সারাদেশ


বাগেরহাটে কারাবন্দী ছাত্রলীগ নেতার স্ত্রী ও শিশুসন্তান জানাজা শেষে পাশাপাশি দাফন


জেলা প্রতিনিধি

জেলা প্রতিনিধি

প্রকাশিত:২৫ জানুয়ারি ২০২৬, ০৫:৫৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার

বাগেরহাটে কারাবন্দী ছাত্রলীগ নেতার স্ত্রী ও শিশুসন্তান জানাজা শেষে পাশাপাশি দাফন

জানাজার নামাজ শেষে পারিবারিক কবরস্থানে পাশাপাশি দাফন করা হয় মা-ছেলেকে। ছবি: সংগৃহীত


জানাজার নামাজ শেষে বাগেরহাটে পারিবারিক কবরস্থানে পাশাপাশি দাফন করা হয়েছে গৃহবধূ কানিজ সুবর্ণা ওরফে স্বর্ণালী (২২) এবং তাঁর ৯ মাস বয়সী শিশুসন্তান সেজাদ হাসান নাজিফকে। গতকাল শনিবার রাত ১২টার দিকে বাগেরহাট সদর উপজেলার সাবেকডাঙ্গা গ্রামে কানিজের বাবার বাড়ির কবরস্থানে মা–ছেলেকে একসঙ্গে শায়িত করা হয়। এর আগে রাত ১১টা ২০ মিনিটে স্থানীয় ঈদগাহ মাঠে তাঁদের জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।

 

গত শুক্রবার দুপুরে সদর উপজেলার সাবেকডাঙ্গা গ্রামে কানিজের স্বামীর বাড়ি থেকে তাঁর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। একই ঘরে পাওয়া যায় ৯ মাস বয়সী শিশুপুত্র সেজাদ হাসান নাজিফের নিথর দেহ। ঘটনাটি এলাকায় গভীর শোকের ছায়া ফেলে।

 

কানিজ সুবর্ণা নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের বাগেরহাট সদর উপজেলা সভাপতি জুয়েল হাসান ওরফে সাদ্দামের স্ত্রী। জুয়েল বর্তমানে যশোর জেলা কারাগারে বন্দী রয়েছেন।

 

বাগেরহাট জেলা হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে শনিবার দুপুরে মা ও ছেলের মরদেহ সাবেকডাঙ্গা গ্রামে সুবর্ণার বাবার বাড়িতে আনা হয়। সেখানে গোসল শেষে বিকেল সোয়া চারটার দিকে লাশবাহী গাড়িতে করে তাঁদের মরদেহ যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে নেওয়া হয়। কারাফটকে স্ত্রী ও শিশুসন্তানের লাশ শেষবারের মতো দেখেন জুয়েল।

 

কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, মানবিক বিবেচনায় মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্সের সঙ্গে জুয়েলের পরিবারের ছয় সদস্যকে কারাফটক এলাকায় প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়।

 

পারিবারিক সূত্র জানায়, কয়েক বছর আগে কানিজ ও জুয়েলের বিয়ে হয়। সন্তানের জন্মের আগেই জুয়েল কারাগারে যান। ফলে বাবার কোলে ওঠার সুযোগ আর হয়নি শিশুটির।

 

কানিজ সুবর্ণার ভাই মো. শুভ বলেন, স্বামী কারাবন্দী থাকায় তাঁর বোন দীর্ঘদিন ধরেই হতাশায় ভুগছিলেন এবং মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। তবে ঘটনার পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখার দাবি জানান তিনি। শুভ বলেন, ছেলেটাকে আমার দুলাভাই একবারও কোলে নিতে পারেনি। শেষবারের জন্য যেন একটু দেখতে পারে, সেই আশায়ই লাশ নিয়ে কারাফটকে গিয়েছিলাম।

 

স্ত্রী ও সন্তানের জানাজায় অংশ নিতে জুয়েলকে প্যারোলে মুক্তি না দেওয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনাও শুরু হয়েছে। এ বিষয়ে বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন প্রথম আলোকে বলেন, প্যারোলের আবেদনটি যশোর জেলা প্রশাসক বা যশোর জেলা কারাগারের জেল সুপারের কাছে করতে হবে—এ কথা পরিবারকে বুঝিয়ে বলা হয়েছে। তিনি জানান, বাগেরহাটের প্রশাসন যশোর কারা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিত করেছে, যাতে জুয়েল সুন্দর ও সঠিকভাবে তাঁর মৃত স্বজনদের শেষবারের মতো দেখতে পারেন।

 

পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে আত্মগোপনে ছিলেন জুয়েল। গত বছরের ৫ এপ্রিল গোপালগঞ্জ থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর থেকে একাধিক মামলায় তিনি কারাগারে আছেন।


সম্পর্কিত

বাগেরহাটছাত্রলীগ নেতাছাত্রলীগ

জনপ্রিয়


সারাদেশ থেকে আরও পড়ুন

একসঙ্গে এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছেন মা-ছেলে

জীবনের নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে ৪০ বছর বয়সে এসএসসি পরীক্ষার হলে বসেছেন ফুলঝড়ি বেগম। আর তার পাশেই পরীক্ষার্থী হিসেবে রয়েছেন তার ছেলে মনিরুল ইসলাম। নাটোরের লালপুর উপজেলায় চলতি বছর মা-ছেলের একসঙ্গে এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার ঘটনা এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

সড়কে শুকাতে দেওয়া খড়ে পিছলে ট্রাকের ধাক্কায় মোটরসাইকেলচালক নিহত

গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলায় সড়কে রোদে শুকাতে দেওয়া খড়ে পিছলে ধানবোঝাই ট্রাকের ধাক্কায় এক মোটরসাইকেলচালকের মৃত্যু হয়েছে। দুর্ঘটনায় তার বুকের পাঁজরের হাড় ভেঙে যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সংবিধান সংস্কারে সরকারি দলের জ্ঞানের ঘাটতি আছে: শিশির মনির

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির বলেছেন, সংবিধান ও সাংবিধানিক সংস্কার বিষয়ে সরকারি দলের পর্যাপ্ত পড়াশোনা ও জ্ঞানের ঘাটতি রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর নিয়োগসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে সমালোচনা করেন।

ধর্ষণ মামলায় ফাঁসানো হয়েছিল মসজিদের ইমামকে, ডিএনএ পরীক্ষায় মিলল শিশুর প্রকৃত পিতৃপরিচয়

ফেনীর পরশুরামে কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া মসজিদের ইমাম মোজাফফর আহমদ অবশেষে ডিএনএ পরীক্ষায় নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছেন। একই সঙ্গে তদন্ত ও ফরেনসিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে ভূমিষ্ঠ হওয়া শিশুর প্রকৃত পিতৃপরিচয়। পুলিশ জানিয়েছে, পরিকল্পিতভাবে ওই ইমামকে মামলায় ফাঁসানো হয়েছিল।