আন্তর্জাতিক
যুদ্ধবিরতি শেষ, ইরানের সঙ্গে আর কোনো চুক্তি চান না ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক পাল্টাপাল্টি হামলার পর দুই দেশের যুদ্ধবিরতি কার্যত শেষ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে নতুন কোনো চুক্তি করতে তিনি আগ্রহী নন। ট্রাম্পের এই বক্তব্যের পর বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম এক ধাক্কায় প্রায় ৫ শতাংশ বেড়েছে।
বুধবার তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় ন্যাটোর শীর্ষ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে বলে তিনি মনে করেন না। তিনি বলেন, "আমি মনে করি এটি শেষ। তাদের সঙ্গে আর কোনো চুক্তি করতে চাই না। তারা একটি আবর্জনা।"
ইরানের নেতৃত্বের কঠোর সমালোচনা করে ট্রাম্প বলেন, "তারা জঘন্য, মানসিকভাবে অসুস্থ কিছু মানুষ তাদের নেতৃত্ব দিচ্ছে। তারা চরম হিংস্র ও সহিংস প্রকৃতির লোক। তাদের কাছে যদি কোনো পারমাণবিক অস্ত্র থাকত, তবে তারা সেটি ব্যবহার করত।"
গত ১৭ জুন স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার কথা ছিল। এ সময়ের মধ্যে উভয় পক্ষের প্রতিনিধিরা চূড়ান্ত একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর লক্ষ্যে আলোচনা চালাবেন।
ট্রাম্প জানান, ইরানের সঙ্গে আলোচনায় যুক্ত থাকা মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে তিনি কথা বলবেন। তবে আলোচনায় ফিরে আসার বিষয়টি এখন সম্পূর্ণ তেহরানের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
একই সঙ্গে ট্রাম্প বলেন, "আমার মতে তাদের সঙ্গে আলোচনা করা মানে কেবলই সময়ের অপচয়। তারা মিথ্যাবাদী।" সমঝোতা স্মারকে উল্লেখিত বিষয়গুলো নিয়ে ইরান একাধিকবার মিথ্যাচার করেছে বলেও অভিযোগ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তার দাবি, পারমাণবিক অস্ত্র না রাখার বিষয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হয়েছিল। পরে ইরান সেই অবস্থান অস্বীকার করেছে।
ট্রাম্প বলেন, "পারমাণবিক অস্ত্র না থাকার বিষয়ে সবাই একমত হয়েছিল। আমরা একটি চুক্তি করলাম। আর তারা বাইরে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মজা করে বলল, আমরা নাকি এ বিষয়ে কখনও কথাই বলিনি। তাদের সমস্যা আছে, তারা আসলেই উন্মাদ।"
ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার মন্তব্যের পর মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুট হরমুজ প্রণালি ঘিরে উদ্বেগ বাড়ছে।
প্রণালিটির নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখার বিষয়ে তেহরান অনড় অবস্থানে রয়েছে। ইরানের দাবি, হরমুজ দিয়ে চলাচলকারী জাহাজ থেকে সার্ভিস ফি আদায় করা হবে। একই সঙ্গে তাদের নির্ধারিত রুট এড়িয়ে যেসব জাহাজ চলাচলের চেষ্টা করবে, সেগুলোকেও সতর্ক করা হয়েছে।
ইরানের সামরিক কেন্দ্রীয় কমান্ড খাতাম আল-আম্বিয়া জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনায় কোনো ধরনের মার্কিন হস্তক্ষেপ মেনে নেওয়া হবে না। গত কয়েক দিনে ইরানের সামরিক বাহিনী অন্তত তিনটি জাহাজে হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এর জেরে মঙ্গলবার রাতে ইরানের কয়েকটি লক্ষ্যবস্তুতে ব্যাপক হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র।
ওয়াশিংটনের ওই হামলার জবাবে বুধবার কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।
এদিকে আঙ্কারায় চলমান ন্যাটোর শীর্ষ সম্মেলনে জোটের মহাসচিব মার্ক রুটে বলেন, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন হামলা প্রয়োজনীয় ছিল। তার ভাষ্য, যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের পর যুক্তরাষ্ট্রের জোরালো প্রতিক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
সম্পর্কিত
জনপ্রিয়
সর্বশেষ
আন্তর্জাতিক থেকে আরও পড়ুন
তামিলনাড়ুতে গরু জবাই নিষেধাজ্ঞার বিপক্ষে লড়াইয়ে বিজয়
ভারতের তামিলনাড়ুতে কোরবানি ঈদসহ যেকোনো দিনে গরু ও বাছুর জবাই নিষিদ্ধ করার বিষয়ে মাদ্রাজ হাইকোর্টের দেওয়া আদেশের ওপর স্থগিতাদেশ দিয়েছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। সোমবার (১৩ জুলাই) দেওয়া এই আদেশে সর্বোচ্চ আদালত পর্যবেক্ষণ করেন, হাইকোর্টের রায়ে সংশোধনের প্রয়োজন ছিল।

জাপানকে যেভাবে গুপ্তচরদের ঘাঁটি বানিয়েছে রাশিয়া: নিউইয়র্ক টাইমসের অনুসন্ধান
ইউক্রেন যুদ্ধের জন্য সামরিক ও বেসামরিক উভয়ক্ষেত্রে ব্যবহারযোগ্য প্রযুক্তি সংগ্রহ এবং গোয়েন্দা তথ্য আহরণের উদ্দেশ্যে জাপানকে কার্যত গুপ্তচরবৃত্তির কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করছে রাশিয়া। জাপানের গুপ্তচরবৃত্তিবিষয়ক আইনের দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলে অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমস।

পাল্টাপাল্টি হামলায় নতুন করে বাহরাইনে মার্কিন ড্রোনবহর ধ্বংসের দাবি ইরানের
উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আবারও পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। রোববার দিবাগত রাতে উভয় পক্ষের সামরিক অভিযানে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে চলমান সংকট আরও তীব্র হয়েছে। ইরানের দাবি, তারা বাহরাইনে মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়ে একটি ড্রোনবহর ধ্বংস করেছে। তবে এ দাবির স্বাধীন যাচাই তাৎক্ষণিকভাবে সম্ভব হয়নি। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের বিভিন্ন সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনায় নতুন করে হামলার কথা জানিয়েছে।

বিয়েতে খাসির বদলে মুরগি, বর-কনে পক্ষের সংঘর্ষে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে আহত ১২
বিয়ের ভোজে খাসির মাংস পরিবেশনের প্রতিশ্রুতি ছিল। কিন্তু খাবারের টেবিলে গিয়ে দেখা গেল, খাসির বদলে পরিবেশন করা হয়েছে মুরগির মাংস। আর এতেই শুরু হয় বর ও কনেপক্ষের মধ্যে তুমুল বাগ্বিতণ্ডা, যা মুহূর্তেই রূপ নেয় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে। লাঠিসোঁটা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে দুই পক্ষের অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন।









