রাজনীতি


বিত্ত-বৈভবহীন এক প্রধানমন্ত্রী: খালেদা জিয়ার জীবনে ছিল না রাজকীয়তা, ছিল কেবল সরলতা


খেলা ডেস্ক

খেলা ডেস্ক

প্রকাশিত:০১ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:০৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার

বিত্ত-বৈভবহীন এক প্রধানমন্ত্রী: খালেদা জিয়ার জীবনে ছিল না রাজকীয়তা, ছিল কেবল সরলতা

তিনবারের প্রধানমন্ত্রী হয়েও বিত্ত-বৈভব, দামি গাড়ি কিংবা ভরি ভরি স্বর্ণ এসবের কিছুই ছিল না বিএনপির সদ্য প্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জীবনে। সাধারণ রাজনীতিবিদদের অনেকেই যেখানে কোটি কোটি টাকা মূল্যের গাড়ি ও সম্পদের মালিক, সেখানে খালেদা জিয়ার ব্যবহৃত মাত্র দুটি গাড়ির মোট মূল্য ছিল ৩৫ লাখ টাকা। ব্যক্তিগত মালিকানায় ছিল না কোনো বিলাসবহুল গাড়ি বহর, বাগানবাড়ি কিংবা বিশাল জমিজমা।

 

নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া সর্বশেষ হলফনামার তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ভরি ভরি সোনা বা দামী গহনার কোনো তালিকাও নেই খালেদা জিয়ার। উপহার হিসেবে পাওয়া মাত্র ৫০ তোলা স্বর্ণই ছিল তাঁর কাছে। তিনবারের প্রধানমন্ত্রী হয়েও তিনি রাজউক থেকে কোনো প্লট নেননি, গড়ে তোলেননি কোনো বাগানবাড়ি—যেখানে অনেকেই একবার সংসদ সদস্য হলেই এসব সুবিধা গ্রহণ করেন।

 

সাধারণ গৃহিণী থেকে ‘আপসহীন নেত্রী’ হয়ে ওঠা খালেদা জিয়া জীবনের শেষ পর্যন্ত ছিলেন ব্যক্তিগতভাবে সংযমী। তাঁর স্থাবর সম্পদের তালিকায় রয়েছে মাত্র ৩ হাজার ৩০০ টাকা মূল্যের ৮ শতাংশ জমি এবং ৯ হাজার টাকা মূল্যের ০.০১৭৬৮ অযুতাংশ অকৃষি জমি। ক্ষমতা ও প্রভাবকে ব্যক্তিগত সম্পদে রূপান্তরের কোনো নজির তাঁর জীবনে দেখা যায়নি।

 

মৃত্যুর ঠিক আগের দিন, ২৯ ডিসেম্বর, হাসপাতালের বিছানা থেকেই আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফেনী, বগুড়া ও দিনাজপুরের তিনটি আসন থেকে মনোনয়নপত্র জমা দেন খালেদা জিয়া। এর মধ্য দিয়েই তিনি নিজের সম্পদের পূর্ণ বিবরণ জাতির সামনে তুলে ধরেন। কিন্তু পরদিন ভোরেই গণতন্ত্র রক্ষায় আপসহীন এই নেত্রী চিরবিদায় নেন, রেখে যান শূন্যতা আর গভীর শোক।

 

বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) জানাজা ও দাফন শেষে নির্বাচন কমিশন সব প্রার্থীর হলফনামা প্রকাশ করে। সেখানে খালেদা জিয়ার জমা দেওয়া হলফনামা বিশ্লেষণে দেখা যায়, তাঁর স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের মোট পরিমাণ ছিল প্রায় ২২ কোটি ৯০ লাখ ৮০ হাজার টাকা। এই অঙ্কের মধ্যে ব্যক্তিগত ব্যবহৃত গাড়ি, বাসার আসবাবপত্র ও ইলেকট্রনিক পণ্যের মূল্যও অন্তর্ভুক্ত। অথচ বাস্তবতায় দেশের অনেক স্থানীয় পর্যায়ের নেতার সম্পদের পরিমাণও এর চেয়ে বহুগুণ বেশি।

 

Related posts here

 

খালেদা জিয়ার বার্ষিক আয় ছিল প্রায় ১ কোটি ১৭ লাখ টাকা, যা মূলত স্থাবর সম্পত্তি ভাড়া এবং ব্যাংক আমানত, সঞ্চয়পত্র ও বিনিয়োগ থেকে আসত। মাসিক গড় আয় দাঁড়ায় প্রায় ১৪ লাখ ৬৮ হাজার টাকা। এর বাইরে তাঁর কোনো ব্যবসা বা অতিরিক্ত আয়ের উৎস ছিল না। হলফনামা অনুযায়ী, স্থাবর সম্পত্তি ভাড়া থেকে বছরে আয় হতো ৯০ লাখ টাকা এবং ব্যাংক আমানত ও সঞ্চয়পত্র থেকে ৮৬ লাখ ১৬ হাজার ৫৮০ টাকা।

