বাংলাদেশ


রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নির্ভর করছে মিয়ানমারের সদিচ্ছার ওপর: পররাষ্ট্রমন্ত্রী


নিজস্ব প্রতিবেদক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত:১৭ জুন ২০২৬, ০১:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নির্ভর করছে মিয়ানমারের সদিচ্ছার ওপর: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন একটি জটিল, সংবেদনশীল ও বহুমাত্রিক আন্তর্জাতিক ইস্যু, এবং এর অগ্রগতি অনেকাংশেই মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের সদিচ্ছা, রাখাইন রাজ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক চাপের ওপর নির্ভর করছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।

 

বুধবার (১৭ জুন) জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্যের তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অধিবেশনটি অনুষ্ঠিত হয়।

 

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রাখাইন রাজ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলমান জাতিগত সংঘাত ও যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী কোনো শরণার্থীকে জোরপূর্বক বা অনিরাপদ পরিবেশে ফেরত পাঠানো যায় না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

 

তিনি আরও বলেন, সরকার রাখাইন রাজ্যে স্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে মিয়ানমার সরকার ও আরাকান আর্মির মধ্যে কার্যকর সংলাপের ক্ষেত্র তৈরি করতে কূটনৈতিক উদ্যোগ অব্যাহত রেখেছে।

 

পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা এখনো নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। তবে পরিস্থিতি অনুকূলে এলে নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসন শুরু করার জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। তার ভাষায়, উপযুক্ত সময়ে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের স্থায়ী ও নিরাপদ প্রত্যাবাসন শুরু করাই সরকারের লক্ষ্য।

 

রোহিঙ্গা ক্যাম্পের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও সংসদে তথ্য দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকারের কঠোর নজরদারি ও বিশেষ টাস্কফোর্সের অভিযানের ফলে ক্যাম্পে অপরাধ প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

 

পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি জানান, ২০২৩ সালে ক্যাম্পে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ছিল ৬৬টি, ২০২৪ সালে তা কমে দাঁড়ায় ৪৯টিতে, ২০২৫ সালে ৩৫টিতে নেমে আসে এবং ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসে এ সংখ্যা ৬টিতে সীমিত থাকে।

 

তিনি আরও জানান, বর্তমানে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গার সংখ্যা ১১ লাখ ৮৯ হাজার ২১৩ জন। এদের মধ্যে ৮ লাখ ২৯ হাজার ৩৩৬ জনের তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের জন্য মিয়ানমারের কাছে পাঠানো হয়েছে।

 

রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ সালের জয়েন্ট রেসপন্স প্ল্যানের আওতায় ৯১০.৫ মিলিয়ন ডলারের মানবিক সহায়তার আহ্বান জানানো হয়েছে। এর বিপরীতে এখন পর্যন্ত ২৯১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সহায়তা পাওয়া গেছে বলেও জানান তিনি।

 

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে কোনো রাজনৈতিক অবস্থান নয়, বরং বাস্তবসম্মত ও টেকসই সমাধানের মাধ্যমে প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ।

 

 


সম্পর্কিত

পররাষ্ট্রমন্ত্রীরোহিঙ্গামিয়ানমারপ্রত্যাবাসন

জনপ্রিয়


বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন

ফ্লাইট এক্সপার্টের বিরুদ্ধে ৩৫ কোটি টাকার মানিলন্ডারিং মামলা, অনলাইন ট্রাভেল খাতে আস্থার সংকটের শঙ্কা

অনলাইনভিত্তিক ট্রাভেল সেবা প্রতিষ্ঠান ফ্লাইট এক্সপার্ট (এফইবিডি)-এর বিরুদ্ধে প্রায় ৩৫ কোটি টাকা মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে মামলা করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। বিমানের টিকিটের নামে গ্রাহক ও সাব-এজেন্টদের কাছ থেকে অগ্রিম অর্থ গ্রহণের পর বহু ক্ষেত্রে টিকিট সরবরাহ না করার অভিযোগের প্রেক্ষাপটে এ মামলা করা হয়েছে। খাতসংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, ঘটনাটি দেশের অনলাইন ট্রাভেল এজেন্সি (ওটিএ) খাতের প্রতি গ্রাহকদের আস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

দেশের সড়কে বিওয়াইডির ১ হাজারের বেশি নিউ এনার্জি ভেহিকেল, উদযাপিত হলো নতুন মাইলফলক

বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরুর পর দেশের সড়কে ১ হাজারের বেশি নিউ এনার্জি ভেহিকেল (এনইভি) সরবরাহের মাইলফলক অর্জন করেছে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় নিউ এনার্জি ভেহিকেল (এনইভি) নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বিওয়াইডি। ২০২৪ সালের ৩ মার্চ ফ্ল্যাগশিপ ইলেকট্রিক সেডান ‘বিওয়াইডি সিল’-এর মাধ্যমে বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করার পর থেকে বিভিন্ন মডেলের এনইভি বাজারে এনে ক্রেতাদের চাহিদা পূরণে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি।

রাজধানীসহ কয়েকটি বিভাগে কমতে পারে বৃষ্টির তীব্রতা, বৃহস্পতিবার থেকে আবার বাড়ার আভাস

টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণের পর রাজধানীসহ দেশের কয়েকটি এলাকায় বৃষ্টির তীব্রতা ধীরে ধীরে কমতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। তবে বৃষ্টি পুরোপুরি থেমে যাবে না। বিশেষ করে খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় অতি ভারী বৃষ্টির প্রবণতা কমতে পারে। অন্যদিকে আগামী বৃহস্পতিবার থেকে মৌসুমি বায়ু আবার সক্রিয় হয়ে বৃষ্টিপাত বাড়তে পারে।

চট্টগ্রামে বন্যার্তদের পাশে সেনাবাহিনী, ৩ হাজার পরিবারে ত্রাণ ও ৫ হাজার মানুষকে চিকিৎসাসেবা

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি, হাটহাজারী ও বোয়ালখালী উপজেলাসহ তিন পার্বত্য জেলার বন্যাকবলিত এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য ত্রাণ বিতরণ, উদ্ধার কার্যক্রম এবং জরুরি চিকিৎসাসেবা অব্যাহত রেখেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। এ পর্যন্ত প্রায় ৩ হাজার পরিবারের কাছে ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি ৫ হাজার মানুষকে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বন্যার কারণে বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে আটকে পড়া প্রায় ৩ হাজার পর্যটককে নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।