ক্যাম্পাস


মাভাবিপ্রবিতে প্রক্টরের পদত্যাগ দাবিতে ভিসি কার্যালয়ে তালা


ক্যাম্পাস প্রতিনিধি

ক্যাম্পাস প্রতিনিধি

প্রকাশিত:০৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:০১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার

মাভাবিপ্রবিতে প্রক্টরের পদত্যাগ দাবিতে ভিসি কার্যালয়ে তালা

ছবি: দূরবীন নিউজ


মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (মাভাবিপ্রবি) প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. ইমাম হোসেনের পদত্যাগের দাবিতে উপাচার্য (ভিসি) কার্যালয়ে তালা দিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। সোমবার (৬ এপ্রিল) দুপুরে প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ করেন তারা। এ ঘটনায় পুরো ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

 

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, প্রশাসন পরিকল্পিতভাবে বিতর্কিত কয়েকজন শিক্ষককে ‘সেইফ এক্সিট’ দিতে কাজ করছে। তাদের দাবি, আওয়ামীপন্থী হিসেবে পরিচিত কিছু শিক্ষককে পুনর্বাসনের চেষ্টা করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে সাবেক সহকারী প্রক্টর সহকারী অধ্যাপক শাকিল মাহমুদ শাওনসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং অভিযুক্তদের দেশের বাইরে পাঠানোর অভিযোগও তুলেছেন শিক্ষার্থীরা, যার সঙ্গে প্রক্টরের সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে তারা দাবি করেন।

 

এদিকে ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে চার দিনের ছুটিতে রয়েছেন প্রক্টর অধ্যাপক ড. ইমাম হোসেন। অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, নথি সংক্রান্ত বিষয়টি ভুল বোঝাবুঝির ফল। একটি কপি আনুষ্ঠানিকভাবে এবং অন্যটি অনানুষ্ঠানিকভাবে পাঠানো হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে তিনি ‘মিথ্যা ও ভিত্তিহীন’ বলে উল্লেখ করেন।

 

তবে শিক্ষার্থীরা প্রক্টরের এই ব্যাখ্যা প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাদের প্রশ্ন, আনুষ্ঠানিক নথি উপস্থাপন না হলেও অনানুষ্ঠানিক কপি কীভাবে রিজেন্ট বোর্ডে গৃহীত হলো।

 

ঘটনার সূত্রপাত গত বছরের বিভিন্ন ঘটনাপ্রবাহ থেকে। গত ২৪ সেপ্টেম্বর শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন রেজিস্ট্রার ড. মোহা. তৌহিদুল ইসলামকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয় এবং আইসিটি বিভাগের অধ্যাপক ড. সাজ্জাদ ওয়াহিদকে অস্থায়ী দায়িত্ব দেওয়া হয়। তবে প্রক্টরের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন জোরালো হয় চলতি বছরের ৮ মার্চ থেকে, যখন তার পদত্যাগের দাবি সামনে আসে।

 

পরদিন ৯ মার্চ জ্বালানি সংকটজনিত কারণে সরকারি নির্দেশে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হলে আন্দোলন সাময়িকভাবে স্থগিত হয়। ঈদের ছুটি শেষে বিশ্ববিদ্যালয় খুললে শিক্ষার্থীরা আবার আন্দোলন শুরু করেন, যা ক্রমেই তীব্র হয়ে ওঠে।

 

অভিযোগপত্র প্রক্রিয়াকরণ নিয়েও গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি, একই অভিযোগপত্রের দুটি কপি তৈরি করে একটি অবিকৃত এবং অন্যটি বিকৃত অবস্থায় রেজিস্ট্রারের কাছে পাঠানো হয়। বিকৃত কপিতে অভিযুক্ত শিক্ষকের তথ্য আড়াল করা হয়, যা স্ট্যাপলার দিয়ে ঢেকে ফটোকপি করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। এর ফলে রিজেন্ট বোর্ডের বৈঠকে অভিযুক্তদের বিষয়ে আলোচনা হয়নি বলে দাবি করেন তারা।

 

বর্তমানে পরিস্থিতি উত্তপ্ত থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো সমাধান বা ঘোষণা আসেনি।


সম্পর্কিত

ভিসিমাভাবিপ্রবিপদত্যাগ

জনপ্রিয়


ক্যাম্পাস থেকে আরও পড়ুন

ঢাবি শিক্ষিকা শেহরীন মোনামির পদত্যাগ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন অধ্যাপক শেহরীন আমিন ভূঁইয়া (মোনামি)। সোমবার (১১ মে) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি নিজেই বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

বিয়ে করছেন ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম, পাত্রী কে?

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহ-সভাপতি (ভিপি) এবং বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক সম্পাদক সাদিক কায়েম বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন। আগামী ১৩ মে তার বিয়ের অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে বলে ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির পদত্যাগসহ ৯ দফা দাবি ছাত্রদলের

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হায়দার আলীর পদত্যাগসহ ৯ দফা দাবি জানিয়েছে শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। বুধবার (৬ মে) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি উপস্থাপন করেন সংগঠনটির নেতারা।

অভিযোগের মুখে খুবির বিজয়-২৪ হলের প্রভোস্টকে অব্যাহতি, তদন্ত কমিটি গঠন

অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচরিতার অভিযোগের প্রেক্ষিতে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের ‘বিজয়-২৪’ হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক সাঈদা রেহেনাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ খতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।