 

সর্বশেষ আয়কর বর্ষে তাঁর হাতে নগদ অর্থ ছিল মাত্র ৭ লাখ ৪১ হাজার ৭৫ টাকা। ব্যাংকে জমা ছিল ১৩ কোটি ৯৩ লাখ ৭৫ হাজার ৩৫৬ টাকা। এ ছাড়া বিভিন্ন ব্যাংকে এফডিআর ও সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল ৭ কোটি ৮৫ লাখ ১৪ হাজার ২২৯ টাকা, যেখান থেকে মাসে গড়ে ৭ লাখ টাকার কিছু বেশি আয় হতো। হলফনামায় তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন তাঁর কাছে কোনো বিদেশি মুদ্রা নেই।

 

ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য তাঁর কাছে ছিল মাত্র দুটি গাড়ি একটি নিশান জিপ (মূল্য ২২ লাখ ২৫ হাজার টাকা) এবং একটি টয়োটা জিপ (মূল্য ১৩ লাখ ২০ হাজার টাকা)। বাসায় ব্যবহৃত ইলেকট্রনিক পণ্যের মূল্য ছিল প্রায় ৫ লাখ টাকা এবং আসবাবপত্রের মূল্য ২ লাখ ৬০ হাজার টাকা।

 

হলফনামার স্থাবর সম্পত্তির তালিকায় রয়েছে ক্যান্টনমেন্টের সেই বাড়িটির কথাও, যেখান থেকে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তাঁকে উচ্ছেদ করা হয়েছিল। গুলশান এভিনিউয়ের বাড়িটির এক-তৃতীয়াংশের মালিকানা তাঁর, যার অর্জনমূল্য দেখানো হয়েছে মাত্র ১০০ টাকা। আর ক্যান্টনমেন্টের বাড়িটির অর্জনমূল্য দেখানো হয়েছে প্রতীকীভাবে ৫ টাকা। যদিও এসব সম্পদের বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৫০ কোটি টাকা বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

সব মিলিয়ে, ক্ষমতার শীর্ষে থেকেও ব্যক্তিগত জীবনে কোনো রাজকীয়তা বা বিলাসিতার ছাপ রাখেননি বেগম খালেদা জিয়া। তাঁর জীবন ও সম্পদের এই হিসাব অনেক প্রশ্নের মাঝেই একটি বাস্তবতা স্পষ্ট করে ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও কীভাবে একজন রাজনীতিক সাধারণ জীবনযাপন করতে পারেন, খালেদা জিয়া তার বিরল উদাহরণ হয়ে থাকবেন।


সম্পর্কিত

প্রধানমন্ত্রীখালেদা জিয়াবিএনপি

জনপ্রিয়


রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

মাঝনদী থেকে ফেরি ফিরিয়ে এমপি হান্নান মাসউদকে তোলা, ভোগান্তিতে যাত্রীরা

নোয়াখালীর হাতিয়ায় মাঝনদী থেকে যাত্রীবাহী ফেরি ঘুরিয়ে এনে সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদকে তোলার ঘটনায় যাত্রীদের দুর্ভোগের অভিযোগ উঠেছে। চেয়ারম্যান ঘাট থেকে নলচিরা ঘাটের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া ফেরি মহানন্দা প্রায় ২৩ মিনিট চলার পর আবার চেয়ারম্যান ঘাটে ফিরে আসে।

ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদ ও ছয় বিশ্ববিদ্যালয়ে আসছে নতুন নেতৃত্ব

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় কমিটির পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি), জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি), জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি), শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (শেকৃবি), রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নতুন কমিটি ঘোষণা হতে পারে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। সম্ভাব্য নতুন নেতৃত্বকে ঘিরে সংগঠনের ভেতরে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা।

১১ দলীয় জোটকে হারানোর ষড়যন্ত্রে অন্তর্বর্তী সরকারও ছিল: জামায়াত আমির

বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান দাবি করেছেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যে ষড়যন্ত্র হয়েছে, তাতে অন্তর্বর্তী সরকারও জড়িত ছিল। তিনি বলেন, সরকার নিজেই স্বীকার করেছে যে ষড়যন্ত্র করে ১১ দলীয় জোটকে হারানো হয়েছে।

যুবদলের জরুরি সভায় সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের তর্কাতর্কি, বৈঠক পণ্ড

সদ্য ঘোষিত যুবদলের নির্বাহী কমিটিতে নিষ্ক্রিয় ও বিতর্কিত ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর তা নিয়ে আলোচনা করতে ডাকা জরুরি সভায় সংগঠনটির সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়নের মধ্যে তর্কাতর্কির ঘটনা ঘটেছে। একপর্যায়ে বৈঠকের পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় সভা স্থগিত করা হয়।