রাজনীতি


উপদেষ্টাদের সম্পদের বিবরণী প্রকাশ: প্রধান উপদেষ্টার মোট সম্পদ ১৫ কোটি ৬২ লাখ টাকা


নিজস্ব প্রতিবেদক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত:১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০১:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার

উপদেষ্টাদের সম্পদের বিবরণী প্রকাশ: প্রধান উপদেষ্টার মোট সম্পদ ১৫ কোটি ৬২ লাখ টাকা

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদের বিবরণী প্রকাশ করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। মঙ্গলবার প্রকাশিত বিবরণী অনুযায়ী, গত ৩০ জুন পর্যন্ত অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস–এর মোট পরিসম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৫ কোটি ৬২ লাখ ৪৪ হাজার ৬৫ টাকা। এক বছর আগে তাঁর মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১৪ কোটি ১ লাখ ৩৯ হাজার ৬৭৩ টাকা। সে হিসাবে এক বছরে তাঁর সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৬১ লাখ ৪ হাজার ৩৯২ টাকা।

 

প্রধান উপদেষ্টার দাখিল করা বিবরণীতে বলা হয়েছে, সঞ্চয়পত্র নগদায়ন, সঞ্চয়ী ও মেয়াদি আমানতে বৃদ্ধি এবং উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত শেয়ারের কারণে তাঁর সম্পদের পরিমাণ বেড়েছে।

 

বিবরণী অনুযায়ী, অধ্যাপক ইউনূসের আর্থিক সম্পদের পরিমাণ ১৪ কোটি ৭৬ লাখ ৬৪ হাজার ৪০১ টাকা, যা আগের অর্থবছরে ছিল ১৩ কোটি ১৮ লাখ ৭১ হাজার ৪৩৩ টাকা। তাঁর নন-ফাইনান্সিয়াল সম্পদের পরিমাণ ২১ লাখ ৬ হাজার ২৫০ টাকা এবং দেশের বাইরে তাঁর সম্পদ রয়েছে ৬৪ লাখ ৭৩ হাজার ৪১৪ টাকা।

 

আয়কর আইন অনুযায়ী, কোনো করদাতার মালিকানাধীন স্থাবর ও অস্থাবর, আর্থিক ও মূলধনী সম্পত্তির সমষ্টিকেই পরিসম্পদ হিসেবে গণ্য করা হয়। এ প্রসঙ্গে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড–এর কর্মকর্তারা জানান, আর্থিক সম্পদের মধ্যে নগদ অর্থ, ব্যাংক আমানত, সঞ্চয়পত্র, শেয়ার ও লভ্যাংশ অন্তর্ভুক্ত থাকে। অন্যদিকে জমি, বাড়ি, ফ্ল্যাট ও প্লটসহ স্থাবর সম্পদকে নন-ফাইনান্সিয়াল সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

 

প্রধান উপদেষ্টার স্ত্রী আফরোজী ইউনূসের সম্পদের বিবরণীতে দেখা যায়, তাঁর মোট পরিসম্পদের পরিমাণ ১ কোটি ২৭ লাখ ৬৩ হাজার ৩৬০ টাকা, যা আগের অর্থবছরে ছিল ২ কোটি ১১ লাখ ৭৭ হাজার ২৭৪ টাকা। সে হিসাবে এক বছরে তাঁর সম্পদ কমেছে ৮৪ লাখ ১৩ হাজার ৯১৪ টাকা। তাঁর আর্থিক সম্পদের পরিমাণ ৪ লাখ ৫১ হাজার ৮৬০ টাকা এবং নন-ফাইনান্সিয়াল সম্পদ ১ কোটি ২৩ লাখ ১১ হাজার ৫০০ টাকা। তাঁর কোনো বিদেশি সম্পদ নেই। তবে তাঁর নামে ১৬ লাখ ৯৬ হাজার টাকার দায় রয়েছে।

 

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ২৫ আগস্ট জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে অধ্যাপক ইউনূস বলেছিলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সব উপদেষ্টা দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাঁদের আয় ও সম্পদের বিবরণী প্রকাশ করবেন। সেই ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর ‘অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের আয় ও সম্পদ বিবরণী প্রকাশের নীতিমালা, ২০২৪’ জারি করা হয়।

 

নীতিমালায় বলা হয়েছে, প্রতিবছর আয়কর রিটার্ন দাখিলের সর্বশেষ তারিখের পরবর্তী ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে উপদেষ্টাদের আয় ও সম্পদের বিবরণী মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টার কাছে জমা দিতে হবে এবং তা উপযুক্ত পদ্ধতিতে প্রকাশ করা হবে।

 

দীর্ঘদিন বিবরণী প্রকাশ না হওয়ায় সমালোচনার মুখে পড়েছিল সরকার। এ বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম সম্প্রতি জানিয়েছিলেন, খুব শিগগিরই উপদেষ্টাদের সম্পদের বিবরণী প্রকাশ করা হবে।

 

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানের পর ৮ আগস্ট অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। বর্তমানে প্রধান উপদেষ্টাসহ উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যসংখ্যা ২১ জন। আজ তাঁদের সবার আয় ও সম্পদের বিবরণী প্রকাশ করা হলো।


সম্পর্কিত

প্রধান উপদেষ্টাউপদেষ্টা

জনপ্রিয়


রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

হঠাৎ অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি মির্জা আব্বাস

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস অসুস্থ হয়ে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

ছাত্রদলের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি নিয়ে জোর আলোচনা, সভাপতি–সম্পাদক পদে একাধিক নেতা আলোচনায়

ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নতুন কমিটি ঘোষণার প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে। যে কোনো সময় নতুন কমিটি ঘোষণা করা হতে পারে। রোববার (৮ মার্চ) বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম বকুল বলেন, দ্রুতই ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটিসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নতুন কমিটি প্রকাশ করা হবে। তাঁর এ বক্তব্যের পর থেকেই সম্ভাব্য নতুন নেতৃত্ব নিয়ে সংগঠনটির নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনা আরও জোরদার হয়েছে।

জবি ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্বের দৌড়ে শাহরিয়ার,পরাগ ও রুমি

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শাখা ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্বকে ঘিরে সংগঠনটির নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। সম্ভাব্য নেতৃত্বের তালিকায় উঠে এসেছে তিন নেতার নাম তারা হলেন- মো. শাহরিয়ার হোসেন, সাখাওয়াতুল ইসলাম খান পরাগ ও মোস্তাফিজুর রহমান (রুমি)।

বিদেশি চুক্তি নিয়ে আমাদের সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি: জামায়াত আমির

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বিভিন্ন দেশের সঙ্গে হওয়া আন্তর্জাতিক চুক্তি নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে কোনো আলোচনা করা হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন দলটির আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।