বাংলাদেশ
উখিয়ায় পাহাড় কেটে রোহিঙ্গাদের ‘স্থায়ী’ ঘর নির্মাণ, স্থানীয়দের ক্ষোভ বাড়ছে

ছবি: সংগৃহীত
কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড় কেটে ইট ও লোহার কাঠামোর ঘর নির্মাণের অভিযোগে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে অস্থায়ী শেডে বসবাস করা রোহিঙ্গাদের জন্য হঠাৎ টেকসই ঘর নির্মাণের উদ্যোগে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে। তাঁদের আশঙ্কা, এভাবে স্থায়ী অবকাঠামো তৈরি হলে রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আগে বাঁশ ও ত্রিপলের তৈরি অস্থায়ী ঘরে বসবাস করলেও সম্প্রতি কয়েকটি ক্যাম্পে ইট ও লোহার কাঠামো দিয়ে ঘর নির্মাণের কাজ চলছে। এ কাজে পাহাড় কাটা ও বনভূমি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগও উঠেছে। এতে পরিবেশগত ঝুঁকি বাড়ার পাশাপাশি এলাকার ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. আবদুল মান্নান বলেন, শুরুতে রোহিঙ্গাদের সীমান্তবর্তী এলাকায় অস্থায়ীভাবে রাখার পরিকল্পনা ছিল। এখন পাহাড় কেটে স্থায়ী ঘর নির্মাণ করা হলে তা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলবে। দ্রুত এ ধরনের কার্যক্রম বন্ধ না হলে কঠোর কর্মসূচি নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি। একইভাবে উখিয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সুলতান মাহমুদ চৌধুরী বলেন, এই নির্মাণকাজ নিয়ে মানুষের মধ্যে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। বিষয়টি পরিষ্কার করতে সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত ব্যাখ্যা প্রয়োজন।
এদিকে জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর-এর জনসংযোগ কর্মকর্তা মোশারফ হোসেন জানান, বিষয়টি নিয়ে এখনই বিস্তারিত মন্তব্য করা সম্ভব নয়। তবে পরবর্তী কার্যদিবসে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. মিজানুর রহমান পাহাড় কাটার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ পুরোনো ঘর সরিয়ে নতুন শেল্টার তৈরি করা হচ্ছে। এ বিষয়ে সরেজমিনে তদন্তের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রাখাইন রাজ্যে চলমান সংঘাত ও অস্থিরতার কারণে দীর্ঘদিন ধরে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন কার্যক্রম স্থবির রয়েছে। এমন অবস্থায় ক্যাম্পে অবকাঠামোগত পরিবর্তন স্থানীয়দের মনে নতুন আশঙ্কা তৈরি করছে। তাঁদের মতে, এসব উদ্যোগ যদি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হয়, তাহলে তা শুধু পরিবেশ নয়, সামাজিক স্থিতিশীলতার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।
সম্পর্কিত
জনপ্রিয়
সর্বশেষ
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
ফ্লাইট এক্সপার্টের বিরুদ্ধে ৩৫ কোটি টাকার মানিলন্ডারিং মামলা, অনলাইন ট্রাভেল খাতে আস্থার সংকটের শঙ্কা
অনলাইনভিত্তিক ট্রাভেল সেবা প্রতিষ্ঠান ফ্লাইট এক্সপার্ট (এফইবিডি)-এর বিরুদ্ধে প্রায় ৩৫ কোটি টাকা মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে মামলা করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। বিমানের টিকিটের নামে গ্রাহক ও সাব-এজেন্টদের কাছ থেকে অগ্রিম অর্থ গ্রহণের পর বহু ক্ষেত্রে টিকিট সরবরাহ না করার অভিযোগের প্রেক্ষাপটে এ মামলা করা হয়েছে। খাতসংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, ঘটনাটি দেশের অনলাইন ট্রাভেল এজেন্সি (ওটিএ) খাতের প্রতি গ্রাহকদের আস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

দেশের সড়কে বিওয়াইডির ১ হাজারের বেশি নিউ এনার্জি ভেহিকেল, উদযাপিত হলো নতুন মাইলফলক
বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরুর পর দেশের সড়কে ১ হাজারের বেশি নিউ এনার্জি ভেহিকেল (এনইভি) সরবরাহের মাইলফলক অর্জন করেছে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় নিউ এনার্জি ভেহিকেল (এনইভি) নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বিওয়াইডি। ২০২৪ সালের ৩ মার্চ ফ্ল্যাগশিপ ইলেকট্রিক সেডান ‘বিওয়াইডি সিল’-এর মাধ্যমে বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করার পর থেকে বিভিন্ন মডেলের এনইভি বাজারে এনে ক্রেতাদের চাহিদা পূরণে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি।

রাজধানীসহ কয়েকটি বিভাগে কমতে পারে বৃষ্টির তীব্রতা, বৃহস্পতিবার থেকে আবার বাড়ার আভাস
টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণের পর রাজধানীসহ দেশের কয়েকটি এলাকায় বৃষ্টির তীব্রতা ধীরে ধীরে কমতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। তবে বৃষ্টি পুরোপুরি থেমে যাবে না। বিশেষ করে খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় অতি ভারী বৃষ্টির প্রবণতা কমতে পারে। অন্যদিকে আগামী বৃহস্পতিবার থেকে মৌসুমি বায়ু আবার সক্রিয় হয়ে বৃষ্টিপাত বাড়তে পারে।

চট্টগ্রামে বন্যার্তদের পাশে সেনাবাহিনী, ৩ হাজার পরিবারে ত্রাণ ও ৫ হাজার মানুষকে চিকিৎসাসেবা
চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি, হাটহাজারী ও বোয়ালখালী উপজেলাসহ তিন পার্বত্য জেলার বন্যাকবলিত এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য ত্রাণ বিতরণ, উদ্ধার কার্যক্রম এবং জরুরি চিকিৎসাসেবা অব্যাহত রেখেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। এ পর্যন্ত প্রায় ৩ হাজার পরিবারের কাছে ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি ৫ হাজার মানুষকে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বন্যার কারণে বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে আটকে পড়া প্রায় ৩ হাজার পর্যটককে নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।







