ক্যাম্পাস


পর্দাশীল নারীদের 'ভূতের' সঙ্গে তুলনা, বেরোবিতে ছাত্রদল নেতার


খেলা ডেস্ক

খেলা ডেস্ক

প্রকাশিত:২৮ জানুয়ারি ২০২৬, ০৭:৫৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার

পর্দাশীল নারীদের 'ভূতের' সঙ্গে তুলনা, বেরোবিতে ছাত্রদল নেতার

ছবি: দূরবিন নিউজ


বোরখা, হিজাব ও নিকাব পরিহিত নারীদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ ও অবমাননাকর মন্তব্যের প্রতিবাদে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুরে (বেরোবি) মানববন্ধন করেছেন শিক্ষার্থীরা। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে বেরোবি শিক্ষার্থী পরিষদের ব্যানারে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

 

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা পর্দাশীল নারীদের ‘ভূতের’ সঙ্গে তুলনা করার ঘটনাকে সরাসরি নারীবিদ্বেষী ও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতকারী মন্তব্য হিসেবে আখ্যা দেন। তারা বলেন, এ ধরনের ভাষা শুধু নারীদের মর্যাদাকেই ক্ষুণ্ন করে না, বরং একটি সভ্য সমাজের মূল্যবোধকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে।

 

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী মিন নুরিকা। তিনি বলেন, “নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়ার নামে প্রতিষ্ঠিত একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে দাঁড়িয়ে আজ আমাদের মা-বোনদের সম্মান রক্ষার দাবিতে রাস্তায় নামতে হচ্ছে এটা ভীষণ লজ্জার।” তিনি অভিযোগ করেন, বেরোবি শাখা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি তুহিন রানা পর্দাশীল নারীদের নিয়ে নোংরা ও নারীবিদ্বেষী মন্তব্য করে তাদের ‘ভূতের’ সঙ্গে তুলনা করেছেন, যা স্পষ্টভাবে নারী অবমাননার শামিল।

 

তিনি আরও বলেন, “সারাদেশে জামায়াতের নারী সংগঠনের কর্মীদের ওপর হামলা, কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য এবং বস্ত্র খুলে নেওয়ার হুমকির ঘটনাগুলো উদ্বেগজনক। আমরা আইন মানি বলেই আজ এখানে দাঁড়িয়েছি। এসব ঘটনার বিরুদ্ধে সাইবার নিরাপত্তা আইন ও নারী অবমাননা আইনে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে।”

 

মানববন্ধনে বেরোবি শিক্ষার্থী ও ছাত্রশিবির নেতা রাকিব মুরাদ বলেন, “বোরকা ও নিকাবকে অপমান করা মানে এই দেশের অসংখ্য ধর্মপ্রাণ মানুষের অনুভূতিকে আঘাত করা। আমরা বেরোবি ছাত্রদল নেতার কাছে প্রকাশ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা দাবি করছি। তা না হলে আইনি পথে যেতে বাধ্য হবো।”

 

আরেক শিক্ষার্থী শিবলী সাদিক বলেন, “পর্দা মুসলমান নারীর জন্য ফরজ বিধান। অথচ ছাত্রদলের এক নেতা হিজাব ও নিকাবকে ভূতের সঙ্গে তুলনা করেছেন এটা শুধু অশালীন নয়, চরম ঔদ্ধত্য।” তিনি অভিযোগ করেন, ঘটনার পর এত সময় পার হলেও অভিযুক্ত নেতা ক্ষমা তো চানইনি, বরং নিজের বক্তব্যকে正্যতা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। “আমাদের ধৈর্যকে দুর্বলতা ভাবার সুযোগ নেই। দ্রুত প্রকাশ্যে ক্ষমা না চাইলে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে,” বলেন তিনি।

 

মানববন্ধনে বক্তারা আরও বলেন, সারাদেশে বিএনপি নেতাকর্মীদের দ্বারা জামায়াতের নারী সংগঠনের কর্মীদের ওপর হামলা, উস্কানি ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের ঘটনাগুলো গভীর উদ্বেগজনক। এসব বিষয়ে রাষ্ট্রীয়ভাবে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জোর দাবি জানান তারা।

 

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি এম সুমন সরকারের ফেসবুক ওয়ালে শেয়ার করা “নির্বাচনি প্রচারে হামলা, মহাসমাবেশের ঘোষণা মহিলা জামায়াতের” শীর্ষক একটি সংবাদের মন্তব্য ঘরে বেরোবি শাখা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি তুহিন রানা লেখেন, “ওই সমস্ত মহিলাদের দেখলে ভয়ও লাগে, কেমন জানি ভূতের মতো। নারীদের দিয়ে প্রচারণা করার প্রবণতা এত কেন?” এই মন্তব্য ঘিরেই ক্যাম্পাসজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

 


সম্পর্কিত

ছাত্রদলনারীবেরোবি

জনপ্রিয়


ক্যাম্পাস থেকে আরও পড়ুন

সাংবাদিকদের ওপর হামলায় ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলকে অভিযুক্ত করে জকসুর পাল্টাপাল্টি বিবৃতি

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) থেকে পাল্টাপাল্টি বিবৃতি দেওয়া হয়েছে। এক বিবৃতিতে জকসুর সাধারণ সম্পাদক ও শিক্ষা-গবেষণা সম্পাদককে জড়িয়ে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।

মাভাবিপ্রবি সাংবাদিক সমিতির ইফতার মাহফিল: সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের বার্তা

টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (মাভাবিপ্রবি) সাংবাদিক সমিতির উদ্যোগে পবিত্র রমজান উপলক্ষে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (৬ মার্চ) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়ায় এ আয়োজন করা হয়।

ক্যাম্পাসে নিরাপত্তার দাবিতে জাবিতে নারী শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়–এর একদল নারী শিক্ষার্থী। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে তারা নিরাপদ শিক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

একুশে ফেব্রুয়ারি: শহীদদের রক্ত থেকে মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার শিক্ষা

১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি বাঙালি জাতির জন্য শুধুই একটি তারিখ নয়, এটি ছিল মাতৃভাষার জন্য জীবন উৎসর্গের দিন। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মাতৃভাষার মর্যাদা, ভাষার সঠিক ব্যবহার ও শহিদ মিনারের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের গুরুত্ব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।