রাজনীতি


নির্বাচনী সমঝোতা থেকে জামায়াতের সঙ্গে রাজনৈতিক জোট গঠনের চিন্তায় এনসিপি


সহ-সম্পাদক

শাহারিয়া নয়ন

প্রকাশিত:২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:১১ পূর্বাহ্ন, রবিবার

নির্বাচনী সমঝোতা থেকে জামায়াতের সঙ্গে রাজনৈতিক জোট গঠনের চিন্তায় এনসিপি

ছবি: সংগৃহীত


তরুণ নেতৃত্বাধীন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে গড়া নির্বাচনী জোটকে রাজনৈতিক জোটে রূপান্তরের বিষয়টি বিবেচনা করছে। যদিও শীর্ষ নেতারা আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে স্পষ্ট বক্তব্য দেননি, তবে দলীয় অভ্যন্তরীণ সূত্র বলছে সংসদের ভেতরে ও বাইরে সংস্কার ইস্যুতে যৌথভাবে কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

 

দলটির কয়েকজন নেতা মনে করছেন, এ ধরনের জোট শক্তিশালী বিরোধী দল গঠনে সহায়ক হতে পারে এবং জুলাই সনদের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ সাংবিধানিক সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নিতে ভূমিকা রাখবে।

 

জুলাই আন্দোলনের সামনের সারির নেতাদের নিয়ে গঠিত এনসিপি গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোটে অংশ নেয়। একই জোটে থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও অংশ নেওয়ার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন দলীয় সূত্র।

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নেতা বলেন, সংসদে বিরোধী দলের প্রধান হুইপ হিসেবে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের নির্বাচিত হওয়া দুই দলের মধ্যে আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক সমন্বয়ের ইঙ্গিত দেয়।

 

দলের নির্বাচন ব্যবস্থাপনা কমিটির সচিব মনিরা শারমিন বলেন, “এটি একটি রাজনৈতিক জোট, যা সংস্কারমূলক কার্যক্রম ও নির্বাচনকেন্দ্রিক সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। সংসদে যৌথভাবে কাজ করার সুযোগ থাকলে অংশীদাররা তা কাজে লাগাবে।”

 

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জামায়াতের সমর্থন নিয়ে মাঠে নামার চিন্তাভাবনা করছে এনসিপি। সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন দলটির প্রধান সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী (ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন) এবং মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া (ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন)।

 

স্থানীয় সরকার বিভাগ ইতোমধ্যে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে নির্বাচন কমিশনকে অনুরোধ জানিয়েছে। ঈদুল ফিতরের পর নির্বাচন আয়োজনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

 

এনসিপির সদস্য-সচিব আখতার হোসেন এ বিষয়ে সরাসরি কিছু না বললেও জানান, “নির্বাচনকেন্দ্রিক জোটের প্রেক্ষাপট এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি। তাই এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়ার সময় আসেনি।”

 

তিনি বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে জোট স্বাভাবিক বিষয়। দেশের প্রয়োজন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় এনসিপি সিদ্ধান্ত নেবে। একই সঙ্গে তিনি জানান, দল নিজস্ব সাংগঠনিক বিস্তার ও ‘শাপলা কলি’ প্রতীকের প্রচারে গুরুত্ব দেবে।

 

গত বছরের অক্টোবরে এনসিপি এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কথা বললেও ২৮ ডিসেম্বর নাহিদ ইসলাম জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটে যোগ দেওয়ার ঘোষণা দেন। সে সময় তিনি বলেছিলেন, “এটি কোনো আদর্শিক জোট নয়, এটি একটি নির্বাচনী সমঝোতা।”

 

তবে নির্বাচনের পর জোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি। দলীয় নেতারা বলছেন, সংস্কার ইস্যুতে ঐক্য বজায় রাখাই তাদের প্রধান অগ্রাধিকার।

 

সম্পর্কিত

রাজনীতিএনসিপিজামায়াতরাজনৈতিক জোট

জনপ্রিয়


রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

মাঝনদী থেকে ফেরি ফিরিয়ে এমপি হান্নান মাসউদকে তোলা, ভোগান্তিতে যাত্রীরা

নোয়াখালীর হাতিয়ায় মাঝনদী থেকে যাত্রীবাহী ফেরি ঘুরিয়ে এনে সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদকে তোলার ঘটনায় যাত্রীদের দুর্ভোগের অভিযোগ উঠেছে। চেয়ারম্যান ঘাট থেকে নলচিরা ঘাটের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া ফেরি মহানন্দা প্রায় ২৩ মিনিট চলার পর আবার চেয়ারম্যান ঘাটে ফিরে আসে।

ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদ ও ছয় বিশ্ববিদ্যালয়ে আসছে নতুন নেতৃত্ব

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় কমিটির পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি), জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি), জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি), শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (শেকৃবি), রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নতুন কমিটি ঘোষণা হতে পারে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। সম্ভাব্য নতুন নেতৃত্বকে ঘিরে সংগঠনের ভেতরে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা।

১১ দলীয় জোটকে হারানোর ষড়যন্ত্রে অন্তর্বর্তী সরকারও ছিল: জামায়াত আমির

বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান দাবি করেছেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যে ষড়যন্ত্র হয়েছে, তাতে অন্তর্বর্তী সরকারও জড়িত ছিল। তিনি বলেন, সরকার নিজেই স্বীকার করেছে যে ষড়যন্ত্র করে ১১ দলীয় জোটকে হারানো হয়েছে।

যুবদলের জরুরি সভায় সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের তর্কাতর্কি, বৈঠক পণ্ড

সদ্য ঘোষিত যুবদলের নির্বাহী কমিটিতে নিষ্ক্রিয় ও বিতর্কিত ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর তা নিয়ে আলোচনা করতে ডাকা জরুরি সভায় সংগঠনটির সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়নের মধ্যে তর্কাতর্কির ঘটনা ঘটেছে। একপর্যায়ে বৈঠকের পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় সভা স্থগিত করা হয়।