ক্যাম্পাস


গবেষণা জালিয়াতির অভিযোগে অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতাকে জবি দর্শন বিভাগে শিক্ষক নিয়োগ


দুরবীন ডেস্ক

দুরবীন ডেস্ক

প্রকাশিত:২৭ ডিসেম্বর ২০২৫, ০২:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার

গবেষণা জালিয়াতির অভিযোগে অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতাকে জবি দর্শন বিভাগে শিক্ষক নিয়োগ

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) দর্শন বিভাগে নতুন শিক্ষক নিয়োগকে ঘিরে ক্যাম্পাসজুড়ে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, গবেষণা জালিয়াতি ও রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার অভিযোগ থাকা একজন ছাত্রলীগ নেতাসহ বিতর্কিত কয়েকজনকে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

 

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, দর্শন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হাফিজুল ইসলামের মেয়াদ শেষ হয় চলতি ১৫ ডিসেম্বর। মেয়াদ শেষ হওয়ার ঠিক আগে, ২৯ নভেম্বর তিনি নতুন শিক্ষক নিয়োগ বোর্ড আহ্বান করেন। এই সময় নির্বাচন বোর্ড গঠন ও সুপারিশকে কেন্দ্র করে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক প্রশ্ন ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।

 

একাধিক শিক্ষক অভিযোগ করেন, মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রাক্কালে বোর্ড আহ্বান করে চেয়ারম্যান নিজের ‘পছন্দের প্রার্থী’ নিয়োগের পথ সুগম করেছেন। তাঁদের দাবি, বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থীদের বাদ দিয়ে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনজন বিতর্কিত ব্যক্তিকে শিক্ষক নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।

 

ক্যাম্পাস সূত্রে আরও অভিযোগ উঠেছে, জকসু নির্বাচনকে আড়াল হিসেবে ব্যবহার করে পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়া গোপনে এগিয়ে নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. তাজাম্মুল হকের সঙ্গে চেয়ারম্যান অধ্যাপক হাফিজুল ইসলামের ঘনিষ্ঠতার কথাও আলোচনায় এসেছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত সম্পর্কের কারণে একাধিক অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও প্রশাসন এ বিষয়ে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

 

অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হাফিজুল ইসলামের বিরুদ্ধে পূর্বেও নারী শিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ, গবেষণায় অনিয়ম, দলীয় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকার অভিযোগ উঠেছিল। তবে এসব অভিযোগের তদন্ত বা প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত সম্পর্কে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। এ নিয়েও শিক্ষক সমাজে অসন্তোষ রয়েছে।

 

এছাড়া, ‘জুলাই গণহত্যা’–সংক্রান্ত রায়ের বিরুদ্ধে তথাকথিত ‘এক হাজার একজন শিক্ষক’-এর বিবৃতিতে তাঁর নাম থাকার কথাও কয়েকজন শিক্ষক দাবি করেছেন। তাঁদের মতে, এতসব বিতর্কের পরও প্রশাসনের নীরবতা প্রশ্নবিদ্ধ।

 

সূত্র জানায়, অধ্যাপক হাফিজুল ইসলামের সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ থাকা কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা শাওন শেখ, জবি শিক্ষার্থী মৌসুমি এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী লাওহে মাহফুজ—এই তিনজনকে শিক্ষক নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।

 

এর মধ্যে শাওন শেখের সঙ্গে অধ্যাপক হাফিজুল ইসলামের যৌথ গবেষণা রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ওই গবেষণাপত্রে জালিয়াতির অভিযোগ তুলে শাওন শেখের নিয়োগ বাতিল ও পুরো নিয়োগ বোর্ড স্থগিতের দাবিতে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে (ইউজিসি) লিখিত আবেদনও জমা পড়েছে বলে জানা গেছে।

 

এ বিষয়ে দর্শন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হাফিজুল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

 

অন্যদিকে, বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিম বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত হয়েছি। বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে।

 

দর্শন বিভাগের শিক্ষক নিয়োগকে কেন্দ্র করে ওঠা এই অভিযোগগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বচ্ছতা, নৈতিকতা ও একাডেমিক মান নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। সংশ্লিষ্ট মহলের প্রত্যাশা, দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত ও সুস্পষ্ট সিদ্ধান্তের মাধ্যমে এ বিতর্কের সুষ্ঠু নিষ্পত্তি হবে।


সম্পর্কিত

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়শিক্ষক নিয়োগ

জনপ্রিয়


ক্যাম্পাস থেকে আরও পড়ুন

ঢাবি শিক্ষিকা শেহরীন মোনামির পদত্যাগ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন অধ্যাপক শেহরীন আমিন ভূঁইয়া (মোনামি)। সোমবার (১১ মে) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি নিজেই বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

বিয়ে করছেন ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম, পাত্রী কে?

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহ-সভাপতি (ভিপি) এবং বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক সম্পাদক সাদিক কায়েম বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন। আগামী ১৩ মে তার বিয়ের অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে বলে ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির পদত্যাগসহ ৯ দফা দাবি ছাত্রদলের

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হায়দার আলীর পদত্যাগসহ ৯ দফা দাবি জানিয়েছে শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। বুধবার (৬ মে) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি উপস্থাপন করেন সংগঠনটির নেতারা।

অভিযোগের মুখে খুবির বিজয়-২৪ হলের প্রভোস্টকে অব্যাহতি, তদন্ত কমিটি গঠন

অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচরিতার অভিযোগের প্রেক্ষিতে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের ‘বিজয়-২৪’ হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক সাঈদা রেহেনাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ খতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।