ক্যাম্পাস
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে বহিষ্কারের দশ বছর পর ন্যায়বিচারের আশায় দুই শিক্ষার্থী

ছবি: সংগৃহীত
দীর্ঘ এক দশক পর ছাত্রত্ব ফিরে পেতে এবং অনার্স সনদ সংগ্রহের সুযোগ পেতে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) দুই বহিষ্কৃত শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছেন। ইসলামী ছাত্র সংস্থার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে ২০১৭ সালে বহিষ্কৃত সীমা আক্তার (১২০৬৪৬) ও মাইশা ইসলাম (১৩১১০৫) গত বছরের ১ জানুয়ারি রেজিস্ট্রারের কাছে বহিষ্কার আদেশ প্রত্যাহার, বিএসসি সনদপত্র উত্তোলনের ব্যবস্থা এবং ক্ষতিপূরণের জন্য আবেদন করেন।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, ২০১৫ সালের ১৪ নভেম্বর অপরাজিতা হলের নামাজ কক্ষে একটি গোপন বৈঠকের অভিযোগ ওঠে। তদন্তে দেখা যায়, তিনজন বহিরাগতসহ সাতজন শিক্ষার্থী সেখানে উপস্থিত ছিলেন। হলের কেয়ারটেকার বিষয়টি প্রভোস্টকে জানালে বহিরাগতদের পুলিশে সোপর্দ করা হয় এবং অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়।
সীমা আক্তার দাবি করেন, ঘটনার দিন তিনি ডিসিপ্লিনের সেশনাল ট্যুরে কক্সবাজারে ছিলেন, আর মাইশা ইসলাম বলেন, তিনি শুধু নামাজ আদায়ের জন্য কক্ষে গিয়েছিলেন।
প্রায় ১০ মাস পর, ২০১৬ সালের ৮ আগস্ট তৎকালীন ছাত্রবিষয়ক পরিচালক অধ্যাপক ড. অনির্বাণ মোস্তফাকে সভাপতি করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। ২৯ ডিসেম্বর কমিটির প্রতিবেদন জমা হয়, যেখানে পাঁচ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত উল্লেখ করে তাদের বহিষ্কারের সুপারিশ করা হয়।
সীমা আক্তার বলেন, “তদন্ত কমিটি আমাকে একটি কাগজে স্বাক্ষর করতে বলেছিল এবং অভিযোগ খারিজের আশ্বাস দিয়েছিল। কিন্তু সেই কাগজই পরে আমার বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হয়। রাজনৈতিক সন্দেহের ভিত্তিতে শাস্তি দেওয়া হয়েছে, অথচ কোনো অপরাধ করিনি। আমরা অন্তত অনার্সের সনদ চাই।”
২০২৫ সালে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনে পরিবর্তনের পর দুই শিক্ষার্থীর আবেদনকে গুরুত্ব দিয়ে নতুন করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। লাইফ সায়েন্স স্কুলের ডিন অধ্যাপক ড. গোলাম হোসেনের নেতৃত্বে গঠিত কমিটি ইতোমধ্যেই তাদের বক্তব্য ও প্রমাণ গ্রহণ করেছেন। ড. হোসেন বলেন, “ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের বক্তব্য ও প্রমাণ আমরা গ্রহণ করেছি। আশা করছি দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন সম্পন্ন হবে।”
দীর্ঘ দশ বছর পরও ঝুলে থাকা এই বহিষ্কারাদেশ শিক্ষাঙ্গনে নতুন আলোচনা শুরু করেছে। এখন দেখার বিষয়, এই দুই শিক্ষার্থীর ভাগ্যে কী সিদ্ধান্ত আসে।
জনপ্রিয়
ক্যাম্পাস থেকে আরও পড়ুন
ঢাবি শিক্ষিকা শেহরীন মোনামির পদত্যাগ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন অধ্যাপক শেহরীন আমিন ভূঁইয়া (মোনামি)। সোমবার (১১ মে) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি নিজেই বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

বিয়ে করছেন ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম, পাত্রী কে?
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহ-সভাপতি (ভিপি) এবং বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক সম্পাদক সাদিক কায়েম বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন। আগামী ১৩ মে তার বিয়ের অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে বলে ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির পদত্যাগসহ ৯ দফা দাবি ছাত্রদলের
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হায়দার আলীর পদত্যাগসহ ৯ দফা দাবি জানিয়েছে শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। বুধবার (৬ মে) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি উপস্থাপন করেন সংগঠনটির নেতারা।

অভিযোগের মুখে খুবির বিজয়-২৪ হলের প্রভোস্টকে অব্যাহতি, তদন্ত কমিটি গঠন
অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচরিতার অভিযোগের প্রেক্ষিতে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের ‘বিজয়-২৪’ হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক সাঈদা রেহেনাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ খতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।









