বাংলাদেশ–সহ বিশ্বের মুসলিম সমাজে ধর্মপ্রাণ মানুষরা এই বিশেষ ইবাদতের জন্য প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন।
রমজানের শেষ দশ দিন ইতিকাফ করা সুন্নতে মুআক্কাদা কিফায়া হিসেবে গণ্য। অর্থাৎ মহল্লার অন্তত একজন ইতিকাফ করলে অন্যরা দায়মুক্ত হন। তবে কেউ ইতিকাফ না করলে সবাই গুনাহের অংশীদার হতে পারেন।
ইতিকাফ শুরু করতে হবে ২০ রমজান সূর্যাস্তের আগেই মসজিদে প্রবেশের মাধ্যমে। সূর্যাস্ত বা মাগরিবের পর মসজিদে প্রবেশ করলে তা সুন্নত ইতিকাফ হিসেবে গণ্য হবে না; তখন তা নফল ইবাদত হিসেবে ধরা হবে। ইতিকাফ সাধারণত ঈদের চাঁদ দেখার দিন সূর্যাস্তের পর শেষ হয়।
সুন্নত ইতিকাফ:ওয়াজিব ইতিকাফ:নফল ইতিকাফ:যেকোনো সময় করা যায়।
ইতিকাফ শুদ্ধ হওয়ার জন্য নিয়ত করা, পবিত্রতা বজায় রাখা এবং পুরুষদের ক্ষেত্রে জামাত হয় এমন মসজিদে অবস্থান করা জরুরি। সুন্নত ও ওয়াজিব ইতিকাফের জন্য রোজা রাখাও শর্ত।
ইতিকাফ ভেঙে যাওয়ার কারণ
ইতিকাফকারী প্রয়োজন ছাড়া মসজিদ থেকে বের হলে ইতিকাফ ভেঙে যেতে পারে। অবশ্য প্রাকৃতিক প্রয়োজন, ফরজ গোসল, জুমার নামাজ আদায় বা আজান দেওয়ার মতো শরয়ি প্রয়োজনের ক্ষেত্রে সাময়িক বাইরে যাওয়া যায়।
তবে যেসব কারণে ইতিকাফ নষ্ট হতে পারে— অপ্রয়োজনীয়ভাবে মসজিদ ত্যাগ করা, নফল গোসলের জন্য বাইরে যাওয়া, জানাজা বা রোগী দেখতে শুধু এই উদ্দেশ্যে বের হওয়া, ব্যবসায়িক বা দুনিয়াবি কাজ করা, ইতিকাফ অবস্থায় স্ত্রী-সহবাস করা, টাকার বিনিময়ে অন্যকে ইতিকাফে বসানো (নাজায়েজ)।
নারীদের ইতিকাফ
নারীরা নিজ ঘরের নির্দিষ্ট কক্ষে ইতিকাফ করতে পারেন। তবে মসজিদে ইতিকাফ করতে চাইলে পর্দা ও নিরাপদ ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। স্বামীর অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক এবং ঋতুস্রাব শুরু হলে ইতিকাফ বন্ধ করতে হবে।
ইতিকাফে যাওয়ার আগে প্রয়োজনীয় বিছানাপত্র, পরিষ্কার পোশাক, ধর্মীয় বই ও তসবিহ সঙ্গে রাখা ভালো। অপ্রয়োজনীয় কথা, মোবাইল ব্যবহার এবং দুনিয়াবি ব্যস্ততা কমিয়ে কোরআন তিলাওয়াত, জিকির ও নফল ইবাদতে সময় দেওয়াই ইতিকাফের মূল লক্ষ্য।










