মালাক্কা প্রণালিহরমুজ প্রণালিঘিরে উত্তেজনার মধ্যেই এবার মালাক্কা প্রণালির ভূরাজনৈতিক গুরুত্ব ও ঝুঁকি আলোচনায় এসেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মালাক্কা প্রণালি শুধু আঞ্চলিক নয়, বরং বৈশ্বিক বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান করিডর। দক্ষিণ চীন সাগরের সঙ্গে যুক্ত এই জলপথ দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বাণিজ্য পরিবাহিত হয়। সবচেয়ে সরু অংশ মাত্র ২.৮ কিলোমিটার হওয়ায় এটি কৌশলগতভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল।
যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ইলিনয়ের গবেষক আজিফাহ আস্ত্রিনা বলেন, এই প্রণালি ভারত মহাসাগর ও প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্যে সবচেয়ে কার্যকর সংযোগ, যার ওপর এশিয়া, ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের বাণিজ্য নির্ভরশীল।
যুক্তরাষ্ট্রের এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের তথ্যমতে, প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি ৩২ লাখ ব্যারেল তেল এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়, যা বৈশ্বিক সমুদ্রপথের বড় একটি অংশ। একই সঙ্গে বিপুল পরিমাণ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) ও অন্যান্য পণ্য পরিবহন হয়।
মালাক্কা প্রণালিশুধু জ্বালানি নয়, বরং ইলেকট্রনিকস, গাড়ি, শিল্পপণ্য ও খাদ্যশস্য পরিবহনের অন্যতম প্রধান রুট। এর ফলে এটি বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।
তবে একই সঙ্গে এ পথ নিয়ে উদ্বেগও বাড়ছে। জলদস্যুতা, চোরাচালান ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি ছাড়াও এখন যুক্ত হয়েছে বড় শক্তিগুলোর ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতা। বিশেষজ্ঞদের মতে, চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য শক্তির কৌশলগত উপস্থিতি বাড়লে এই অঞ্চল আরও অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে।
চীনের জন্য মালাক্কা প্রণালি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি রুট, কারণ দেশটির বিপুল অংশ জ্বালানি ও বাণিজ্য এই পথের ওপর নির্ভরশীল। একইভাবে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও সিঙ্গাপুরও এই জলপথের ওপর গভীরভাবে নির্ভরশীল।
বিশ্লেষকদের মতে, বড় ধরনের সংঘাত না হলেও এই অঞ্চলে প্রতিযোগিতামূলক নিরাপত্তা পরিবেশ তৈরি হলে বীমা খরচ বৃদ্ধি, ঝুঁকি মূল্যায়নের পরিবর্তন এবং বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা আরও সতর্ক করে বলছেন, মালাক্কা প্রণালির নিরাপত্তা কাঠামো মূলত জলদস্যুতা দমনের জন্য তৈরি, কিন্তু বড় শক্তিগুলোর কৌশলগত প্রতিযোগিতা সামলানোর জন্য তা যথেষ্ট নয়।










