বাংলাদেশ
‘আমি আবার স্কুলে যেতে চাই’- জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে ১২ বছরের অভিজিত

যে বয়সে কাঁধে স্কুলব্যাগ নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে হাসতে হাসতে স্কুলে যাওয়ার কথা, সেই বয়সেই ১২ বছর বয়সী অভিজিত চৌধুরী লড়ছে এক জটিল ও বিরল রোগের সঙ্গে। খেলার মাঠে ছুটে বেড়ানোর বদলে এখন সে শুয়ে আছে ভারতের একটি হাসপাতালের বিছানায়, বেঁচে থাকার আকুতি নিয়ে।
জামালগঞ্জ সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী অভিজিত বর্তমানে ভারতের চেন্নাইয়ের খ্রিস্টান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। চিকিৎসকদের মতে, সে ‘সার্ভিকো থোরাসিক স্কোলিওসিস’ নামক জটিল রোগে আক্রান্ত, যার ফলে তার মেরুদণ্ডের ঘাড় ও বুকের মাঝামাঝি অংশ মারাত্মকভাবে বাঁকা হয়ে গেছে। এতে তার স্বাভাবিক চলাফেরা, শারীরিক বৃদ্ধি এবং দৈনন্দিন জীবনযাপন প্রায় অচল হয়ে পড়েছে।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, দ্রুত অস্ত্রোপচার না করলে অভিজিত স্থায়ীভাবে পঙ্গু হয়ে যেতে পারে। বর্তমানে তার অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন হাঁটা, বসা এমনকি স্বাভাবিকভাবে কথা বলাও তার জন্য কষ্টকর হয়ে উঠেছে। জরুরি অস্ত্রোপচারের জন্য আগামী কয়েক দিনের মধ্যে সাত ব্যাগ বি-পজিটিভ রক্তেরও প্রয়োজন।
হাসপাতালের বেডে শুয়েও অভিজিতের একটাই কথা “আমি বাঁচতে চাই, আবার স্কুলে যেতে চাই, বন্ধুদের সঙ্গে খেলতে চাই, বড় হয়ে ডাক্তার হতে চাই।”
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, প্রায় এক বছর আগে তার ঘাড় ও মেরুদণ্ডে ব্যথা শুরু হয়। শুরুতে সাধারণ ব্যথা মনে করে চিকিৎসা করা হলেও পরে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ধরা পড়ে গুরুতর রোগটি। দেশে উন্নত চিকিৎসা সম্ভব না হওয়ায় তাকে চেন্নাইয়ে পাঠানো হয়।
অভিজিত শুধু একজন রোগী নয়, সে একজন স্বপ্নবাজ শিশু। নাটক, গান, কবিতা এবং খেলাধুলায় ছিল তার দারুণ আগ্রহ। উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে অভিনয়ের জন্য পুরস্কারও পেয়েছে সে। তার স্বপ্ন ছিল বড় হয়ে ডাক্তার হয়ে মানুষের সেবা করা।
তবে তার পরিবার এখন চরম সংকটে। বাবা সুজিত কুমার চৌধুরী দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগে ভুগছেন এবং কর্মক্ষম নন। সংসারের একমাত্র উপার্জনকারী মা সম্পা রানী তালুকদার একটি স্বল্প আয়ের চাকরি করে কোনোভাবে সংসার চালাচ্ছেন।
ইতোমধ্যে চিকিৎসার পেছনে প্রায় ৪ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। তবে অস্ত্রোপচারসহ পরবর্তী চিকিৎসার জন্য আরও প্রায় ২০ লাখ টাকা প্রয়োজন, যা এই পরিবারের পক্ষে জোগাড় করা সম্ভব নয়। সহায়-সম্বল বিক্রি করেও তারা প্রয়োজনীয় অর্থ সংগ্রহ করতে পারেননি।
অভিজিতের মা বলেন, “আমার ছেলেটা বাঁচতে চায়। আমরা সবকিছু বিক্রি করে দিয়েছি। এখন সমাজের মানুষের সাহায্য ছাড়া ওর চিকিৎসা সম্ভব নয়।”
বাবার কণ্ঠেও একই আর্তি “আমার ছেলেকে বাঁচিয়ে দিন।”
সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার ডুমরা গ্রামের এই পরিবারটি এখন সমাজের সহৃদয় মানুষের সহযোগিতার অপেক্ষায়। সামান্য সহায়তাই পারে একটি শিশুর জীবন বাঁচাতে এবং তাকে আবার ফিরিয়ে দিতে স্বাভাবিক জীবনে, স্কুলের বেঞ্চে।
সহায়তার ঠিকানা
বিকাশ/নগদ (মামা সঞ্জয়): ০১৭০৩-৭৬৪২২৮
বিকাশ/নগদ/রকেট (মাসি বিউটি): ০১৭৩৯-৬৬৯৬০০
ব্যাংক হিসাব: পুবালী ব্যাংক লিমিটেড, জামালগঞ্জ, সুনামগঞ্জ
হিসাবের নাম: সম্পা রানী তালুকদার
হিসাব নম্বর: ১৮৪৯১০১১৩৬৭৭০
সম্পর্কিত
জনপ্রিয়
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
সীমান্ত হত্যার শেষ কোথায়, আবারও বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত
লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার আমঝোল সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের গুলিতে খাদেমুল ইসলাম নামে এক বাংলাদেশি যুবক নিহত হয়েছেন।

ঈদুল আজহা উপলক্ষে সুন্দরায় ৭০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড়
পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে বিশেষ ক্যাম্পেইন শুরু করেছে বিউটি ও লাইফস্টাইল রিটেইল চেইন সুন্দরা। ঈদ পর্যন্ত চলা এ আয়োজনে কসমেটিকস, পারফিউম, লাইফস্টাইল পণ্য ও খেলনায় থাকছে সর্বোচ্চ ৭০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড়।

ঘরেরবাজারের উদ্যোক্তাদের নতুন লাইফস্টাইল ও ফ্যাশন ব্র্যান্ড ‘তাবায়া’ চালু
দেশের জনপ্রিয় ই-কমার্স ও নিরাপদ খাদ্যভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ঘরেরবাজারের উদ্যোক্তারা নতুন লাইফস্টাইল ও ফ্যাশন ব্র্যান্ড ‘তাবায়া’ চালু করেছেন।

কুষ্টিয়ায় স্কুলে যাওয়ার পথে নিখোঁজ নবম শ্রেণির ছাত্র সাব্বির
কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলায় স্কুলে যাওয়ার পথে মোঃ সাব্বির হোসেন (১৪) নামে নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী নিখোঁজ হয়েছে। মঙ্গলবার (১২ মে) সকাল থেকে তার কোনো সন্ধান না পাওয়ায় পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।








