আন্তর্জাতিক
নিম্ন উচ্চতার ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবিলায় হিমশিম মার্কিন বিমানবাহিনী

ইরানের আকাশসীমায় যুক্তরাষ্ট্র একক আধিপত্য প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থ হচ্ছে, কারণ ইরান দক্ষভাবে নিম্ন উচ্চতার হুমকি এবং ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরি করেছে। সামরিক বিশেষজ্ঞরা মঙ্গলবার ‘মিডল ইস্ট ইনস্টিটিউট’-এর আয়োজিত ভার্চুয়াল প্যানেল আলোচনায় উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্র নিম্ন উচ্চতার হুমকি মোকাবিলায় যথেষ্ট বিনিয়োগ করেনি, আর ইরান ঠিক এই সুযোগটি কাজে লাগিয়ে নিজস্ব প্রতিরক্ষা শক্তিশালী করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক স্টিমসন সেন্টারের সিনিয়র ফেলো কেলি গ্রিকো বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল মূলত উচ্চ আকাশসীমায় কার্যকর, যেখানে তাদের পূর্বধারণা অনুযায়ী সুবিধা থাকা উচিত ছিল। কিন্তু নিচু উচ্চতায় ইরানের মোবাইল ও হাইলি অ্যাডাপ্টেবল ব্যবস্থা যুক্তরাষ্ট্রের আকাশ আধিপত্য রুখছে।
ইরান এখানে বিঘ্ন সৃষ্টিকারী যুদ্ধ (War of Disruption) চালাচ্ছে। তারা সাশ্রয়ী খরচে শাহেদ ড্রোন ব্যবহার করে, উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্য ব্যাপক সমস্যার সৃষ্টি করছে, যেখানে প্রতিরক্ষা খরচ লাখ লাখ ডলার। গ্রিকো বলেন, ইরান দিনে দিন হামলা চালিয়ে, হুমকি হিসেবে টিকে থেকে খরচ বাড়াতে সক্ষম। এটি তাদের প্রধান শক্তি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উপসাগরীয় দেশগুলো মূলত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধে বিনিয়োগ করেছে, কিন্তু নিম্ন উচ্চতার ড্রোন শনাক্ত করতে তাদের ভিন্ন ধরনের সেন্সর ও রাডারের প্রয়োজন। যুক্তরাষ্ট্রের প্যাট্রিয়ট ও থাড ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে এ কাজ আরও জটিল হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, আপনারা কি এমন কিছু বলতে পারবেন যা ধ্বংস হয়নি? আমরা এখন তেহরানের আকাশে স্বাধীনভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছি। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এই দাবি সত্ত্বেও নিম্ন উচ্চতার হুমকি মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তুতি অপ্রতুল।
ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের মাইকেল ও’হ্যানলন বলেন, ড্রোন মোকাবিলায় উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্য লেজার প্রযুক্তি ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ, তবে জলীয় বাষ্প ও আবহাওয়া এর কার্যকারিতা প্রভাবিত করে।
সংক্ষেপে, ইরান দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ কৌশল গ্রহণ করেছে। প্রতিদিন ছোট আক্রমণ চালিয়ে, স্থায়িত্ব ধরে রেখে যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্র দেশগুলোর প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোই তাদের মূল কৌশল। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইরান তাদের ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার মাধ্যমে উপসাগরীয় অঞ্চলে কার্যকরভাবে প্রতিরোধ চালাচ্ছে, যা মার্কিন ও ইসরায়েলি পরিকল্পনাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।
সম্পর্কিত
জনপ্রিয়
সর্বশেষ
আন্তর্জাতিক থেকে আরও পড়ুন
তামিলনাড়ুতে গরু জবাই নিষেধাজ্ঞার বিপক্ষে লড়াইয়ে বিজয়
ভারতের তামিলনাড়ুতে কোরবানি ঈদসহ যেকোনো দিনে গরু ও বাছুর জবাই নিষিদ্ধ করার বিষয়ে মাদ্রাজ হাইকোর্টের দেওয়া আদেশের ওপর স্থগিতাদেশ দিয়েছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। সোমবার (১৩ জুলাই) দেওয়া এই আদেশে সর্বোচ্চ আদালত পর্যবেক্ষণ করেন, হাইকোর্টের রায়ে সংশোধনের প্রয়োজন ছিল।

জাপানকে যেভাবে গুপ্তচরদের ঘাঁটি বানিয়েছে রাশিয়া: নিউইয়র্ক টাইমসের অনুসন্ধান
ইউক্রেন যুদ্ধের জন্য সামরিক ও বেসামরিক উভয়ক্ষেত্রে ব্যবহারযোগ্য প্রযুক্তি সংগ্রহ এবং গোয়েন্দা তথ্য আহরণের উদ্দেশ্যে জাপানকে কার্যত গুপ্তচরবৃত্তির কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করছে রাশিয়া। জাপানের গুপ্তচরবৃত্তিবিষয়ক আইনের দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলে অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমস।

পাল্টাপাল্টি হামলায় নতুন করে বাহরাইনে মার্কিন ড্রোনবহর ধ্বংসের দাবি ইরানের
উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আবারও পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। রোববার দিবাগত রাতে উভয় পক্ষের সামরিক অভিযানে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে চলমান সংকট আরও তীব্র হয়েছে। ইরানের দাবি, তারা বাহরাইনে মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়ে একটি ড্রোনবহর ধ্বংস করেছে। তবে এ দাবির স্বাধীন যাচাই তাৎক্ষণিকভাবে সম্ভব হয়নি। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের বিভিন্ন সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনায় নতুন করে হামলার কথা জানিয়েছে।

বিয়েতে খাসির বদলে মুরগি, বর-কনে পক্ষের সংঘর্ষে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে আহত ১২
বিয়ের ভোজে খাসির মাংস পরিবেশনের প্রতিশ্রুতি ছিল। কিন্তু খাবারের টেবিলে গিয়ে দেখা গেল, খাসির বদলে পরিবেশন করা হয়েছে মুরগির মাংস। আর এতেই শুরু হয় বর ও কনেপক্ষের মধ্যে তুমুল বাগ্বিতণ্ডা, যা মুহূর্তেই রূপ নেয় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে। লাঠিসোঁটা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে দুই পক্ষের অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন।









