ফুটবল


৪৬ বছর বয়সে অবসর ভেঙে ফুটবলে ফিরলেন রোনালদিনহো


খেলা ডেস্ক

খেলা ডেস্ক

প্রকাশিত:২৪ জুন ২০২৬, ০১:১০ অপরাহ্ন, বুধবার

৪৬ বছর বয়সে অবসর ভেঙে ফুটবলে ফিরলেন রোনালদিনহো

ফুটবলকে বিদায় জানানোর এক দশকেরও বেশি সময় পর আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ব্রাজিলের কিংবদন্তি ফুটবলার রোনালদিনহো। ৪৬ বছর বয়সে অবসর ভেঙে ইতালির তৃতীয় বিভাগের ক্লাব রাভেন্নায় যোগ দিয়েছেন সাবেক ব্যালন ডি’অরজয়ী এই তারকা। ফুটবল বিশ্বকে বিস্মিত করা তার এই প্রত্যাবর্তনের খবর জানিয়েছে রয়টার্স।

 

২০১৫ সালে ফ্লুমিনেন্সের জার্সিতে সর্বশেষ পেশাদার ফুটবল খেলেছিলেন রোনালদিনহো। এরপর দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে থাকলেও ফুটবলের প্রতি তার ভালোবাসা যে অটুট রয়েছে, সেটিই যেন আবারও প্রমাণ করলেন ব্রাজিলিয়ান এই মহাতারকা।

 

রাভেন্নায় যোগ দিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে রোনালদিনহো বলেন, বহু বছরের বন্ধুত্বের সূত্র ধরেই এই সুযোগ এসেছে এবং নতুন এই যাত্রা নিয়ে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত। একই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন, তার এই সিদ্ধান্ত অন্যদেরও নিজেদের স্বপ্ন পূরণে অনুপ্রাণিত করবে।

 

রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রোনালদিনহো বলেন, “চিপ্রিয়ানি পরিবারের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব এবং পারস্পরিক আস্থার কারণেই এই সুযোগ তৈরি হয়েছে। আমরা চাই রাভেন্না আরও এগিয়ে যাক এবং ক্লাবটি নতুন সাফল্যের পথে হাঁটুক।”

 

ইতালির এমিলিয়া-রোমাগনা অঞ্চলের ছোট্ট শহর রাভেন্নার ক্লাবটি সাধারণত আন্তর্জাতিক ফুটবল অঙ্গনে খুব বেশি আলোচনায় থাকে না। প্রায় ১২ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার স্টেডিয়াম নিয়ে সিরি সি-তে খেলা ক্লাবটি রোনালদিনহোর আগমনের পর মুহূর্তেই বৈশ্বিক আলোচনায় উঠে এসেছে।

 

ক্লাবটির মালিক ইগ্নাজিও চিপ্রিয়ানি ২০২৪ সালে রাভেন্না কিনেছিলেন দলটিকে একদিন ইতালির শীর্ষ লিগ সিরি আ-তে নিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন নিয়ে। তার মতে, রোনালদিনহো শুধু একজন ফুটবলার নন, বরং বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম বড় আইকন, যার উপস্থিতি ক্লাবের জনপ্রিয়তা ও পরিচিতি বহুগুণ বাড়াবে।

 

তবে রোনালদিনহো নিয়মিত মাঠে খেলবেন কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তার ভূমিকার একটি বড় অংশ ক্লাবের ব্র্যান্ডিং ও বৈশ্বিক প্রচারণা কার্যক্রম ঘিরেও হতে পারে। যদিও ক্লাব কর্তৃপক্ষ তাকে নিবন্ধিত খেলোয়াড় হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং মাঠে নামার সম্ভাবনাও পুরোপুরি উড়িয়ে দেয়নি।

 

রোনালদিনহো বলেন, “আমি চাই আমার এই সিদ্ধান্ত ইতিবাচক প্রভাব ফেলুক। মানুষ যেন অনুপ্রাণিত হয়, নিজেদের স্বপ্নের পেছনে ছুটতে সাহস পায়। আমিও আমার স্বপ্নগুলো পূরণ করতে পেরেছি, অন্যরাও যেন সেই সুযোগ পায়।”

 

উল্লেখ্য, ২০০২ বিশ্বকাপজয়ী এই তারকা ব্রাজিল জাতীয় দল, বার্সেলোনা, এসি মিলান এবং প্যারিস সেইন্ট-জার্মেইনের হয়ে অসংখ্য স্মরণীয় মুহূর্ত উপহার দিয়েছেন। ক্যারিয়ারের গোধূলিবেলায় এসে আবারও বুটজোড়া পরে নতুন গল্প লেখার সুযোগ পেয়েছেন তিনি। এখন দেখার বিষয়, রাভেন্নার জার্সিতে মাঠে নেমে তিনি পুরোনো সেই জাদুর কতটা পুনরাবৃত্তি করতে পারেন।

 
 

সম্পর্কিত

রোনালদিনহো

জনপ্রিয়


ফুটবল থেকে আরও পড়ুন

বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে আট দল, গোল না হজম করেই অনন্য নজির স্পেনের

চলতি ফুটবল বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালের লড়াই নিশ্চিত করেছে আটটি দল। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা, গত আসরের রানার্সআপ ফ্রান্স, ইংল্যান্ড, নরওয়ে, সুইজারল্যান্ড, মরক্কো, বেলজিয়াম এবং স্পেন শেষ আটে জায়গা করে নিয়েছে। তবে এই আট দলের মধ্যে একমাত্র স্পেনই এখন পর্যন্ত পুরো টুর্নামেন্টে একটি গোলও হজম করেনি। দুর্দান্ত রক্ষণভাগের নৈপুণ্যে তারা গড়েছে অনন্য এক রেকর্ড।

ভোজিনিয়া নাকি মার্তিনেজ, কার হাতে উঠবে গোলকিপারদের লড়াইয়ের মুকুট?

স্পেনকে রুখে দিয়ে এবারের বিশ্বকাপে সবচেয়ে বড় চমকগুলোর একটি দেখিয়েছে কেপ ভার্দে। ইউরোপ চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে গোলপোস্ট অক্ষত রেখে বিশ্বজুড়ে আলোচনায় উঠে এসেছেন দলটির গোলরক্ষক ভোজিনিয়া। দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তার জনপ্রিয়তা বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে।

ইন্টার মায়ামির অনূর্ধ্ব-১৪ দলে শিরোপা জিতল মেসির বড় ছেলে

আর্জেন্টাইন ফুটবল তারকা লিওনেল মেসির বড় ছেলে থিয়াগো মেসি যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টার মায়ামির অনূর্ধ্ব-১৪ দলের হয়ে ‘এমআইসি ফুটবল ২০২৬’ টুর্নামেন্টের শিরোপা জিতেছে। ফাইনালে গট এফসিকে ৩-০ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় ইন্টার মায়ামির যুবারা।

মেসি-রোনালদোর ইতিহাস, চমক আর নাটকীয়তায় জমে উঠল বিশ্বকাপের দ্বিতীয় রাউন্ড

রেকর্ড, নাটকীয়তা, চমক আর আবেগঘন মুহূর্তে ভরপুর ছিল বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের দ্বিতীয় রাউন্ড। একদিকে যেমন ইতিহাস গড়েছেন পর্তুগালের অধিনায়ক ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, অন্যদিকে নতুন রেকর্ডে বিশ্বকাপকে রাঙিয়েছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসি। পাশাপাশি নরওয়ের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান, মিসরের ঐতিহাসিক জয়, ইরানের লড়াকু মানসিকতা এবং তুরস্কের হতাশাজনক বিদায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল।