আন্তর্জাতিক


হরমুজের পর কেন আলোচনায় মালাক্কা প্রণালি?


সহ-সম্পাদক

শাহারিয়া নয়ন

প্রকাশিত:১৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:১১ পূর্বাহ্ন, রবিবার

হরমুজের পর কেন আলোচনায় মালাক্কা প্রণালি?

বিশেষজ্ঞ আজিফাহ আস্ত্রিনার ভাষায়, "মালাক্কা বৈশ্বিক অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ধমনী" । ছবি: সংগৃহীত


বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ মালাক্কা প্রণালি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত জলপথ হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনার মধ্যেই এবার মালাক্কা প্রণালির ভূরাজনৈতিক গুরুত্ব ও ঝুঁকি আলোচনায় এসেছে।

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, মালাক্কা প্রণালি শুধু আঞ্চলিক নয়, বরং বৈশ্বিক বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান করিডর। দক্ষিণ চীন সাগরের সঙ্গে যুক্ত এই জলপথ দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বাণিজ্য পরিবাহিত হয়। সবচেয়ে সরু অংশ মাত্র ২.৮ কিলোমিটার হওয়ায় এটি কৌশলগতভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল।

 

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ইলিনয়ের গবেষক আজিফাহ আস্ত্রিনা বলেন, এই প্রণালি ভারত মহাসাগর ও প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্যে সবচেয়ে কার্যকর সংযোগ, যার ওপর এশিয়া, ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের বাণিজ্য নির্ভরশীল।

 

যুক্তরাষ্ট্রের এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের তথ্যমতে, প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি ৩২ লাখ ব্যারেল তেল এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়, যা বৈশ্বিক সমুদ্রপথের বড় একটি অংশ। একই সঙ্গে বিপুল পরিমাণ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) ও অন্যান্য পণ্য পরিবহন হয়।

 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মালাক্কা প্রণালি শুধু জ্বালানি নয়, বরং ইলেকট্রনিকস, গাড়ি, শিল্পপণ্য ও খাদ্যশস্য পরিবহনের অন্যতম প্রধান রুট। এর ফলে এটি বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।

 

তবে একই সঙ্গে এ পথ নিয়ে উদ্বেগও বাড়ছে। জলদস্যুতা, চোরাচালান ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি ছাড়াও এখন যুক্ত হয়েছে বড় শক্তিগুলোর ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতা। বিশেষজ্ঞদের মতে, চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য শক্তির কৌশলগত উপস্থিতি বাড়লে এই অঞ্চল আরও অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে।

 

চীনের জন্য মালাক্কা প্রণালি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি রুট, কারণ দেশটির বিপুল অংশ জ্বালানি ও বাণিজ্য এই পথের ওপর নির্ভরশীল। একইভাবে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও সিঙ্গাপুরও এই জলপথের ওপর গভীরভাবে নির্ভরশীল।

 

বিশ্লেষকদের মতে, বড় ধরনের সংঘাত না হলেও এই অঞ্চলে প্রতিযোগিতামূলক নিরাপত্তা পরিবেশ তৈরি হলে বীমা খরচ বৃদ্ধি, ঝুঁকি মূল্যায়নের পরিবর্তন এবং বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হতে পারে।

 

বিশেষজ্ঞরা আরও সতর্ক করে বলছেন, মালাক্কা প্রণালির নিরাপত্তা কাঠামো মূলত জলদস্যুতা দমনের জন্য তৈরি, কিন্তু বড় শক্তিগুলোর কৌশলগত প্রতিযোগিতা সামলানোর জন্য তা যথেষ্ট নয়।


সম্পর্কিত

আন্তর্জাতিক খবরআন্তর্জাতিক

জনপ্রিয়


আন্তর্জাতিক থেকে আরও পড়ুন

তামিলনাড়ুতে গরু জবাই নিষেধাজ্ঞার বিপক্ষে লড়াইয়ে বিজয়

ভারতের তামিলনাড়ুতে কোরবানি ঈদসহ যেকোনো দিনে গরু ও বাছুর জবাই নিষিদ্ধ করার বিষয়ে মাদ্রাজ হাইকোর্টের দেওয়া আদেশের ওপর স্থগিতাদেশ দিয়েছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। সোমবার (১৩ জুলাই) দেওয়া এই আদেশে সর্বোচ্চ আদালত পর্যবেক্ষণ করেন, হাইকোর্টের রায়ে সংশোধনের প্রয়োজন ছিল।

জাপানকে যেভাবে গুপ্তচরদের ঘাঁটি বানিয়েছে রাশিয়া: নিউইয়র্ক টাইমসের অনুসন্ধান

ইউক্রেন যুদ্ধের জন্য সামরিক ও বেসামরিক উভয়ক্ষেত্রে ব্যবহারযোগ্য প্রযুক্তি সংগ্রহ এবং গোয়েন্দা তথ্য আহরণের উদ্দেশ্যে জাপানকে কার্যত গুপ্তচরবৃত্তির কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করছে রাশিয়া। জাপানের গুপ্তচরবৃত্তিবিষয়ক আইনের দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলে অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমস।

পাল্টাপাল্টি হামলায় নতুন করে বাহরাইনে মার্কিন ড্রোনবহর ধ্বংসের দাবি ইরানের

উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আবারও পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। রোববার দিবাগত রাতে উভয় পক্ষের সামরিক অভিযানে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে চলমান সংকট আরও তীব্র হয়েছে। ইরানের দাবি, তারা বাহরাইনে মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়ে একটি ড্রোনবহর ধ্বংস করেছে। তবে এ দাবির স্বাধীন যাচাই তাৎক্ষণিকভাবে সম্ভব হয়নি। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের বিভিন্ন সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনায় নতুন করে হামলার কথা জানিয়েছে।

বিয়েতে খাসির বদলে মুরগি, বর-কনে পক্ষের সংঘর্ষে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে আহত ১২

বিয়ের ভোজে খাসির মাংস পরিবেশনের প্রতিশ্রুতি ছিল। কিন্তু খাবারের টেবিলে গিয়ে দেখা গেল, খাসির বদলে পরিবেশন করা হয়েছে মুরগির মাংস। আর এতেই শুরু হয় বর ও কনেপক্ষের মধ্যে তুমুল বাগ্‌বিতণ্ডা, যা মুহূর্তেই রূপ নেয় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে। লাঠিসোঁটা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে দুই পক্ষের অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন।