বাংলাদেশ


৫৪ বছরেও অন্ধকারে মনপুরা: বিদ্যুৎবিহীন দ্বীপে থমকে উন্নয়ন, বাড়ছে হতাশা


জেলা প্রতিনিধি

জেলা প্রতিনিধি

প্রকাশিত:১৭ মার্চ ২০২৬, ০৯:১৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার

৫৪ বছরেও অন্ধকারে মনপুরা: বিদ্যুৎবিহীন দ্বীপে থমকে উন্নয়ন, বাড়ছে হতাশা

ছবি: দূরবীন নিউজ


স্বাধীনতার ৫৪ বছর পেরিয়ে দেশজুড়ে উন্নয়নের আলো ছড়িয়ে পড়লেও ভোলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা মনপুরা এখনো বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় পড়ে আছে। জাতীয় গ্রিডের বাইরে থাকা এই দ্বীপের মানুষের প্রতিদিনের জীবনযাত্রা যেন এখনো অন্ধকারের সঙ্গে লড়াই করে চলছে।

 

বরিশাল বিভাগের ভোলা জেলার প্রায় ৩৭৩ বর্গকিলোমিটার আয়তনের মনপুরা উপজেলায় বসবাস করেন প্রায় এক লাখ মানুষ। তবে তাদের জীবনে বিদ্যুতের সুবিধা এখনো সীমিত। উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের মধ্যে কেবল হাজিরহাট ইউনিয়নে সীমিত আকারে জেনারেটরনির্ভর বিদ্যুৎ সরবরাহ রয়েছে, যা দিনে গড়ে মাত্র ২ থেকে ৩ ঘণ্টা। অন্য চারটি ইউনিয়নে এখনো বিদ্যুতের কোনো সংযোগ পৌঁছায়নি।

 

সূর্যাস্তের পরই পুরো এলাকাজুড়ে নেমে আসে অন্ধকার। বাজারের কোলাহল থেমে যায়, ঘরে ঘরে জ্বলে ওঠে ক্ষীণ সোলার বাতি কিংবা কেরোসিনের কুপিঝড়। অনেক পরিবার এখনো সোলার প্যানেলের ওপর নির্ভরশীল হলেও তা দিয়ে সীমিত কিছু কাজ ছাড়া আর কিছু করা সম্ভব হয় না।

 

স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. মেহেদী হাসান বলেন, দিনে কয়েক ঘণ্টা বিদ্যুৎ দিয়ে ব্যবসা সচল রাখা সম্ভব নয়। জেনারেটরের খরচ বেশি হওয়ায় অনেক সময় বিকেলের আগেই দোকান বন্ধ করতে হয়।

 

শিক্ষা ক্ষেত্রেও এর প্রভাব পড়ছে। শিক্ষার্থী তামজিদ সামি জানায়, রাতে পড়াশোনার সময় সোলারের চার্জ শেষ হয়ে গেলে আর কিছু করার থাকে না। অনলাইন ক্লাস বা কম্পিউটার ব্যবহার করাও তাদের জন্য প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।

 

স্বাস্থ্যসেবাও এখানে বড় চ্যালেঞ্জ। বিদ্যুতের অভাবে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম নিয়মিত চালানো যায় না। ওষুধ সংরক্ষণেও দেখা দেয় জটিলতা। একই সঙ্গে মৎস্যপ্রধান এই অঞ্চলে কোল্ড স্টোরেজ বা বরফ কারখানা গড়ে না ওঠায় অর্থনৈতিক সম্ভাবনাও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, বহু বছর ধরে মনপুরাকে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। বিভিন্ন সময় পরিকল্পনার কথা শোনা গেলেও নির্দিষ্ট সময়সূচি না থাকায় মানুষের মধ্যে হতাশা বাড়ছে।

 

এ বিষয়ে বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (পরিকল্পনা) নূর আহমদ জানান, মনপুরাকে জাতীয় গ্রিডে আনার পরিকল্পনা রয়েছে এবং ইতোমধ্যে একটি টিম এলাকা পরিদর্শন করেছে।

 

