আন্তর্জাতিক
সৌদি আরবে এক বছরে ১০০ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর, উদ্বেগ মানবাধিকার সংগঠনগুলোর

মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরবে মাদক পাচার ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অভিযুক্ত আরও সাতজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। মঙ্গলবার দেশটির বিভিন্ন কারাগারে তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি কার্যকর করা হয়। এর ফলে চলতি বছরে সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া ব্যক্তির সংখ্যা ১০০ জনে পৌঁছেছে।
সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া সাতজনের মধ্যে পাঁচজন মাদক পাচারের দায়ে দোষী সাব্যস্ত ছিলেন। এ নিয়ে চলতি বছরে মাদক-সংশ্লিষ্ট অপরাধে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া ব্যক্তির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৫ জনে। তাদের মধ্যে ৪৩ জনই বিদেশি নাগরিক।
এদিকে, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ডের ক্রমবর্ধমান ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সোমবার এক বিবৃতিতে সংস্থাটি এ ঘটনাকে কর্তৃপক্ষের ‘বিবেকহীন ও বেআইনিভাবে মৃত্যুদণ্ড ব্যবহারের একটি নির্মম মাইলফলক’ হিসেবে উল্লেখ করে।
লন্ডনভিত্তিক সংস্থাটির দাবি, মাদক সংক্রান্ত অপরাধে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ক্ষেত্রে বিদেশি নাগরিকরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে তাদের বিরুদ্ধে পরিচালিত বিচারপ্রক্রিয়া আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী ন্যায়সঙ্গত ছিল না বলেও অভিযোগ করেছে অ্যামনেস্টি।
সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, দক্ষিণ-পশ্চিম সৌদি আরবের খামিস মুশাইত আটক কেন্দ্রের একটি ওয়ার্ডে অন্তত ৬৩ জন ইথিওপীয় নাগরিক বন্দি রয়েছেন। মাদক সংক্রান্ত অভিযোগে অভিযুক্ত এসব বন্দি যেকোনো সময় মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঝুঁকিতে আছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া ১০০ জনের মধ্যে ৪৮ জন সৌদি নাগরিক। এছাড়া ১২ জন ইথিওপীয়, সাতজন পাকিস্তানি, ছয়জন সুদানি, চারজন ইয়েমেনি এবং চারজন সিরীয় নাগরিক রয়েছেন।
এর আগে ২০২৫ সালে সৌদি আরব ৩৫৬ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছিল, যার মধ্যে ২৪৩ জনই ছিলেন মাদক-সংশ্লিষ্ট অপরাধে দোষী সাব্যস্ত। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯০ সালে রেকর্ড সংরক্ষণ শুরু হওয়ার পর এটিই ছিল দেশটিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সর্বোচ্চ সংখ্যা।
প্রায় তিন বছর স্থগিত রাখার পর ২০২২ সালের শেষ দিকে মাদক-সংক্রান্ত অপরাধের জন্য মৃত্যুদণ্ডের বিধান পুনর্বহাল করে সৌদি সরকার। অ্যামনেস্টির তথ্যমতে, গত তিন বছরে বিশ্বে সবচেয়ে বেশি মৃত্যুদণ্ড কার্যকরকারী দেশের তালিকায় চীন ও ইরানের পরেই রয়েছে সৌদি আরব।
মানবাধিকার সংগঠনগুলো মনে করছে, মৃত্যুদণ্ডের ব্যাপক ব্যবহার দেশটির আধুনিক ও সংস্কারমুখী ভাবমূর্তির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তবে সৌদি কর্তৃপক্ষের দাবি, জনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে মৃত্যুদণ্ড প্রয়োজনীয় এবং আপিলের সব সুযোগ শেষ হওয়ার পরই এ শাস্তি কার্যকর করা হয়।
সূত্র: এএফপি
সম্পর্কিত
জনপ্রিয়
আন্তর্জাতিক থেকে আরও পড়ুন
তামিলনাড়ুতে গরু জবাই নিষেধাজ্ঞার বিপক্ষে লড়াইয়ে বিজয়
ভারতের তামিলনাড়ুতে কোরবানি ঈদসহ যেকোনো দিনে গরু ও বাছুর জবাই নিষিদ্ধ করার বিষয়ে মাদ্রাজ হাইকোর্টের দেওয়া আদেশের ওপর স্থগিতাদেশ দিয়েছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। সোমবার (১৩ জুলাই) দেওয়া এই আদেশে সর্বোচ্চ আদালত পর্যবেক্ষণ করেন, হাইকোর্টের রায়ে সংশোধনের প্রয়োজন ছিল।

জাপানকে যেভাবে গুপ্তচরদের ঘাঁটি বানিয়েছে রাশিয়া: নিউইয়র্ক টাইমসের অনুসন্ধান
ইউক্রেন যুদ্ধের জন্য সামরিক ও বেসামরিক উভয়ক্ষেত্রে ব্যবহারযোগ্য প্রযুক্তি সংগ্রহ এবং গোয়েন্দা তথ্য আহরণের উদ্দেশ্যে জাপানকে কার্যত গুপ্তচরবৃত্তির কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করছে রাশিয়া। জাপানের গুপ্তচরবৃত্তিবিষয়ক আইনের দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলে অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমস।

পাল্টাপাল্টি হামলায় নতুন করে বাহরাইনে মার্কিন ড্রোনবহর ধ্বংসের দাবি ইরানের
উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আবারও পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। রোববার দিবাগত রাতে উভয় পক্ষের সামরিক অভিযানে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে চলমান সংকট আরও তীব্র হয়েছে। ইরানের দাবি, তারা বাহরাইনে মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়ে একটি ড্রোনবহর ধ্বংস করেছে। তবে এ দাবির স্বাধীন যাচাই তাৎক্ষণিকভাবে সম্ভব হয়নি। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের বিভিন্ন সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনায় নতুন করে হামলার কথা জানিয়েছে।

বিয়েতে খাসির বদলে মুরগি, বর-কনে পক্ষের সংঘর্ষে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে আহত ১২
বিয়ের ভোজে খাসির মাংস পরিবেশনের প্রতিশ্রুতি ছিল। কিন্তু খাবারের টেবিলে গিয়ে দেখা গেল, খাসির বদলে পরিবেশন করা হয়েছে মুরগির মাংস। আর এতেই শুরু হয় বর ও কনেপক্ষের মধ্যে তুমুল বাগ্বিতণ্ডা, যা মুহূর্তেই রূপ নেয় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে। লাঠিসোঁটা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে দুই পক্ষের অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন।









