আইন আদালত


কাঠগড়ায় নীরবে কাঁদলেন সাংবাদিক আনিস আলমগীর


খেলা ডেস্ক

খেলা ডেস্ক

প্রকাশিত:২৮ জানুয়ারি ২০২৬, ০৭:৪৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার

কাঠগড়ায় নীরবে কাঁদলেন সাংবাদিক আনিস আলমগীর

ছবি: দূরবিন নিউজ


দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর পর আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে নীরবে কেঁদে ফেলেন আলোচিত সাংবাদিক আনিস আলমগীর। বুধবার ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. সাব্বির ফয়েজের আদালতে এই দৃশ্য দেখা যায়। এ সময় পাশে থাকা আইনজীবীরা তাকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করেন।

 

আদালত দুদকের আবেদনের শুনানি শেষে আনিস আলমগীরকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন এবং পরে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করে তার আইনজীবী নাজনীন নাহার জানান, আদেশ ঘোষণার পর আনিস আলমগীর মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। তখন তাকে সান্ত্বনা দিয়ে নাজনীন নাহার বলেন, “আপনাকে শক্ত থাকতে হবে। এগুলো মিথ্যা মামলা। আপনি দুর্বল হলে পরিবারও ভেঙে পড়বে।”

 

আদালতের কার্যক্রম শেষে আনিস আলমগীরকে কাঠগড়া থেকে ঢাকা মহানগর হাজতখানায় নিয়ে যাওয়া হয়। শুনানির সময় তার আইনজীবী আদালতকে জানান, মামলায় যে ঠিকানা উল্লেখ করা হয়েছে, সেটি আনিস আলমগীরের পুরোনো ঠিকানা। বর্তমানে তিনি সেখানে বসবাস করেন না। এ কারণে ঠিকানা সংশোধনের জন্য আদালতে আবেদন করা হয়েছে।

 

এদিন সকাল বেলা ১১টার দিকে লাল জ্যাকেট পরিহিত অবস্থায় আনিস আলমগীরকে মহানগর হাজতখানা থেকে আদালতে হাজির করা হয়। তিনি প্রায় দেড় ঘণ্টা কাঠগড়ায় অবস্থান করেন। মাঝে মাঝে আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলতেও দেখা যায় তাকে। তবে এদিন তার পক্ষে কোনো জামিন শুনানি করা হয়নি। শুনানির সময় আইনজীবী নাজনীন নাহার ও তাসলিমা জাহান পপি উপস্থিত ছিলেন।

 

এর আগে গত ২৫ জানুয়ারি সন্ত্রাসবিরোধী আইনে কারাগারে থাকা আনিস আলমগীরের বিরুদ্ধে দুদকের করা নতুন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও দুদকের সহকারী পরিচালক আখতারুজ্জামান। ওই আবেদনের শুনানির জন্য বুধবার দিন ধার্য করেন আদালত। বর্তমানে তিনি উত্তরা পশ্চিম থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় কারাগারে রয়েছেন।

 

দুদক সূত্র জানায়, গত ১৫ জানুয়ারি জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে আনিস আলমগীরের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, তার নামে ২৫ লাখ টাকা মূল্যের স্থাবর সম্পদ এবং ৩ কোটি ৮৪ লাখ ৬৮ হাজার ৭৮৯ টাকা মূল্যের অস্থাবর সম্পদসহ মোট ৪ কোটি ৯ লাখ ৬৮ হাজার ৭৮৯ টাকার সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। পারিবারিক ও অন্যান্য ব্যয় হিসেবে ধরা হয়েছে ১৫ লাখ ৯০ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে মোট অর্জিত সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ৪ কোটি ২৫ লাখ ৫৮ হাজার ৭৮৯ টাকা।

 

অন্যদিকে তার বৈধ আয়ের উৎস হিসেবে পাওয়া গেছে মোট ৯৯ লাখ ৯ হাজার ৮৫১ টাকা। এর মধ্যে অতীত সঞ্চয়, টক শো ও কনসালটেন্সি আয়, প্লট বিক্রি এবং সঞ্চয়পত্র ও ব্যাংক সুদ অন্তর্ভুক্ত। এই হিসাবে বৈধ আয়ের তুলনায় ৩ কোটি ২৬ লাখ ৪৮ হাজার ৯৩৮ টাকার সম্পদ বেশি পাওয়া গেছে, যা মোট অর্জিত সম্পদের প্রায় ৭৭ শতাংশ। দুদক এসব সম্পদকে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত হিসেবে উল্লেখ করেছে।

 

উল্লেখ্য, এর আগে গত ১৪ ডিসেম্বর জুলাই রেভুলেশনারী এলায়েন্সের সংগঠক আরিয়ান আহমেদ বাদী হয়ে উত্তরা পশ্চিম থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা করেন। ওই মামলায় আনিস আলমগীরের পাশাপাশি অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওনকেও আসামি করা হয়। এই মামলায় ১৫ ডিসেম্বর আদালত আনিস আলমগীরের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ড শেষে ২০ ডিসেম্বর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর থেকেই তিনি কারাবন্দি রয়েছেন।


সম্পর্কিত

সাংবাদিকআনিস আলমগীরদুদক

জনপ্রিয়


আইন আদালত থেকে আরও পড়ুন

মাইলস্টোন ট্র্যাজেডি: ড. ইউনূসসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন

রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান দুর্ঘটনায় অবহেলার অভিযোগ এনে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে ঢাকার আদালতে মামলার আবেদন করা হয়েছে।

শেরপুরে ধর্ষণ ও মানবপাচার মামলার দুই আসামি গ্রেফতার

শেরপুরে পৃথক দুটি মামলায় ধর্ষণ ও মানবপাচারের অভিযোগে দুই আসামিকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব-১৪। সোমবার (২০ এপ্রিল ২০২৬) চট্টগ্রাম ও নারায়ণগঞ্জে পৃথক অভিযানে তাদের আটক করা হয়।

সিআইডি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ ও পক্ষপাতমূলক তদন্তের অভিযোগ

ঢাকার পল্লবী থানায় দায়েরকৃত একটি সিআর মামলার তদন্তকে ঘিরে বাংলাদেশ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে সম্প্রতি মহাপরিদর্শক (আইজিপি), বাংলাদেশ পুলিশ বরাবর একটি বিস্তারিত লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে।

মানবাধিকার আইন দুর্বল করার অভিযোগ: বিচারপতি মইনুলসহ ৫ সাবেক কমিশনারের খোলা চিঠি

মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ সংসদে পাস না হওয়া এবং তা বাতিলের প্রেক্ষাপটে সংসদে উপস্থাপিত তথ্যের জবাব, সরকারের প্রকৃত আপত্তি চিহ্নিতকরণ এবং ভবিষ্যৎ আইনের মান নিশ্চিত করতে প্রস্তাবনা তুলে ধরে খোলা চিঠি দিয়েছেন সদ্য বিদায়ী পাঁচজন মানবাধিকার কমিশনার।