ক্যাম্পাস


লোডশেডিংয়ে জাবির হলে দ্বৈত চিত্র: কোথাও অন্ধকার, কোথাও আলো


ক্যাম্পাস প্রতিনিধি

ক্যাম্পাস প্রতিনিধি

প্রকাশিত:১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:০৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার

লোডশেডিংয়ে জাবির হলে দ্বৈত চিত্র: কোথাও অন্ধকার, কোথাও আলো

ছবি: সংগৃহীত


রাতের বেলা লোডশেডিং (বিদ্যুৎ বিভ্রাট) হলে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) আবাসিক হলগুলোতে দেখা যায় ভিন্নধর্মী দুই চিত্র। কোনো কোনো হল ডুবে যায় ঘুটঘুটে অন্ধকারে, আবার কোথাও ঝলমলে আলোয় স্বাভাবিক কার্যক্রম চলতে থাকে।

 

মূলত জেনারেটর সুবিধার তারতম্যের কারণেই এই বৈষম্য তৈরি হয়েছে। যেসব হলে জেনারেটরের ব্যবস্থা রয়েছে, সেখানে শিক্ষার্থীরা তুলনামূলক স্বস্তিতে থাকলেও, অন্য হলগুলোতে নেমে আসে চরম ভোগান্তি। বিদ্যুৎ না থাকায় পড়াশোনায় বিঘ্ন ঘটে, বন্ধ হয়ে যায় ইন্টারনেট সংযোগ, পাশাপাশি দেখা দেয় নিরাপত্তা শঙ্কাও।

 

একই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হয়েও সমান সুবিধা না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা।

 


বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট ২১টি আবাসিক হলের মধ্যে নবনির্মিত ছয়টি হলে জেনারেটরের ব্যবস্থা রয়েছে। বাকি ১৫টি হলে এখনো এ সুবিধা চালু হয়নি। জেনারেটর সুবিধা থাকা হলগুলো হলো- জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হল, শহিদ তাজউদ্দীন আহমেদ হল, নওয়াব সলিমুল্লাহ হল, বীর প্রতীক তারামন বিবি হল, রোকেয়া হল এবং ফজিলাতুন্নেছা হল।

 

আবাসিক হলের শিক্ষার্থীরা জানান, রাতের বেলা লোডশেডিং হলে যেসব হলে জেনারেটরের ব্যবস্থা নেই, অর্থাৎ পুরাতন হলগুলোতে অন্ধকারে চলাচল করা কঠিন হয়ে পড়ে এবং পড়াশোনাও ব্যাহত হয়। দিনের বেলায় বিদ্যুৎ না থাকলে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ হয়ে যায়, পাশাপাশি গ্রীষ্মের তীব্র গরমেও পাখা চালানো সম্ভব হয় না।

 

এছাড়া ঘুটঘুটে অন্ধকারে নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়। সব মিলিয়ে জেনারেটর সুবিধাবঞ্চিত হলগুলোর শিক্ষার্থীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

 

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রীতিলতা হলের শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান বলেন, পুরাতন হলের বাসিন্দা হিসেবে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হতে হয় তাদেরই। জেনারেটর ও পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা না থাকায় লোডশেডিং হলে পুরো হলজুড়ে নেমে আসে ঘুটঘুটে অন্ধকার। এমনকি ওয়াশরুমগুলোতেও থাকে না কোনো আলোর ব্যবস্থা।

 

তিনি আরও বলেন, গ্রীষ্মকালে এই পরিস্থিতি যেন পুরাতন হলের শিক্ষার্থীদের জন্য একপ্রকার অভিশাপে পরিণত হয়। এ সমস্যা থেকে উত্তরণের জন্য দ্রুত জেনারেটর স্থাপন, পুরোনো বৈদ্যুতিক লাইন সংস্কার এবং পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।

 

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের আবাসিক শিক্ষার্থী সায়েল শাহরিয়ার বলেন, নতুন নির্মিত হলগুলোতে জেনারেটর থাকায় দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকলেও সেখানে তেমন কোনো সমস্যা হয় না। তবে পুরাতন হলগুলোর চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। বিদ্যুৎ চলে গেলে অন্ধকারেই বসে থাকতে হয়, যা শিক্ষার্থীদের জন্য খুবই কষ্টকর।

