রমজান মাস আল্লাহর পক্ষ থেকে মুমিনদের জন্য এক বিশেষ নিয়ামত। এ মাসে রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের দুয়ার উন্মুক্ত থাকে এবং প্রতিটি নেক আমলের প্রতিদান বৃদ্ধি করা হয়। হাদিসে এমন কিছু সময়ের কথা উল্লেখ আছে, যখন বান্দার দোয়া বিশেষভাবে কবুল হওয়ার আশা করা যায়। অথচ অনেকেই অজ্ঞতার কারণে এসব মূল্যবান সময় অবহেলায় কাটিয়ে দেন।
এক. ফজরের পরের সময়
রমজানে ফজরের নামাজের পরের সময়টি অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ। মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি ফজরের নামাজ জামাতে আদায় করে, এরপর সূর্য ওঠা পর্যন্ত বসে আল্লাহর জিকির করে এবং পরে দুই রাকাত নামাজ আদায় করে তার জন্য একটি হজ ও একটি ওমরার সাওয়াব রয়েছে।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ৫৮৬)
ইমাম নববী (রহ.) বলেন, দিনের মধ্যে আল্লাহর জিকিরের উত্তম সময়গুলোর একটি হলো ফজরের পরের সময়। আলেমরা বলেন, এ সময় জীবিকা বণ্টন করা হয়। তাই বিশেষ করে রমজানে ফজরের পর ইবাদত ও দোয়ায় মনোনিবেশ করা অধিক কল্যাণকর।
দুই. ইফতারের আগ মুহূর্ত
সূর্যাস্তের পূর্ব মুহূর্ত, অর্থাৎ ইফতারের আগের সময়টি দোয়া কবুলের অন্যতম মূল্যবান সময়। নবী (সা.) বলেছেন, ‘তিন ব্যক্তির দোয়া প্রত্যাখ্যান করা হয় না ন্যায়পরায়ণ শাসক, রোজাদার যখন সে ইফতার করে এবং অত্যাচারিত ব্যক্তি।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ১৭৫২)
পূর্বসূরি আলেমরা ইফতারের আগে দোয়া ও জিকিরে মশগুল থাকতেন। কিন্তু অনেক সময় দেখা যায়, এ গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তটি বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত থেকে হারিয়ে যায়। তাই ইফতারের প্রস্তুতির পাশাপাশি কিছু সময় দোয়ার জন্য রাখা জরুরি।
তিন. শেষ রাতের সময়
রাতের শেষ তৃতীয়াংশ দোয়া কবুলের বিশেষ সময়। পবিত্র কোরআনে শেষ রাতে ক্ষমাপ্রার্থনাকারীদের প্রশংসা করে বলা হয়েছে: ‘তারা ধৈর্যশীল, সত্যবাদী, অনুগত, ব্যয়কারী এবং শেষ রাতে ক্ষমাপ্রার্থনাকারী। (সুরা আলে ইমরান, আয়াত: ১৭)
নবী (সা.) বলেছেন, ‘রাতের শেষ তৃতীয়াংশ অবশিষ্ট থাকতে আমাদের প্রতিপালক দুনিয়ার আকাশে অবতরণ করেন এবং বলেন কে আমাকে ডাকবে, আমি তার ডাকে সাড়া দেব; কে আমার কাছে চাইবে, আমি তাকে দান করব; কে আমার কাছে ক্ষমা চাইবে, আমি তাকে ক্ষমা করব।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১১৪৫)
তাই সাহরির আগে বা পরে তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করে আন্তরিকভাবে দোয়া ও ইস্তিগফার করা মুমিনের জন্য বড় সুযোগ।
শুধু এই তিন সময়ই নয়, বরং একজন মুমিনের জীবন হওয়া উচিত আল্লাহর জিকির ও ইবাদতে সজীব। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘সূর্যোদয়ের আগে ও সূর্যাস্তের আগে তোমার প্রতিপালকের পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা কর এবং রাতের কিছু অংশে ও দিনের প্রান্তগুলোতেও, যাতে তুমি সন্তুষ্ট হতে পারো।’ (সুরা ত্বহা, আয়াত: ১৩০)
আল্লাহ আমাদের রমজানের প্রতিটি মুহূর্তকে ইবাদত, জিকির ও কবুলযোগ্য দোয়ায় পরিপূর্ণ করার তাওফিক দান করুন। আমিন।