তবে প্রশ্ন থেকেই যায় পরিকল্পনা বাস্তবায়ন কবে? দেশের সার্বিক উন্নয়নের ধারায় মনপুরার মানুষ কবে যুক্ত হবে? উন্নয়নের নানা সূচকে এগিয়ে যাওয়ার দাবির মধ্যেও বিদ্যুৎহীন একটি পুরো উপজেলা যেন রাষ্ট্রের উন্নয়নচিত্রে একটি বড় অসম্পূর্ণতার প্রতীক হয়ে আছে। মনপুরাবাসীর একটাই প্রত্যাশা কবে তাদের জীবনেও জ্বলবে জাতীয় গ্রিডের আলো।


সম্পর্কিত

বাংলাদেশমনপুরাউন্নয়নদুরবীন নিউজ

জনপ্রিয়


বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন

ফ্লাইট এক্সপার্টের বিরুদ্ধে ৩৫ কোটি টাকার মানিলন্ডারিং মামলা, অনলাইন ট্রাভেল খাতে আস্থার সংকটের শঙ্কা

অনলাইনভিত্তিক ট্রাভেল সেবা প্রতিষ্ঠান ফ্লাইট এক্সপার্ট (এফইবিডি)-এর বিরুদ্ধে প্রায় ৩৫ কোটি টাকা মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে মামলা করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। বিমানের টিকিটের নামে গ্রাহক ও সাব-এজেন্টদের কাছ থেকে অগ্রিম অর্থ গ্রহণের পর বহু ক্ষেত্রে টিকিট সরবরাহ না করার অভিযোগের প্রেক্ষাপটে এ মামলা করা হয়েছে। খাতসংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, ঘটনাটি দেশের অনলাইন ট্রাভেল এজেন্সি (ওটিএ) খাতের প্রতি গ্রাহকদের আস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

দেশের সড়কে বিওয়াইডির ১ হাজারের বেশি নিউ এনার্জি ভেহিকেল, উদযাপিত হলো নতুন মাইলফলক

বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরুর পর দেশের সড়কে ১ হাজারের বেশি নিউ এনার্জি ভেহিকেল (এনইভি) সরবরাহের মাইলফলক অর্জন করেছে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় নিউ এনার্জি ভেহিকেল (এনইভি) নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বিওয়াইডি। ২০২৪ সালের ৩ মার্চ ফ্ল্যাগশিপ ইলেকট্রিক সেডান ‘বিওয়াইডি সিল’-এর মাধ্যমে বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করার পর থেকে বিভিন্ন মডেলের এনইভি বাজারে এনে ক্রেতাদের চাহিদা পূরণে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি।

রাজধানীসহ কয়েকটি বিভাগে কমতে পারে বৃষ্টির তীব্রতা, বৃহস্পতিবার থেকে আবার বাড়ার আভাস

টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণের পর রাজধানীসহ দেশের কয়েকটি এলাকায় বৃষ্টির তীব্রতা ধীরে ধীরে কমতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। তবে বৃষ্টি পুরোপুরি থেমে যাবে না। বিশেষ করে খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় অতি ভারী বৃষ্টির প্রবণতা কমতে পারে। অন্যদিকে আগামী বৃহস্পতিবার থেকে মৌসুমি বায়ু আবার সক্রিয় হয়ে বৃষ্টিপাত বাড়তে পারে।

চট্টগ্রামে বন্যার্তদের পাশে সেনাবাহিনী, ৩ হাজার পরিবারে ত্রাণ ও ৫ হাজার মানুষকে চিকিৎসাসেবা

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি, হাটহাজারী ও বোয়ালখালী উপজেলাসহ তিন পার্বত্য জেলার বন্যাকবলিত এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য ত্রাণ বিতরণ, উদ্ধার কার্যক্রম এবং জরুরি চিকিৎসাসেবা অব্যাহত রেখেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। এ পর্যন্ত প্রায় ৩ হাজার পরিবারের কাছে ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি ৫ হাজার মানুষকে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বন্যার কারণে বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে আটকে পড়া প্রায় ৩ হাজার পর্যটককে নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।