রকাশ করায় তাকে লক্ষ্যবস্তু বানানো হয়েছে। তার ভাষায়, দীর্ঘ সময় ধরে বিষয়টি ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে যাতে তিনি মাস্টার্সে ভর্তি হতে না পারেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, ক্যাম্পাসে মতপ্রকাশের পরিবেশ সীমিত এবং সমালোচনামূলক বক্তব্যের কারণে আগেও শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নজির রয়েছে।
ঘটনাটি নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যেও প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, একজন শিক্ষার্থীকে তার সাংবাদিকতার কারণে একাডেমিক সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হলে তা শিক্ষাঙ্গনে স্বাধীন মতপ্রকাশের জন্য নেতিবাচক বার্তা বহন করবে। এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে ধৈর্য ধরতে হবে এবং একাডেমিক পরিবেশ বিঘ্নিত হয় এমন কার্যক্রম থেকে বিরত থাকতে হবে।
জনপ্রিয়
ক্যাম্পাস থেকে আরও পড়ুন
ঢাবি শিক্ষিকা শেহরীন মোনামির পদত্যাগ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন অধ্যাপক শেহরীন আমিন ভূঁইয়া (মোনামি)। সোমবার (১১ মে) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি নিজেই বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

বিয়ে করছেন ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম, পাত্রী কে?
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহ-সভাপতি (ভিপি) এবং বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক সম্পাদক সাদিক কায়েম বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন। আগামী ১৩ মে তার বিয়ের অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে বলে ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির পদত্যাগসহ ৯ দফা দাবি ছাত্রদলের
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হায়দার আলীর পদত্যাগসহ ৯ দফা দাবি জানিয়েছে শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। বুধবার (৬ মে) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি উপস্থাপন করেন সংগঠনটির নেতারা।

অভিযোগের মুখে খুবির বিজয়-২৪ হলের প্রভোস্টকে অব্যাহতি, তদন্ত কমিটি গঠন
অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচরিতার অভিযোগের প্রেক্ষিতে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের ‘বিজয়-২৪’ হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক সাঈদা রেহেনাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ খতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।









