সারাদেশ


ইউএপিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে দুই শিক্ষক বহিষ্কার


খেলা ডেস্ক

খেলা ডেস্ক

প্রকাশিত:১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:২০ পূর্বাহ্ন, সোমবার

ইউএপিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে দুই শিক্ষক বহিষ্কার

হিজাব–নিকাব নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য ও শিক্ষার্থীদের হেনস্থার অভিযোগে চলমান আন্দোলনের মুখে ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক (ইউএপি) দুই শিক্ষককে বহিষ্কার করেছে। রোববার (১৮ জানুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের সই করা এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

 

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ব্যাসিক সায়েন্সেস অ্যান্ড হিউম্যানিটিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক লায়েকা বশীর এবং একই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. এ. এস. এম. মহসিনকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের পর সৃষ্ট পরিস্থিতি এবং সংশ্লিষ্ট সব তথ্য ও প্রাসঙ্গিক বিষয় সতর্কতার সঙ্গে পর্যালোচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত ১৮ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে বলে জানানো হয়।

 

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সহকারী অধ্যাপক লায়েকা বশীরের বিরুদ্ধে হিজাব ও নিকাব পরিধান নিয়ে কটূক্তি, মুসলিম নারী শিক্ষার্থীদের প্রকাশ্যে অপমান, বৈষম্যমূলক আচরণ এবং মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে। পাশাপাশি নামাজে বাধা দেওয়া, নিকাব খুলতে চাপ সৃষ্টি এবং পরীক্ষায় বৈষম্যমূলক নম্বর দেওয়ার অভিযোগও করেন শিক্ষার্থীরা। এসব অভিযোগের প্রতিবাদে বেশ কয়েক দিন ধরে আন্দোলন চালিয়ে আসছিলেন তারা।

 

অন্যদিকে, আওয়ামী রাজনৈতিক পক্ষপাতমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে সহযোগী অধ্যাপক ড. এ. এস. এম. মহসিনকেও বহিষ্কার করা হয়েছে বলে জানায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

 

এ বিষয়ে পাবলিক ইউনিভার্সিটি স্টুডেন্টস অ্যালায়েন্স অব বাংলাদেশ নামের একটি ফেসবুক পেজে জানানো হয়, আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের জানিয়েছে—ইসলামবিদ্বেষী আচরণ ও হিজাব নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে লায়েকা বশীর এবং রাজনৈতিক পক্ষপাতের অভিযোগে সায়েম মহসিনকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তবে শিক্ষার্থীরা বলেছেন, শুধু ব্যক্তিগত শাস্তি নয়, তারা একটি টেকসই ও বৈষম্যহীন শিক্ষাব্যবস্থা চান।

 

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি ইউএপি কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ইসলামবিদ্বেষের অভিযোগ তুলে আন্দোলনে নামেন বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীরা। মুসলিম শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বৈষম্যমূলক আচরণের অভিযোগ এনে তারা তিন দফা দাবি জানিয়ে আসছিলেন।

 

শিক্ষার্থীদের অভিযোগের মধ্যে ছিল শায়খ আহমাদুল্লাহর সঙ্গে ছবি তোলার ঘটনায় এক শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া, হিজাব ও নিকাব পরিধানের কারণে শিক্ষার্থীদের হেনস্তা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদ্যমান ইসলামবিদ্বেষের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ।

 

১৮ জানুয়ারি বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত ঘোষণার আগে এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা জানান, হিজাব ও নিকাব পরিধানের কারণে মুসলিম নারী শিক্ষার্থীদের ক্লাসে প্রকাশ্যে অপমান করা হয়েছে এবং ইসলামের বিধান নিয়ে কটূক্তি করা হয়েছে। এসব ঘটনার কিছু ভিডিও প্রমাণ তাদের কাছে রয়েছে বলেও দাবি করেন তারা।

 

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্তের পর ক্যাম্পাসে আপাতত উত্তেজনা প্রশমিত হয়েছে। তবে শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে বৈষম্যহীন ও সম্মানজনক শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তারা তাদের দাবি থেকে সরে আসবেন না।

 
 

সম্পর্কিত

ইউএপিআন্দোলনশিক্ষক বহিষ্কার

জনপ্রিয়


সারাদেশ থেকে আরও পড়ুন

একসঙ্গে এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছেন মা-ছেলে

জীবনের নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে ৪০ বছর বয়সে এসএসসি পরীক্ষার হলে বসেছেন ফুলঝড়ি বেগম। আর তার পাশেই পরীক্ষার্থী হিসেবে রয়েছেন তার ছেলে মনিরুল ইসলাম। নাটোরের লালপুর উপজেলায় চলতি বছর মা-ছেলের একসঙ্গে এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার ঘটনা এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

সড়কে শুকাতে দেওয়া খড়ে পিছলে ট্রাকের ধাক্কায় মোটরসাইকেলচালক নিহত

গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলায় সড়কে রোদে শুকাতে দেওয়া খড়ে পিছলে ধানবোঝাই ট্রাকের ধাক্কায় এক মোটরসাইকেলচালকের মৃত্যু হয়েছে। দুর্ঘটনায় তার বুকের পাঁজরের হাড় ভেঙে যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সংবিধান সংস্কারে সরকারি দলের জ্ঞানের ঘাটতি আছে: শিশির মনির

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির বলেছেন, সংবিধান ও সাংবিধানিক সংস্কার বিষয়ে সরকারি দলের পর্যাপ্ত পড়াশোনা ও জ্ঞানের ঘাটতি রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর নিয়োগসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে সমালোচনা করেন।

ধর্ষণ মামলায় ফাঁসানো হয়েছিল মসজিদের ইমামকে, ডিএনএ পরীক্ষায় মিলল শিশুর প্রকৃত পিতৃপরিচয়

ফেনীর পরশুরামে কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া মসজিদের ইমাম মোজাফফর আহমদ অবশেষে ডিএনএ পরীক্ষায় নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছেন। একই সঙ্গে তদন্ত ও ফরেনসিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে ভূমিষ্ঠ হওয়া শিশুর প্রকৃত পিতৃপরিচয়। পুলিশ জানিয়েছে, পরিকল্পিতভাবে ওই ইমামকে মামলায় ফাঁসানো হয়েছিল।