জাতীয়


সংরক্ষিত নারী আসনে এমপি নির্বাচন কীভাবে


সহ-সম্পাদক

শাহারিয়া নয়ন

প্রকাশিত:২০ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:১৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার

সংরক্ষিত নারী আসনে এমপি নির্বাচন কীভাবে

২০১৩ সালে বিএনপির ডাকা হরতালের সমর্থনে বিএনপির নারী সংসদ সদস্যদের মিছিল


বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচনের পদ্ধতি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা ও সমালোচনা রয়েছে। সরাসরি ভোটের পরিবর্তে পরোক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে এসব আসনে এমপি নির্বাচিত হওয়ায় নারীর প্রকৃত ক্ষমতায়ন কতটা হচ্ছে তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে বারবার।

 

এখন থেকে প্রায় চার দশক আগে সাপ্তাহিক যায়যায়দিন পত্রিকায় ‘সংসদের শোভা তিরিশ সেট অলংকার’ শিরোনামে একটি প্রচ্ছদ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল। তখন সংসদে ৩০টি সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন ঘিরে নানা তৎপরতা ও প্রতিযোগিতার বিষয়টি ব্যঙ্গাত্মকভাবে তুলে ধরা হয়। প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়। সে সময় রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকা হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ এ নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান। পরে জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা পত্রিকাটির কার্যালয়ে হামলা চালায় এবং সংখ্যাটি নিষিদ্ধ করা হয় বলে উল্লেখ করেছেন গবেষক মহিউদ্দিন আহমদ

 

বর্তমানে সংরক্ষিত নারী আসনের সংখ্যা ৫০টি। শুরুতে ১৫টি আসন দিয়ে যাত্রা শুরু হলেও ধাপে ধাপে তা বাড়ানো হয়েছে। ১৯৭৯ ও ১৯৮৬ সালের সংসদে ৩০টি আসন ছিল, ১৯৮৮-৯০ মেয়াদে সংরক্ষিত আসন ছিল না। ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালের সংসদে আবার ৩০টি আসন রাখা হয়। অষ্টম সংসদে তা বাড়িয়ে ৪৫ এবং নবম সংসদ থেকে ৫০টি করা হয়।

 

যেভাবে নির্বাচন হয়

আইন অনুযায়ী, সাধারণ নির্বাচনে একটি রাজনৈতিক দল যতগুলো আসনে জয়ী হয়, তার ভিত্তিতে সংরক্ষিত নারী আসন বণ্টন করা হয়। সাধারণভাবে প্রতি ছয়টি সাধারণ আসনের বিপরীতে একটি করে সংরক্ষিত আসন পায় দলগুলো। অর্থাৎ কোনো দল যদি ছয়টি আসনে জয়ী হয়, তবে তারা একটি সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়ন দিতে পারে।

এরপর সংশ্লিষ্ট দল থেকে একাধিক নারী প্রার্থী মনোনয়ন পেতে পারেন এবং সেই দলের নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের ভোটে একজন প্রার্থী নির্বাচিত হন। ফলে সাধারণ জনগণ সরাসরি এই আসনে ভোট দেওয়ার সুযোগ পান না।

 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৯টি আসনে ভোট অনুষ্ঠিত হয়, যদিও একটি আসনে প্রার্থীর মৃত্যু এবং দুটি আসনের ফল স্থগিত থাকায় ২৯৭টি আসনের ফলাফল কার্যকর রয়েছে। এই ফলাফলের ভিত্তিতে সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

 

এবারের নির্বাচনে বিএনপি জোট মোট ২১২টি আসনে জয় পেয়েছে। সে অনুযায়ী তারা প্রায় ৩৫টি সংরক্ষিত নারী আসন পেতে পারে, বাকি তিনটি আসনের ফল চূড়ান্ত হলে আরও একটি আসন বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে জামায়াত জোট ৭৭টি আসনের বিপরীতে ১২ থেকে ১৩টি আসন পেতে পারে। স্বতন্ত্র প্রার্থীরা একত্র হলে একটি আসন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

 

নির্বাচন কমিশন বাংলাদেশ জানিয়েছে, সাধারণ নির্বাচনের গেজেট প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেছেন, দলগুলো তালিকা দিলে আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হবে।

 

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে ২৯৯টি আসনে নারী প্রার্থী ছিলেন ৮৬ জন। এর মধ্যে নির্বাচিত হয়েছেন মাত্র সাতজন, যার ছয়জনই বিএনপির এবং একজন বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী।

 

ফলে সংসদে নারীদের প্রতিনিধিত্ব অনেকাংশেই সংরক্ষিত আসনের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।

 

গবেষক মহিউদ্দিন আহমদ মনে করেন, বর্তমান পদ্ধতিতে নারীর প্রকৃত ক্ষমতায়ন নিশ্চিত হয় না, কারণ তারা সরাসরি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হন না।

বিশ্লেষকদের মতে, অনেক ক্ষেত্রে তৃণমূলের সক্রিয় নারী নেত্রীরা মনোনয়ন থেকে বঞ্চিত হন, আর দলীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যরা সহজেই সুযোগ পান এমন অভিযোগও রয়েছে।

 

নির্বাচন বিশ্লেষক জেসমিন টুলীর মতে, সংসদের ৩০০ সাধারণ আসনের বিপরীতে ৫০টি সংরক্ষিত আসন থাকায় প্রতি ছয়টি আসনের জন্য একটি করে নারী এমপি নির্বাচনের সুযোগ তৈরি হয়।

 

বিগত কয়েকটি নির্বাচনে দেখা গেছে, দলগুলো তাদের নির্ধারিত প্রার্থীদের মনোনয়ন দেওয়ার ফলে অনেক ক্ষেত্রে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংরক্ষিত নারী আসনের এমপিরা নির্বাচিত হয়েছেন।

 

২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও তাদের মিত্ররা সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর সংরক্ষিত নারী আসনের ৪৮টিতেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় পেয়েছিল। জাতীয় পার্টি পেয়েছিল দুটি আসন।


সম্পর্কিত

জাতীয়নারী আসনসংরক্ষিত নারী আসননির্বাচন

জনপ্রিয়


জাতীয় থেকে আরও পড়ুন

শেখ হাসিনা ফিরলে আত্মসমর্পণ করে জেলে যেতে হবে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে আত্মসমর্পণ করে কারাগারে যেতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি বলেন, শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে এবং দেশে ফেরার পর প্রচলিত আইন অনুযায়ী তাঁর বিরুদ্ধে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বন্যায় প্রাণহানির জন্য ফ্যাসিস্ট সরকারের অপরিকল্পিত উন্নয়ন দায়ী: রিজভী

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, বিগত সরকারের অপরিকল্পিত উন্নয়ন এবং প্রকৃতিবিরোধী অবকাঠামো নির্মাণের কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়েছে। এর ফলেই ব্যাপক প্রাণহানি ও দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

নয়াদিল্লিতে বিমসটেক বৈঠকে অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশ

দিল্লি বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমানের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার বিষয়ে ভারতের দেওয়া ব্যাখ্যা প্রত্যাখ্যান করলেও আসন্ন ‘বিমসটেক ন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যাডভাইজার্স মিটিং’-এ অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ।

জুবাইদার স্মৃতিবিজড়িত হোস্টেলে প্রধানমন্ত্রী, শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাস

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান শনিবার ঢাকা মেডিকেল কলেজের (ডিএমসি) কাজী ফজলুল হক মহিলা হোস্টেল পরিদর্শন করেছেন। এ সময় হোস্টেলের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে কিছু সময় কাটান তারা।