রাজনীতি


সংসদ প্রাঙ্গণে খোলা আকাশের নিচে শপথ, বাংলাদেশে রাজনীতির নতুন অধ্যায়


নিজস্ব প্রতিবেদক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত:১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:২১ অপরাহ্ন, সোমবার

আপডেট:১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:২১ অপরাহ্ন, সোমবার

সংসদ প্রাঙ্গণে খোলা আকাশের নিচে শপথ, বাংলাদেশে রাজনীতির নতুন অধ্যায়

ছবি: সংগৃহীত


বাংলাদেশের সংসদীয় ইতিহাসে যুক্ত হতে যাচ্ছে এক নতুন মাইলফলক। প্রথা ভেঙে এবার জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে শপথ নিতে যাচ্ছেন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও মন্ত্রিসভার সদস্যরা। জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশের রাজনীতিতে একে ‘নতুন যুগের সূচনা’ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

 

সাধারণত সংসদ সদস্যরা শপথ নেন সংসদ ভবনের ভেতরে আর মন্ত্রীরা বঙ্গভবনের দরবার হলে। কিন্তু এবার সেই দীর্ঘদিনের রেওয়াজ বদলে যাচ্ছে। তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের এই শপথ অনুষ্ঠান আয়োজিত হচ্ছে সংসদ ভবনের সামনের সবুজ চত্বরে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এটি কেবল একটি অনুষ্ঠান নয়, বরং রাজনীতির সাথে জনগণের সরাসরি সেতুবন্ধন তৈরির একটি প্রয়াস।

 

খোলা আকাশের নিচে শপথ নেওয়ার এই ইতিহাস বাংলাদেশে এবারই প্রথম নয়। এর আগে ১৯৭১ সালে মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রিসভা এবং ১৯৭৩ সালে প্রথম জাতীয় সংসদের সদস্যরা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এভাবেই শপথ নিয়েছিলেন। দীর্ঘ সময় পর আবার সেই ঐতিহ্যের পুনরাবৃত্তি হতে যাচ্ছে।

 

জুলাই অভ্যুত্থানের পর থেকে সংসদ ভবন এলাকাটি হয়ে উঠেছে উৎসব এবং প্রতিবাদের প্রাণকেন্দ্র। মানিক মিয়া এভিনিউ থেকে শুরু করে সংসদের সামনের সড়ক—সবই এখন সাধারণ মানুষের পদচারণায় মুখর। বিশ্লেষকদের মতে, বঙ্গভবনের সুরক্ষিত দেয়ালের বাইরে এসে জনপরিসরে এই শপথ গ্রহণ প্রমাণ করে যে, সরকার এখন জনগণের কাছে আগের চেয়ে অনেক বেশি দায়বদ্ধ।

 

বিগত দিনগুলোতে শহীদদের জানাজা থেকে শুরু করে বিভিন্ন নাগরিক শোক সভা আয়োজিত হয়েছে এই সংসদ প্রাঙ্গণেই। এবার সেই একই স্থানে গণতন্ত্রের জয়গান গেয়ে শপথ নেবেন প্রতিনিধিরা। বাংলাদেশের রাজনীতিতে এই পরিবর্তন কি দীর্ঘস্থায়ী হবে? সময় তা বলে দেবে। তবে আপাতত, খোলা আকাশের নিচে এই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানকে স্বাগত জানাচ্ছে আপামর জনতা।


সম্পর্কিত

জাতীয় সংসদেনিবার্চনরাজনীতি

জনপ্রিয়


রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

হঠাৎ অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি মির্জা আব্বাস

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস অসুস্থ হয়ে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

ছাত্রদলের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি নিয়ে জোর আলোচনা, সভাপতি–সম্পাদক পদে একাধিক নেতা আলোচনায়

ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নতুন কমিটি ঘোষণার প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে। যে কোনো সময় নতুন কমিটি ঘোষণা করা হতে পারে। রোববার (৮ মার্চ) বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম বকুল বলেন, দ্রুতই ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটিসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নতুন কমিটি প্রকাশ করা হবে। তাঁর এ বক্তব্যের পর থেকেই সম্ভাব্য নতুন নেতৃত্ব নিয়ে সংগঠনটির নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনা আরও জোরদার হয়েছে।

জবি ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্বের দৌড়ে শাহরিয়ার,পরাগ ও রুমি

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শাখা ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্বকে ঘিরে সংগঠনটির নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। সম্ভাব্য নেতৃত্বের তালিকায় উঠে এসেছে তিন নেতার নাম তারা হলেন- মো. শাহরিয়ার হোসেন, সাখাওয়াতুল ইসলাম খান পরাগ ও মোস্তাফিজুর রহমান (রুমি)।

বিদেশি চুক্তি নিয়ে আমাদের সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি: জামায়াত আমির

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বিভিন্ন দেশের সঙ্গে হওয়া আন্তর্জাতিক চুক্তি নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে কোনো আলোচনা করা হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন দলটির আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।