ক্যাম্পাস
টানা ৬ দিন ‘কম্পিলিট শাটডাউন’ অচল বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়

পদোন্নতির দাবিতে টানা ছয়দিন ধরে ‘কম্পিলিট অ্যাকাডেমিক শাটডাউন’ কর্মসূচি পালন করছেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) শিক্ষকরা। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক কার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ থাকায় সেশনজটের আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা।
গত বুধবার (২২ এপ্রিল) থেকে শুরু হওয়া পূর্ণাঙ্গ কর্মবিরতির ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। এতে করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ও অনিশ্চয়তা বাড়ছে।
গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ রিপন মণ্ডল বলেন, শিক্ষকদের দাবি যৌক্তিক হলেও একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য ক্ষতিকর। তিনি দ্রুত সমাধানের আহ্বান জানান।
শিক্ষকদের অভিযোগ, উপাচার্য নানা অজুহাতে প্রায় ৬০ জন শিক্ষকের পদোন্নতি আটকে রেখেছেন। পদোন্নতির অপেক্ষায় থাকা শিক্ষকদের মধ্যে ২৪ জন সহযোগী অধ্যাপক, ৩০ জন সহকারী অধ্যাপক এবং ৬ জন প্রভাষক রয়েছেন। এর আগে ১০ এপ্রিল পাঁচ কার্যদিবসের আলটিমেটাম দেওয়া হলেও সমাধান না হওয়ায় গত ১৯ এপ্রিল থেকে এক শিক্ষক আমরণ অনশন শুরু করেন।
পরবর্তীতে অনশন কর্মসূচি প্রত্যাহার করে শিক্ষকরা ‘কম্পিলিট অ্যাকাডেমিক শাটডাউন’ ঘোষণা দেন। তবে শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে চলমান পরীক্ষাগুলো নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এ আন্দোলনের পেছনে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) একটি নির্দেশনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে জানা গেছে। ওই নির্দেশনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও বিধিমালা সংশোধন করে যথাযথ অনুমোদন নেওয়ার পরই পদোন্নতি দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
আইন বিভাগের শিক্ষার্থী মো. মাইনুল ইসলাম বলেন, হঠাৎ করে একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়ায় শিক্ষার্থীরা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন। এতে তাদের শিক্ষাজীবন অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।
অন্যদিকে শিক্ষকরা বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠদান, পরীক্ষা ও ডিগ্রি প্রদানের ক্ষেত্রেও সুস্পষ্ট অনুমোদিত বিধিমালা না থাকায় ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের ডিগ্রি নিয়েও জটিলতা তৈরি হতে পারে।
জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন সহযোগী অধ্যাপক ড. হাফিজ আশরাফুল হক বলেন, যৌক্তিক দাবিতে আন্দোলন চালানো হলেও এখনো কোনো সমাধান পাওয়া যায়নি। প্রয়োজনে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হতে পারে।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য ড. আবদুল আলিম বাছির বলেন, আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমস্যার সমাধান সম্ভব। প্রশাসন ও শিক্ষকদের মধ্যে সমন্বয় জরুরি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম জানান, সংকট নিরসনে কাজ চলছে এবং শিগগিরই শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানের চেষ্টা করা হবে।
সম্পর্কিত
জনপ্রিয়
ক্যাম্পাস থেকে আরও পড়ুন
ঢাবি শিক্ষিকা শেহরীন মোনামির পদত্যাগ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন অধ্যাপক শেহরীন আমিন ভূঁইয়া (মোনামি)। সোমবার (১১ মে) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি নিজেই বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

বিয়ে করছেন ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম, পাত্রী কে?
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহ-সভাপতি (ভিপি) এবং বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক সম্পাদক সাদিক কায়েম বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন। আগামী ১৩ মে তার বিয়ের অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে বলে ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির পদত্যাগসহ ৯ দফা দাবি ছাত্রদলের
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হায়দার আলীর পদত্যাগসহ ৯ দফা দাবি জানিয়েছে শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। বুধবার (৬ মে) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি উপস্থাপন করেন সংগঠনটির নেতারা।

অভিযোগের মুখে খুবির বিজয়-২৪ হলের প্রভোস্টকে অব্যাহতি, তদন্ত কমিটি গঠন
অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচরিতার অভিযোগের প্রেক্ষিতে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের ‘বিজয়-২৪’ হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক সাঈদা রেহেনাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ খতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।









