আন্তর্জাতিক
যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে ‘ইরানের বিজয়’

ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের উত্থাপিত ১০ দফা দাবি মেনে নিয়েছেন বলে দাবি করেছে তেহরান। এর পরিপ্রেক্ষিতে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে নিজেদের কূটনৈতিক বিজয় হিসেবে দেখছে ইরান।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন এবং সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল-এর বক্তব্যে এমন ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের উত্থাপিত শর্তসমূহে সম্মতি দেওয়ায় এই চুক্তিকে ‘বিজয়’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
এক বিবৃতিতে সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল জানায়, চুক্তিটি ইরানের কৌশলগত অবস্থানকে শক্তিশালী করেছে এবং এটি দেশের জন্য একটি বড় কূটনৈতিক সাফল্য।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করার আগেই তেহরান এতে সম্মতি দিয়েছিল। ফলে আলোচনায় ইরানের অবস্থানকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
১. হরমুজ প্রণালিতে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা:
হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিয়ন্ত্রিত নৌযাতায়াত নিশ্চিত করতে চায় ইরান। এর মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ এই আন্তর্জাতিক নৌপথে নিজেদের ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে।
২. মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার:
পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি ও সেনা মোতায়েন সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে তেহরান।
৩. মিত্র শক্তির নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ:
ইরান তাদের মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ, হামাস ও হুতিদের ওপর হামলা বন্ধের দাবি জানিয়েছে।
৪. নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও সম্পদ ফেরত:
ইরানের ওপর আরোপিত সব ধরনের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা বাতিল এবং বিদেশে আটকে থাকা সম্পদ ফেরত দেওয়ার দাবি তোলা হয়েছে। পাশাপাশি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ ও আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা-এর নেতিবাচক প্রস্তাব প্রত্যাহারের কথাও বলা হয়েছে।
৫. যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ:
গত বছরগুলোর সামরিক ও অর্থনৈতিক ক্ষতির জন্য পূর্ণাঙ্গ ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে ইরান।
৬. আন্তর্জাতিক আইনি নিশ্চয়তা:
চুক্তির সব শর্তকে জাতিসংঘের বাধ্যতামূলক প্রস্তাব হিসেবে পাস করার দাবি জানিয়েছে তেহরান, যাতে ভবিষ্যতে কোনো পক্ষ তা লঙ্ঘন করতে না পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে মধ্যপ্রাচ্যের শক্তির ভারসাম্যে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের প্রভাব বৃদ্ধি এবং মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের বিষয়টি বৈশ্বিক রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
তবে চুক্তির বাস্তবায়ন ও আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা এখনো নির্ভর করছে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর আনুষ্ঠানিক অবস্থান ও জাতিসংঘের সিদ্ধান্তের ওপর।
সূত্র: আল জাজিরা
জনপ্রিয়
সর্বশেষ
আন্তর্জাতিক থেকে আরও পড়ুন
তামিলনাড়ুতে গরু জবাই নিষেধাজ্ঞার বিপক্ষে লড়াইয়ে বিজয়
ভারতের তামিলনাড়ুতে কোরবানি ঈদসহ যেকোনো দিনে গরু ও বাছুর জবাই নিষিদ্ধ করার বিষয়ে মাদ্রাজ হাইকোর্টের দেওয়া আদেশের ওপর স্থগিতাদেশ দিয়েছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। সোমবার (১৩ জুলাই) দেওয়া এই আদেশে সর্বোচ্চ আদালত পর্যবেক্ষণ করেন, হাইকোর্টের রায়ে সংশোধনের প্রয়োজন ছিল।

জাপানকে যেভাবে গুপ্তচরদের ঘাঁটি বানিয়েছে রাশিয়া: নিউইয়র্ক টাইমসের অনুসন্ধান
ইউক্রেন যুদ্ধের জন্য সামরিক ও বেসামরিক উভয়ক্ষেত্রে ব্যবহারযোগ্য প্রযুক্তি সংগ্রহ এবং গোয়েন্দা তথ্য আহরণের উদ্দেশ্যে জাপানকে কার্যত গুপ্তচরবৃত্তির কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করছে রাশিয়া। জাপানের গুপ্তচরবৃত্তিবিষয়ক আইনের দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলে অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমস।

পাল্টাপাল্টি হামলায় নতুন করে বাহরাইনে মার্কিন ড্রোনবহর ধ্বংসের দাবি ইরানের
উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আবারও পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। রোববার দিবাগত রাতে উভয় পক্ষের সামরিক অভিযানে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে চলমান সংকট আরও তীব্র হয়েছে। ইরানের দাবি, তারা বাহরাইনে মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়ে একটি ড্রোনবহর ধ্বংস করেছে। তবে এ দাবির স্বাধীন যাচাই তাৎক্ষণিকভাবে সম্ভব হয়নি। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের বিভিন্ন সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনায় নতুন করে হামলার কথা জানিয়েছে।

বিয়েতে খাসির বদলে মুরগি, বর-কনে পক্ষের সংঘর্ষে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে আহত ১২
বিয়ের ভোজে খাসির মাংস পরিবেশনের প্রতিশ্রুতি ছিল। কিন্তু খাবারের টেবিলে গিয়ে দেখা গেল, খাসির বদলে পরিবেশন করা হয়েছে মুরগির মাংস। আর এতেই শুরু হয় বর ও কনেপক্ষের মধ্যে তুমুল বাগ্বিতণ্ডা, যা মুহূর্তেই রূপ নেয় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে। লাঠিসোঁটা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে দুই পক্ষের অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন।









