তরুণ নেতৃত্বাধীন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে গড়া নির্বাচনী জোটকে রাজনৈতিক জোটে রূপান্তরের বিষয়টি বিবেচনা করছে। যদিও শীর্ষ নেতারা আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে স্পষ্ট বক্তব্য দেননি, তবে দলীয় অভ্যন্তরীণ সূত্র বলছে সংসদের ভেতরে ও বাইরে সংস্কার ইস্যুতে যৌথভাবে কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
দলটির কয়েকজন নেতা মনে করছেন, এ ধরনের জোট শক্তিশালী বিরোধী দল গঠনে সহায়ক হতে পারে এবং জুলাই সনদের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ সাংবিধানিক সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নিতে ভূমিকা রাখবে।
জুলাই আন্দোলনের সামনের সারির নেতাদের নিয়ে গঠিত এনসিপি গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোটে অংশ নেয়। একই জোটে থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও অংশ নেওয়ার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন দলীয় সূত্র।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নেতা বলেন, সংসদে বিরোধী দলের প্রধান হুইপ হিসেবে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের নির্বাচিত হওয়া দুই দলের মধ্যে আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক সমন্বয়ের ইঙ্গিত দেয়।
দলের নির্বাচন ব্যবস্থাপনা কমিটির সচিব মনিরা শারমিন বলেন, “এটি একটি রাজনৈতিক জোট, যা সংস্কারমূলক কার্যক্রম ও নির্বাচনকেন্দ্রিক সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। সংসদে যৌথভাবে কাজ করার সুযোগ থাকলে অংশীদাররা তা কাজে লাগাবে।”
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জামায়াতের সমর্থন নিয়ে মাঠে নামার চিন্তাভাবনা করছে এনসিপি। সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন দলটির প্রধান সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী (ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন) এবং মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া (ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন)।
স্থানীয় সরকার বিভাগ ইতোমধ্যে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে নির্বাচন কমিশনকে অনুরোধ জানিয়েছে। ঈদুল ফিতরের পর নির্বাচন আয়োজনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এনসিপির সদস্য-সচিব আখতার হোসেন এ বিষয়ে সরাসরি কিছু না বললেও জানান, “নির্বাচনকেন্দ্রিক জোটের প্রেক্ষাপট এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি। তাই এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়ার সময় আসেনি।”
তিনি বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে জোট স্বাভাবিক বিষয়। দেশের প্রয়োজন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় এনসিপি সিদ্ধান্ত নেবে। একই সঙ্গে তিনি জানান, দল নিজস্ব সাংগঠনিক বিস্তার ও ‘শাপলা কলি’ প্রতীকের প্রচারে গুরুত্ব দেবে।
গত বছরের অক্টোবরে এনসিপি এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কথা বললেও ২৮ ডিসেম্বর নাহিদ ইসলাম জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটে যোগ দেওয়ার ঘোষণা দেন। সে সময় তিনি বলেছিলেন, “এটি কোনো আদর্শিক জোট নয়, এটি একটি নির্বাচনী সমঝোতা।”
তবে নির্বাচনের পর জোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি। দলীয় নেতারা বলছেন, সংস্কার ইস্যুতে ঐক্য বজায় রাখাই তাদের প্রধান অগ্রাধিকার।










