জাতীয়
তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফর কৌশলগত সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে: প্রধানমন্ত্রী
বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে কৌশলগত অংশীদারত্বের পর্যায়ে উন্নীত করার পথে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের ঢাকা সফর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রথম পদক্ষেপ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শনিবার (৫ জুন) বাংলাদেশ সফররত তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করলে তিনি এ মন্তব্য করেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে বাংলাদেশ ও তুরস্ক প্রতিবছর পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের অংশগ্রহণে ‘২+২ বৈঠক’ আয়োজনের বিষয়ে নীতিগতভাবে একমত হয়েছে। একই সঙ্গে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে নিয়মিত বার্ষিক বৈঠক আয়োজনের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।
এছাড়া রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সহযোগিতা আরও জোরদার করতে সংশ্লিষ্ট পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের অধীনে একটি যৌথ পরামর্শক কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এতে দুই দেশের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন।
সৌজন্য সাক্ষাতে রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, যৌথ উৎপাদন, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশ সফরের জন্য তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান এবং সুবিধাজনক সময়ে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।
বৈঠকে হাকান ফিদান তুরস্কের প্রেসিডেন্টের শুভেচ্ছা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে পৌঁছে দেন। এ সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ এবং প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির উপস্থিত ছিলেন।
তিন দিনের সফর শেষে নিজের প্রতিক্রিয়ায় হাকান ফিদান বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে একটি নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করেছে এবং দেশটির শান্তি, সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে যে প্রচেষ্টা চলছে, তা অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক।
তিনি আরও বলেন, “তুরস্ক ও বাংলাদেশের বন্ধুত্ব কেবল অভিন্ন স্বার্থের ওপর প্রতিষ্ঠিত নয়; এটি এমন দুটি জাতির বন্ধন, যারা সংকটের সময় একে অপরের পাশে দাঁড়িয়েছে। ভবিষ্যতেও আমরা এই সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করতে কাজ করে যাব।”
সফরের অংশ হিসেবে কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরও পরিদর্শন করেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। সেখানে তিনি বলেন, ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ একটি বড় মানবিক দায়িত্ব পালন করছে। রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী ও ন্যায়সঙ্গত সমাধান খুঁজে বের করাই দুই দেশের অভিন্ন লক্ষ্য।
এদিকে, সম্প্রতি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানকে অভিনন্দন জানান হাকান ফিদান এবং তার সফল দায়িত্ব পালনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিরক্ষা, বাণিজ্য, প্রযুক্তি ও কৌশলগত সহযোগিতার নতুন উদ্যোগ দুই দেশের সম্পর্ককে ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড় করাবে।
সম্পর্কিত
জনপ্রিয়
সর্বশেষ
জাতীয় থেকে আরও পড়ুন
শেখ হাসিনা ফিরলে আত্মসমর্পণ করে জেলে যেতে হবে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে আত্মসমর্পণ করে কারাগারে যেতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি বলেন, শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে এবং দেশে ফেরার পর প্রচলিত আইন অনুযায়ী তাঁর বিরুদ্ধে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বন্যায় প্রাণহানির জন্য ফ্যাসিস্ট সরকারের অপরিকল্পিত উন্নয়ন দায়ী: রিজভী
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, বিগত সরকারের অপরিকল্পিত উন্নয়ন এবং প্রকৃতিবিরোধী অবকাঠামো নির্মাণের কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়েছে। এর ফলেই ব্যাপক প্রাণহানি ও দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

নয়াদিল্লিতে বিমসটেক বৈঠকে অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশ
দিল্লি বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমানের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার বিষয়ে ভারতের দেওয়া ব্যাখ্যা প্রত্যাখ্যান করলেও আসন্ন ‘বিমসটেক ন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যাডভাইজার্স মিটিং’-এ অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ।

জুবাইদার স্মৃতিবিজড়িত হোস্টেলে প্রধানমন্ত্রী, শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাস
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান শনিবার ঢাকা মেডিকেল কলেজের (ডিএমসি) কাজী ফজলুল হক মহিলা হোস্টেল পরিদর্শন করেছেন। এ সময় হোস্টেলের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে কিছু সময় কাটান তারা।