 

তিনি আরও বলেন, বিষয়টি শুধু অন্ধকারে থাকার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়

 

এতে পড়াশোনা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয় এবং নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়। বিশেষ করে সামনে বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি। তার মতে, সব আবাসিক হলে জেনারেটরের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে শিক্ষার্থীরা এই ভোগান্তি থেকে মুক্তি পেতে পারে।


 এ বিষয়ে জাকসু সমাজসেবা সম্পাদক আহসান লাবিব বলেন, আমরা দেখছি পুরাতন হল গুলোতে জেনারেটর নেই।বিদ্যুৎ বিভ্রাট হলে হল গুলোতে অন্ধকার নেমে আসে।এটা শিক্ষার্থীদের ভোগান্তির অন্যতম  কারণ। গরমের সময় এই বিদ্যুৎ বিভ্রাট আরোও বাড়বে।এই বিষয় গুলো ভেবে আমরা জাকসু থেকে প্রশাসন কে জানিয়েছি ,তারা বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখবে বলে জানিয়েছে। 

 

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান জানান, পুরাতন হলগুলোতে বিদ্যুৎ চলে গেলে প্রতি ফ্লোরে হলেও একটি করে লাইটের বিশেষ করে সিঁড়ি ও বাথরুমে আলোর ব্যবস্থা থাকা অত্যন্ত জরুরি।ঘন্টার পর ঘন্টা বিদ্যুৎ না থাকলে এতগুলো শিক্ষার্থী কোথায় যাবে। পুরনো হলগুলোকে যদি সোলার সিস্টেমের আওতায় আনা যায়, তাহলে দিনের বেলার শক্তি সঞ্চয় করে রাখা সম্ভব হবে। বিদ্যুৎ চলে গেলে সেই সঞ্চিত শক্তি ব্যবহার করে করিডোর ও বাথরুমের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে জরুরি আলোর ব্যবস্থা করা যেতে পারে। এতে খুব বেশি অর্থের প্রয়োজন হবে না বলে মনে করি।


এটি একটি ভালো উদ্যোগ হতে পারে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব অর্থায়নে, ইউজিসি বা অন্য কোনো সংস্থার মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা যেতে পারে। বিষয়টি নিয়ে আমি আগামী প্রশাসনিক সভায় আলোচনা করব এবং উপাচার্য মহোদয়কেও অবগত করব। আমার মতে, সোলার সিস্টেম এই সমস্যার একটি সহজ ও কার্যকর সমাধান হতে পারে।

 

প্রতিবেদন: ইফফাত রাইসা নূহা ,জাবি 

 

 


সম্পর্কিত

ক্যাম্পাসলোডশেডিংয়জাবি

জনপ্রিয়


ক্যাম্পাস থেকে আরও পড়ুন

ঢাবি শিক্ষিকা শেহরীন মোনামির পদত্যাগ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন অধ্যাপক শেহরীন আমিন ভূঁইয়া (মোনামি)। সোমবার (১১ মে) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি নিজেই বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

বিয়ে করছেন ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম, পাত্রী কে?

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহ-সভাপতি (ভিপি) এবং বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক সম্পাদক সাদিক কায়েম বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন। আগামী ১৩ মে তার বিয়ের অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে বলে ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির পদত্যাগসহ ৯ দফা দাবি ছাত্রদলের

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হায়দার আলীর পদত্যাগসহ ৯ দফা দাবি জানিয়েছে শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। বুধবার (৬ মে) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি উপস্থাপন করেন সংগঠনটির নেতারা।

অভিযোগের মুখে খুবির বিজয়-২৪ হলের প্রভোস্টকে অব্যাহতি, তদন্ত কমিটি গঠন

অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচরিতার অভিযোগের প্রেক্ষিতে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের ‘বিজয়-২৪’ হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক সাঈদা রেহেনাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ খতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।