জাতীয়


যেসব সুযোগ–সুবিধা পাবেন সংসদ সদস্যরা


দূরবিন ডেস্ক

দূরবিন ডেস্ক

প্রকাশিত:১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৫:৪৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার

যেসব সুযোগ–সুবিধা পাবেন সংসদ সদস্যরা

সংসদ ভবন । ছবি: সংগৃহীত


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে গত বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি)। ২৯৭টি আসনে ২৯৭ জন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। নির্বাচিত এমপিদের গেজেট প্রকাশ করা হয় শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে।

 

বাংলাদেশের সংসদ সদস্যরা রাষ্ট্রীয়ভাবে নির্ধারিত বিভিন্ন বেতন, ভাতা ও সুযোগ–সুবিধা পেয়ে থাকেন। এসব সুবিধা নির্ধারিত হয়েছে ‘মেম্বার অব পার্লামেন্ট (রিমিউনারেশন অ্যান্ড অ্যালাউন্সেস) অর্ডার, ১৯৭৩’ অনুযায়ী, যা সময়ের সঙ্গে একাধিকবার সংশোধন করা হয়েছে। সর্বশেষ সংশোধন হয় ২০১৬ সালে।

 

মাসিক বেতন ও ভাতা

একজন সংসদ সদস্য মাসিক মূল বেতন হিসেবে পান ৫৫ হাজার টাকা। এর পাশাপাশি নির্বাচনি এলাকা ভাতা ১২ হাজার ৫০০ টাকা এবং আপ্যায়ন ভাতা ৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়।

 

পরিবহন ভাতা হিসেবে মাসে ৭০ হাজার টাকা পান এমপিরা। এই ভাতার মধ্যে জ্বালানি ব্যয়, গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ ও চালকের বেতন অন্তর্ভুক্ত। নির্বাচনি এলাকায় অফিস পরিচালনার জন্য মাসে ১৫ হাজার টাকা অফিস ব্যয় ভাতা দেওয়া হয়।

 

ব্যক্তিগত খাতে রয়েছে ১ হাজার ৫০০ টাকা লন্ড্রি ভাতা এবং ৬ হাজার টাকা বিবিধ ব্যয় ভাতা, যা বাসনপত্র, বিছানাপত্র, টয়লেট্রিজসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর জন্য নির্ধারিত।

 

শুল্কমুক্ত গাড়ি সুবিধা

সংসদ সদস্যদের অন্যতম বড় সুবিধা হলো শুল্ক ও করমুক্ত গাড়ি আমদানির সুযোগ। মেয়াদকালে সরকার নির্ধারিত শর্তে একজন এমপি শুল্ক, ভ্যাট ও অন্যান্য কর ছাড়াই একটি গাড়ি, জিপ বা মাইক্রোবাস আমদানি করতে পারেন। পাঁচ বছর পর একই শর্তে পুনরায় নতুন একটি গাড়ি আমদানির সুযোগও রয়েছে।

 

ভ্রমণ ও দৈনিক ভাতা

সংসদের অধিবেশন, কমিটির সভা ও দায়িত্বসংক্রান্ত কাজে ভ্রমণের জন্য আলাদা ভাতা পান এমপিরা। রেল, বিমান বা নৌপথে ভ্রমণের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ শ্রেণির ভাড়ার দেড় গুণ ভাতা দেওয়া হয়। সড়কপথে কিলোমিটারপ্রতি নির্ধারিত হারে ভাতা প্রদান করা হয়।

 

দেশের ভেতরে যাতায়াতের জন্য বছরে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা ভ্রমণ ভাতা অথবা সমমূল্যের ট্রাভেল পাস সুবিধা রয়েছে।

 

দায়িত্বস্থলে অবস্থানকালে প্রতিদিন ৭৫০ টাকা দৈনিক ভাতা ও ৭৫ টাকা যাতায়াত ভাতা দেওয়া হয়। সংসদ অধিবেশন বা কমিটির সভায় উপস্থিতির ভিত্তিতে প্রতিদিন ৮০০ টাকা দৈনিক ভাতা ও ২০০ টাকা যাতায়াত ভাতা প্রদান করা হয়।

 

চিকিৎসা ও বীমা সুবিধা

সংসদ সদস্য ও তাঁদের পরিবার সরকারি প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তাদের সমমানের চিকিৎসা সুবিধা পান। এ ছাড়া মাসে ৭০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা দেওয়া হয়।

 

নিরাপত্তার বিষয় বিবেচনায় সংসদ সদস্যদের জন্য ১০ লাখ টাকার বীমা সুবিধা রয়েছে। দায়িত্ব পালনকালে দুর্ঘটনায় মৃত্যু বা স্থায়ী পঙ্গুত্বের ক্ষেত্রে এই বীমা কার্যকর হয়।

 

অনুদান ও টেলিযোগাযোগ সুবিধা

প্রত্যেক সংসদ সদস্য বছরে সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত একটি ঐচ্ছিক অনুদান তহবিল ব্যবহার করতে পারেন, যা নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী ব্যয় করতে হয়।

 

টেলিযোগাযোগ সুবিধার অংশ হিসেবে বাসভবনে সরকারি খরচে একটি টেলিফোন সংযোগ দেওয়া হয়। এ খাতে মাসে ৭ হাজার ৮০০ টাকা টেলিফোন ভাড়া ও কল খরচ বাবদ বরাদ্দ রয়েছে।

 

কর–সংক্রান্ত বিধান

আইন অনুযায়ী, সংসদ সদস্যদের প্রাপ্ত সব ভাতা আয়করমুক্ত। অর্থাৎ এসব ভাতার ওপর কোনো আয়কর প্রযোজ্য নয়।


সম্পর্কিত

জাতীয়সংসদ সদস্যসংসদ নির্বাচন

জনপ্রিয়


জাতীয় থেকে আরও পড়ুন

সংসদে শোকপ্রস্তাবে সাঈদী, হাদি, আবরার ফাহাদের নাম যুক্ত করার দাবি বিরোধীদলের

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে উত্থাপিত শোকপ্রস্তাবে আরও কয়েকজন ব্যক্তির নাম অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছে বিরোধীদল।

‘আজ থেকে বাংলাদেশে গণতন্ত্রের নতুন যাত্রা শুরু’- সংসদে তারেক রহমান

সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে আবারও গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু হলো।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ও ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালকে শপথ পড়ালেন রাষ্ট্রপতি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম) এবং ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালকে শপথ পড়িয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ, ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সংসদ সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম)। একই অধিবেশনে ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হয়েছেন সংসদ সদস্য ও ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।