রাজনীতি


ইনকিলাব মঞ্চের কেউ ঢাকা-৮ আসনে নির্বাচনে দাঁড়াবেন না: আবদুল্লাহ আল জাবের


দুরবীন ডেস্ক

দুরবীন ডেস্ক

প্রকাশিত:২৯ ডিসেম্বর ২০২৫, ০১:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার

ইনকিলাব মঞ্চের কেউ ঢাকা-৮ আসনে নির্বাচনে দাঁড়াবেন না: আবদুল্লাহ আল জাবের

শহীদ ওসমান হাদির মতো যোগ্যতা ও আদর্শে পৌঁছানো পর্যন্ত ইনকিলাব মঞ্চের কেউ ঢাকা-৮ আসনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হবেন না বলে ঘোষণা দিয়েছেন সংগঠনটির সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ইনকিলাব মঞ্চ কখনো সহানুভূতি বা আবেগনির্ভর রাজনীতি করবে না।

 

সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) বিকেলে রাজধানীর শাহবাগ মোড়ে চলমান অবরোধ কর্মসূচি থেকে তিনি এ ঘোষণা দেন। এর আগে দুপুর সোয়া ২টা থেকে শহীদ শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে চতুর্থ দিনের মতো শাহবাগ অবরোধ করে ইনকিলাব মঞ্চ। গত শুক্রবার থেকে প্রতিদিনই তারা এই কর্মসূচি পালন করে আসছে।

 

নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রসঙ্গে আবদুল্লাহ আল জাবের বলেন, অনেকেই ঢাকা-৮ আসনে ইনকিলাব মঞ্চের কাউকে প্রার্থী করার অনুরোধ জানালেও সংগঠনটি সে পথে যাচ্ছে না। তিনি বলেন, ইনকিলাব মঞ্চ কোনো রাজনৈতিক দল নয়; এটি একটি সাংস্কৃতিক আন্দোলন ও রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টিকারী প্ল্যাটফর্ম। শহীদ ওসমান হাদিও ইনকিলাব মঞ্চের ব্যানারে নয়, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিতে চেয়েছিলেন।

 

তিনি আরও বলেন, ইনকিলাব মঞ্চ কোনো দিন ক্ষমতার কাছে নিজেকে বর্গা দেবে না, ক্ষমতার মুখাপেক্ষী হবে না। ওসমান হাদি রাজনীতিতে আসেননি ক্ষমতার জন্য, তিনি এসেছিলেন ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের রাজনীতির রূপরেখা দিতে।

 

রাজনৈতিক দলগুলোর উদ্দেশে তিনি বলেন, বিএনপি, জামায়াত কিংবা এনসিপি সবারই নিজস্ব রাজনৈতিক এজেন্ডা থাকবে। তবে জনগণ এখন তাদের কাছে শহীদ হাদি হত্যার বিচার চায়। এই বিচারে কেউ সোচ্চার না হলে জনগণই নির্বাচনে তার জবাব দেবে।

 

শহীদ ওসমান হাদির নাম ব্যবহার করে রাজনীতি করার চেষ্টার সমালোচনা করে আবদুল্লাহ আল জাবের বলেন, জনগণ আবেগ নয়, অতীত ও বর্তমান হিসাব মিলিয়েই ভোট দেবে। যারা খুনিদের জামিন করিয়েছে বা টক শোতে শহীদ হাদিকে হেয় করেছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়াও তিনি প্রশ্নবিদ্ধ করেন।

 

উপদেষ্টাদের উদ্দেশে কঠোর ভাষায় তিনি বলেন, এই শীতে রাষ্ট্র যেন কম্বলের নিচে ঘুমিয়ে আছে। কিন্তু জনগণ রাষ্ট্রের পাহারাদার হয়ে শাহবাগে দাঁড়িয়ে আছে। ওসমান হাদি হত্যার সঙ্গে জড়িত রাঘববোয়ালদের নাম প্রকাশ করুন। জনগণ আপনাদের পাহারা দেবে। আর যদি সমঝোতার পথে যান, তাহলে আপনারা ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারবেন না।

 

শাহবাগ অবরোধ নিয়ে অপপ্রচারের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, বিকল্প সড়ক থাকা সত্ত্বেও আন্দোলনকারীদের ভোগান্তির দায় চাপানো হচ্ছে। এই শীতে কোনো ভাড়াটে লোক নয়, খুনিদের বিচারের দাবিতে সাধারণ মানুষই শাহবাগে অবস্থান করছে। বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে বলেও তিনি ঘোষণা দেন।

আইন উপদেষ্টার সমালোচনা করে আবদুল্লাহ আল জাবের বলেন, জুলাইয়ের আসামিদের জামিন দেওয়ার ঘটনায় আইন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দায় এড়াতে পারে না। রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির পূর্ণ দায় সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টাদেরই নিতে হবে।


সম্পর্কিত

ইনকিলাব মঞ্চনির্বাচনওসমান হাদি

জনপ্রিয়


রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

মাঝনদী থেকে ফেরি ফিরিয়ে এমপি হান্নান মাসউদকে তোলা, ভোগান্তিতে যাত্রীরা

নোয়াখালীর হাতিয়ায় মাঝনদী থেকে যাত্রীবাহী ফেরি ঘুরিয়ে এনে সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদকে তোলার ঘটনায় যাত্রীদের দুর্ভোগের অভিযোগ উঠেছে। চেয়ারম্যান ঘাট থেকে নলচিরা ঘাটের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া ফেরি মহানন্দা প্রায় ২৩ মিনিট চলার পর আবার চেয়ারম্যান ঘাটে ফিরে আসে।

ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদ ও ছয় বিশ্ববিদ্যালয়ে আসছে নতুন নেতৃত্ব

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় কমিটির পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি), জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি), জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি), শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (শেকৃবি), রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নতুন কমিটি ঘোষণা হতে পারে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। সম্ভাব্য নতুন নেতৃত্বকে ঘিরে সংগঠনের ভেতরে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা।

১১ দলীয় জোটকে হারানোর ষড়যন্ত্রে অন্তর্বর্তী সরকারও ছিল: জামায়াত আমির

বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান দাবি করেছেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যে ষড়যন্ত্র হয়েছে, তাতে অন্তর্বর্তী সরকারও জড়িত ছিল। তিনি বলেন, সরকার নিজেই স্বীকার করেছে যে ষড়যন্ত্র করে ১১ দলীয় জোটকে হারানো হয়েছে।

যুবদলের জরুরি সভায় সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের তর্কাতর্কি, বৈঠক পণ্ড

সদ্য ঘোষিত যুবদলের নির্বাহী কমিটিতে নিষ্ক্রিয় ও বিতর্কিত ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর তা নিয়ে আলোচনা করতে ডাকা জরুরি সভায় সংগঠনটির সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়নের মধ্যে তর্কাতর্কির ঘটনা ঘটেছে। একপর্যায়ে বৈঠকের পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় সভা স্থগিত করা হয়।