রাজনীতি
ছাত্রদলের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি নিয়ে জোর আলোচনা, সভাপতি–সম্পাদক পদে একাধিক নেতা আলোচনায়

ছবি: দূরবিন নিউজ
নানা সাংগঠনিক সংকট ও ছাত্র সংসদ নির্বাচনে প্রত্যাশিত ফল না পাওয়ায় সাম্প্রতিক সময়ে আলোচনায় রয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। এরই মধ্যে শেষ হয়েছে বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ। ফলে নতুন নেতৃত্ব গঠন নিয়ে সংগঠনটির ভেতরে আলোচনা ও প্রত্যাশা দুটোই বেড়েছে। সম্ভাব্য নেতৃত্বে আসতে আগ্রহী কয়েকজন নেতা ইতোমধ্যে তৎপর হয়ে উঠেছেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
সূত্র জানায়, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নতুন কমিটি ঘোষণার প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে। যে কোনো সময় নতুন কমিটি ঘোষণা করা হতে পারে। রোববার (৮ মার্চ) বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম বকুল বলেন, দ্রুতই ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটিসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নতুন কমিটি প্রকাশ করা হবে। তাঁর এ বক্তব্যের পর থেকেই সম্ভাব্য নতুন নেতৃত্ব নিয়ে সংগঠনটির নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনা আরও জোরদার হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব নির্ধারণে বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ে আলোচনা চলছে। সম্ভাব্য সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে কয়েকজন নেতার নাম জোরালোভাবে আলোচনায় রয়েছে। দীর্ঘদিন রাজপথে সক্রিয় ও ত্যাগী নেতাদেরই নতুন কমিটিতে গুরুত্ব দেওয়ার চিন্তা করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। তবে শেষ পর্যন্ত কারা নেতৃত্বে আসছেন, তা নির্ভর করছে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর।
এদিকে নতুন কেন্দ্রীয় কমিটিকে ঘিরে সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, আন্দোলন-সংগ্রামে পরীক্ষিত ও সংগঠনের জন্য দীর্ঘদিন সক্রিয় থাকা নেতাদের মধ্য থেকেই নতুন নেতৃত্ব আসা উচিত।
সভাপতি পদে আলোচনায় যারা
ছাত্রদলের সম্ভাব্য নতুন কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি পদকে ঘিরে কয়েকজন নেতার নাম আলোচনায় এসেছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন বর্তমান কমিটির সহ-সভাপতি মো. কাজী জিয়া উদ্দিন বাসিত, সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম সোহেল, সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির, জহির রায়হান আহমেদ, সহ-সভাপতি মঞ্জরুল আলম রিয়াদ, তৌহিদুর রহমান আউয়াল এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মমিনুল ইসলাম জিসান।
তবে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে মো. কাজী জিয়া উদ্দিন বাসিত সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন। দীর্ঘদিন রাজপথের আন্দোলনে সক্রিয় থাকা এই নেতা একাধিকবার কারাবরণ করেছেন এবং হামলা-মামলার শিকার হয়েছেন। সংগঠনের ভেতরে তাকে পরিশ্রমী ও পরিচ্ছন্ন ছাত্রনেতা হিসেবেও অনেকেই বিবেচনা করেন।
তার বিষয়ে আবেগঘন এক মন্তব্যে তার বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. ওমর ফারুক লিখেছেন, “কাজী জিয়া উদ্দিন বাসিত আমার কাছে এক জীবন্ত যোদ্ধার নাম। ছাত্রলীগের তাড়া খেয়ে একসময় আমার কক্ষে আশ্রয় নিতে হয়েছিল তাকে। পরে আবার গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর পাই। তার জীবনে অনেক ঝড় গেছে। রাজনীতিতে ভারসাম্যপূর্ণ ও পরিশ্রমী হওয়ায় বাসিত সফলতা অর্জন করবে বলে আমার বিশ্বাস।”
অন্যদিকে সভাপতি পদপ্রত্যাশী কাজী জিয়া উদ্দিন বাসিত সম্পর্কে ছাত্রদলের সহ-সম্পাদক সাইফুল ইসলাম বলেন, “রাজপথের আন্দোলনে আমি কাজী জিয়া উদ্দিন বাসিত ভাইয়ের সঙ্গে সরাসরি কাজ করার সুযোগ পেয়েছি। তার দৃঢ়তা, বিচক্ষণ নেতৃত্ব এবং সাহসিকতা তরুণ প্রজন্মের ছাত্ররাজনীতিতে এক অনুপ্রেরণার উৎস। বাসিত ভাই শুধু কার্যকর নেতা নন, তিনি একজন পরিশ্রমী ও গ্রহণযোগ্য নেতা।”
এ ছাড়া সভাপতি পদে খোরশেদ আলম সোহেলও আলোচনায় রয়েছেন। দীর্ঘদিন রাজপথে সক্রিয় থাকা, নির্যাতনের শিকার হওয়া এবং শিক্ষার্থী-বান্ধব নেতৃত্বের কারণে সংগঠনের ভেতরে তার গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম সোহেল বলেন, “কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ায় সংগঠনের গতিশীলতা ধরে রাখতে নতুন কমিটি হওয়াটা স্বাভাবিক। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন আমাদের সাংগঠনিক অভিভাবক তারেক রহমান। যাকে যেখানে দায়িত্ব দেবেন, আমরা সেখানে সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন করব।”
সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় যারা
নতুন কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক পদেও কয়েকজন নেতার নাম সামনে এসেছে। সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন বর্তমান কমিটির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শ্যামল মালুম, সাংগঠনিক সম্পাদক আমানউল্লাহ আমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাজু আহমেদ, ১ নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শামিম আক্তার শুভ।
তবে সংগঠন সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে বর্তমান কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক আমানউল্লাহ আমান সাধারণ সম্পাদক পদে এগিয়ে রয়েছেন। এর আগে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সদস্য সচিবের দায়িত্বও পালন করেছেন।
এক ছাত্রনেতা বলেন, “আমান ভাই সংগঠনের মধ্যে সক্রিয় ও দক্ষ নেতৃত্বের জন্য পরিচিত। ছাত্রলীগের সময় তিনি একাধিকবার হামলা-মামলার শিকার হয়েছেন। আমরা আশা করি দল তার ত্যাগ ও নেতৃত্বকে মূল্যায়ন করবে।”
উল্লেখ্য, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের বর্তমান কমিটি ২০২৪ সালের ১ মার্চ গঠিত হয়েছিল। তখন রাকিবুল ইসলাম রাকিবকে সভাপতি এবং নাছির উদ্দীন নাছিরকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে অনুমোদন দেওয়া হয়। শুরুতে এটি ছিল সাত সদস্যের আংশিক কমিটি, পরে ১৫ জুন ২৬০ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। গত ১ মার্চ দুই বছরের মেয়াদ পূর্ণ হওয়ায় এই কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে।
জনপ্রিয়
সর্বশেষ
রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন
মাঝনদী থেকে ফেরি ফিরিয়ে এমপি হান্নান মাসউদকে তোলা, ভোগান্তিতে যাত্রীরা
নোয়াখালীর হাতিয়ায় মাঝনদী থেকে যাত্রীবাহী ফেরি ঘুরিয়ে এনে সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদকে তোলার ঘটনায় যাত্রীদের দুর্ভোগের অভিযোগ উঠেছে। চেয়ারম্যান ঘাট থেকে নলচিরা ঘাটের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া ফেরি মহানন্দা প্রায় ২৩ মিনিট চলার পর আবার চেয়ারম্যান ঘাটে ফিরে আসে।

ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদ ও ছয় বিশ্ববিদ্যালয়ে আসছে নতুন নেতৃত্ব
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় কমিটির পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি), জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি), জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি), শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (শেকৃবি), রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নতুন কমিটি ঘোষণা হতে পারে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। সম্ভাব্য নতুন নেতৃত্বকে ঘিরে সংগঠনের ভেতরে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা।

১১ দলীয় জোটকে হারানোর ষড়যন্ত্রে অন্তর্বর্তী সরকারও ছিল: জামায়াত আমির
বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান দাবি করেছেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যে ষড়যন্ত্র হয়েছে, তাতে অন্তর্বর্তী সরকারও জড়িত ছিল। তিনি বলেন, সরকার নিজেই স্বীকার করেছে যে ষড়যন্ত্র করে ১১ দলীয় জোটকে হারানো হয়েছে।

যুবদলের জরুরি সভায় সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের তর্কাতর্কি, বৈঠক পণ্ড
সদ্য ঘোষিত যুবদলের নির্বাহী কমিটিতে নিষ্ক্রিয় ও বিতর্কিত ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর তা নিয়ে আলোচনা করতে ডাকা জরুরি সভায় সংগঠনটির সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়নের মধ্যে তর্কাতর্কির ঘটনা ঘটেছে। একপর্যায়ে বৈঠকের পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় সভা স্থগিত করা হয়।









