বাংলাদেশ
মিরপুরে চাঁদাবাজির বিস্তৃত নেটওয়ার্ক, তালিকায় বিএনপির নেতা-কর্মী সহ পুলিশের নাম

মিরপুরের ফুটপাতে গড়ে ওঠা দোকানপাট, যেখান থেকে নিয়মিত চাঁদা তোলার অভিযোগ । ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীর মিরপুর এলাকায় চাঁদাবাজির বিস্তৃত নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছে বলে তথ্য পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। বিভিন্ন খাতে দেড় শতাধিক স্পটে নিয়মিত চাঁদা তোলা হচ্ছে, যেখানে জড়িত ৭২ জন এবং আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন ২৫ জন। তালিকায় স্থানীয় বিএনপির রাজনৈতিক নেতা-কর্মী ও কিছু পুলিশ কর্মকর্তার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও উঠে এসেছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশ মার্চ মাসে রাজধানীজুড়ে চাঁদাবাজদের একটি তালিকা প্রস্তুত করে। এতে চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত হিসেবে ১ হাজার ২৮০ জন এবং আশ্রয়দাতা হিসেবে ৩১৪ জনের নাম রয়েছে। তালিকাটি থানা-পুলিশ, গোয়েন্দা বিভাগ ও বিশেষ শাখার সমন্বয়ে তৈরি করা হয়।
মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বর থেকে ১৩ নম্বর সেকশন পর্যন্ত সড়ক ও ফুটপাতে বিপুলসংখ্যক অস্থায়ী দোকান বসে। সিটি করপোরেশনের জায়গা দখল করে বসা এসব দোকান থেকে প্রতিদিন নির্দিষ্ট হারে চাঁদা তোলা হয়। স্থানীয় হকাররা জানান, দোকানভেদে দৈনিক ১০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত দিতে হয়, যা সংগ্রহ করেন ‘লাইনম্যান’ নামে পরিচিত ব্যক্তিরা।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, মিরপুরের সাতটি থানা এলাকায় ফুটপাত, বাস-ট্রাক পার্কিং, অটোরিকশা গ্যারেজ, লেগুনা স্ট্যান্ড, বস্তি, নির্মাণকাজ, ঝুট ব্যবসা, ইন্টারনেট সংযোগসহ নানা খাতে চাঁদাবাজি চলে। এসব স্পট থেকে মাসে বিপুল অঙ্কের অর্থ আদায় হয়। শুধু মিরপুর ১০ থেকে ১৩ নম্বর সেকশন এলাকায় প্রায় দেড় হাজার দোকান থেকে মাসে প্রায় ৯০ লাখ টাকা চাঁদা ওঠে বলে হিসাব পাওয়া গেছে।
পুলিশের তালিকায় উল্লেখ রয়েছে, চাঁদা তোলার সঙ্গে স্থানীয় বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের কিছু নেতা-কর্মী এবং পেশাদার সন্ত্রাসীরা জড়িত। পাশাপাশি কিছু পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে চাঁদার অর্থ থেকে ভাগ নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। তবে অভিযুক্ত কর্মকর্তারা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
গাবতলী বাস টার্মিনাল, শাহ আলী এলাকা, পল্লবী, রূপনগর ও দারুস সালামসহ বিভিন্ন স্থানে চাঁদাবাজির একাধিক স্পট চিহ্নিত হয়েছে। কোথাও ফুটপাতের দোকান, কোথাও অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ, আবার কোথাও নির্মাণকাজ ও বালু ব্যবসাকে কেন্দ্র করে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।
পল্লবী এলাকায় ‘মামুন বাহিনী’ নামে একটি চক্র আবাসন প্রকল্প, বাজার ও বস্তি থেকে চাঁদা আদায় করে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। গাবতলী এলাকায় বাস টার্মিনাল ও আশপাশের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকেও নিয়মিত চাঁদা তোলার তথ্য পাওয়া গেছে।
ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার এস এন মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘চাঁদাবাজি করলে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
পুলিশ সূত্র জানায়, তালিকা তৈরির পর উচ্চপর্যায়ের নির্দেশে ১ মে থেকে বিশেষ অভিযান শুরু হয়েছে। এতে এখন পর্যন্ত শতাধিক তালিকাভুক্ত চাঁদাবাজ এবং আরও অনেক সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
জনপ্রিয়
সর্বশেষ
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
ফ্লাইট এক্সপার্টের বিরুদ্ধে ৩৫ কোটি টাকার মানিলন্ডারিং মামলা, অনলাইন ট্রাভেল খাতে আস্থার সংকটের শঙ্কা
অনলাইনভিত্তিক ট্রাভেল সেবা প্রতিষ্ঠান ফ্লাইট এক্সপার্ট (এফইবিডি)-এর বিরুদ্ধে প্রায় ৩৫ কোটি টাকা মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে মামলা করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। বিমানের টিকিটের নামে গ্রাহক ও সাব-এজেন্টদের কাছ থেকে অগ্রিম অর্থ গ্রহণের পর বহু ক্ষেত্রে টিকিট সরবরাহ না করার অভিযোগের প্রেক্ষাপটে এ মামলা করা হয়েছে। খাতসংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, ঘটনাটি দেশের অনলাইন ট্রাভেল এজেন্সি (ওটিএ) খাতের প্রতি গ্রাহকদের আস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

দেশের সড়কে বিওয়াইডির ১ হাজারের বেশি নিউ এনার্জি ভেহিকেল, উদযাপিত হলো নতুন মাইলফলক
বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরুর পর দেশের সড়কে ১ হাজারের বেশি নিউ এনার্জি ভেহিকেল (এনইভি) সরবরাহের মাইলফলক অর্জন করেছে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় নিউ এনার্জি ভেহিকেল (এনইভি) নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বিওয়াইডি। ২০২৪ সালের ৩ মার্চ ফ্ল্যাগশিপ ইলেকট্রিক সেডান ‘বিওয়াইডি সিল’-এর মাধ্যমে বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করার পর থেকে বিভিন্ন মডেলের এনইভি বাজারে এনে ক্রেতাদের চাহিদা পূরণে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি।

রাজধানীসহ কয়েকটি বিভাগে কমতে পারে বৃষ্টির তীব্রতা, বৃহস্পতিবার থেকে আবার বাড়ার আভাস
টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণের পর রাজধানীসহ দেশের কয়েকটি এলাকায় বৃষ্টির তীব্রতা ধীরে ধীরে কমতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। তবে বৃষ্টি পুরোপুরি থেমে যাবে না। বিশেষ করে খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় অতি ভারী বৃষ্টির প্রবণতা কমতে পারে। অন্যদিকে আগামী বৃহস্পতিবার থেকে মৌসুমি বায়ু আবার সক্রিয় হয়ে বৃষ্টিপাত বাড়তে পারে।

চট্টগ্রামে বন্যার্তদের পাশে সেনাবাহিনী, ৩ হাজার পরিবারে ত্রাণ ও ৫ হাজার মানুষকে চিকিৎসাসেবা
চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি, হাটহাজারী ও বোয়ালখালী উপজেলাসহ তিন পার্বত্য জেলার বন্যাকবলিত এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য ত্রাণ বিতরণ, উদ্ধার কার্যক্রম এবং জরুরি চিকিৎসাসেবা অব্যাহত রেখেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। এ পর্যন্ত প্রায় ৩ হাজার পরিবারের কাছে ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি ৫ হাজার মানুষকে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বন্যার কারণে বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে আটকে পড়া প্রায় ৩ হাজার পর্যটককে নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।







