জাতীয়


বিদ্যুৎ ঘাটতি নেই, সাময়িক বিভ্রাট হতে পারে: সংসদে বিদ্যুৎমন্ত্রী


নিজস্ব প্রতিবেদক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত:০৭ জুন ২০২৬, ০৪:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার

বিদ্যুৎ ঘাটতি নেই, সাময়িক বিভ্রাট হতে পারে: সংসদে বিদ্যুৎমন্ত্রী

দেশে বর্তমানে বিদ্যুতের কোনো ঘাটতি নেই এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন ঘাটতির কারণে লোডশেডিং করার প্রয়োজন হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। তবে ঝড়-বৃষ্টি, গাছ পড়ে বিদ্যুৎ লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া কিংবা সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থার ত্রুটির কারণে সাময়িক বিদ্যুৎ-বিভ্রাট ঘটতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।

 

রোববার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে বিভিন্ন সংসদ সদস্যের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

 

কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালামের প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎমন্ত্রী জানান, গ্রীষ্ম ও সেচ মৌসুমে দেশে দৈনিক বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা প্রায় ১৮ হাজার মেগাওয়াট। বর্তমানে চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুতের কোনো ঘাটতি নেই। তবে প্রাথমিক জ্বালানির সীমাবদ্ধতা, সঞ্চালন ও বিতরণ অবকাঠামোর সীমাবদ্ধতা, রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম এবং প্রাকৃতিক কারণে মাঝে মধ্যে বিদ্যুৎ-বিভ্রাট দেখা দিতে পারে।

 

প্রশ্নোত্তর পর্বে যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ গোলাম রসুল গ্রামাঞ্চলে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকার অভিযোগ উত্থাপন করলে মন্ত্রী বলেন, বিদ্যুতের ঘাটতির কারণে যে পরিস্থিতি তৈরি হয় সেটিই লোডশেডিং। বর্তমানে দেশে বিদ্যুতের ঘাটতি নেই। ফলে সাময়িক বিদ্যুৎ-বিভ্রাটকে লোডশেডিং হিসেবে অভিহিত করা ঠিক হবে না।

 

সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনির প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, দেশে বর্তমানে গ্রিডভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ২৮ হাজার ৯১৯ মেগাওয়াট। পাশাপাশি সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে। বর্তমানে ৭ হাজার ৯২৮ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন ৩২টি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণাধীন রয়েছে। এছাড়া ৬৬৫ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন ১৫টি নবায়নযোগ্য জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দরপত্র প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে, যা পর্যায়ক্রমে চালু হবে।

 

তিনি বলেন, দেশের শতভাগ জনগোষ্ঠীকে বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় আনা হয়েছে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে নিরবচ্ছিন্ন ও মানসম্মত বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে।

 

জামায়াতের সংসদ সদস্য গোলাম রসুলের আরেক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়লেও সরকার পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় জ্বালানি সরবরাহ ও উৎপাদন ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করছে। গ্যাস, কয়লা ও তরল জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে সর্বোচ্চ উৎপাদনের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

 

বিএনপির সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকনের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, দেশে বর্তমানে ১ হাজার ১৭২ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন ২৬টি নবায়নযোগ্য জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে। এছাড়া নতুন প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে জাতীয় গ্রিডে নবায়নযোগ্য জ্বালানির অবদান আরও বাড়বে।

 

ঢাকা-১ আসনের সংসদ সদস্য খোন্দকার আবু আশফাকের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ১৬ হাজার ৫০০ থেকে ১৭ হাজার ৫০০ মেগাওয়াটের মধ্যে রয়েছে। চাহিদা অনুযায়ী ১৫ হাজার ৫০০ থেকে ১৭ হাজার ২০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে।

 

দীর্ঘমেয়াদি দাবদাহের সম্ভাবনা নিয়ে শেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য রাশেদুল ইসলাম রাশেদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার প্রস্তুত রয়েছে। তবে চাহিদা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেলে কিছু এলাকায় সীমিত পরিসরে বিদ্যুৎ সরবরাহে সমন্বয়ের প্রয়োজন হতে পারে।

 

খুলনা-২ আসনের সংসদ সদস্য জাহাঙ্গীর হোসেন হেলালের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে। রূপসার দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্র গ্যাসের অভাবে বন্ধ থাকলেও ভোলা থেকে গ্যাস সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে। তা বাস্তবায়িত হলে খুলনা অঞ্চলের বিদ্যুৎ পরিস্থিতি আরও উন্নত হবে।

 

এছাড়া চরাঞ্চল ও দুর্গম এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ সম্প্রসারণ, সোলারভিত্তিক বিদ্যুতায়ন এবং ট্রান্সফরমার চুরি প্রতিরোধে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও সংসদে তুলে ধরেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী।


জনপ্রিয়


জাতীয় থেকে আরও পড়ুন

জান্নাতের টিকিট বিলিয়ে ধর্ষণ কীভাবে, সংসদে প্রশ্ন শামীম কায়সারের

জাতীয় সংসদে একটি রাজনৈতিক দলকে ইঙ্গিত করে গাইবান্ধা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সার ধর্ম, রাজনীতি ও সামাজিক দায়বদ্ধতা নিয়ে বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি বলেন, ধর্মের নামে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালিয়ে কেউ জান্নাতের একক প্রতিনিধিত্ব দাবি করতে পারে না। একই সঙ্গে নারী অধিকার ও ব্যক্তি স্বাধীনতার বিষয়ে সমাজকে আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেট অনুমোদন দিল মন্ত্রিসভা

২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেট অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ ভবনের মন্ত্রিসভা কক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাজেট প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়।

জুলাই শহীদ পরিবার ও আহতদের আবাসনে ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব, ভাতাভোগী বাড়ছে ১,৮৫৭ জন

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার ও কর্মক্ষমতা হারানো যোদ্ধাদের পরিবারের আবাসনের জন্য ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে শহীদ পরিবার ও আহতদের জন্য চলমান মাসিক ভাতা কার্যক্রম অব্যাহত রাখার পাশাপাশি ভাতাভোগীর সংখ্যা ১ হাজার ৮৫৭ জন বাড়িয়ে ১৬ হাজার ৫১৩ জন করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

৫ আগস্ট জুলাই যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারকে সংবর্ধনা দেবে সরকার

আগামী ৫ আগস্ট দেশব্যাপী ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬’ পালন করবে সরকার। দিবসটি উপলক্ষে ঢাকা ও জেলা পর্যায়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ পরিবার এবং আহত ‘জুলাই যোদ্ধা’দের সংবর্ধনা দেওয়া হবে। পাশাপাশি সরকারি ভবনে আলোকসজ্জা, শিক্ষার্থীদের জন্য বিনা মূল্যে চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন প্রতিযোগিতা এবং ধর্মীয় উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হবে।