হাওরের বিস্তীর্ণ জলরাশি ঘেরা কিশোরগঞ্জ-৪ ইটনা, মিঠামইন ও অষ্টগ্রাম। এই জনপদে এবার লড়াই ছিল শুধু ভোটের নয়, ছিল চেতনারও। আর সেই লড়াইয়ে বিপুল ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান।

ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম নিয়ে গঠিত এই আসনে ধানের শীষ প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ২৯ হাজার ৯৫৪ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী রোকন রেজা শেখ পেয়েছেন ৫৭ হাজার ৩২৬ ভোট। অর্থাৎ ৭২ হাজার ৬২৮ ভোটের বিশাল ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করেন তিনি।

ভোট দিয়ে তিনি বলেছিলেন, “বাংলাদেশের মানুষ রাজাকার ও আলবদরের দোসরদের ক্ষমতায় দেখতে চায় না।” মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রশ্নে তার কণ্ঠ বরাবরই আপোষহীন।

citytouch 728-X-90

নির্বাচনের আগে এক জনসভায় ফজলুর রহমান বলেছিলেন, “আমার এলাকায় জামায়াত জিতলে আমি বিষ খাব।” সেই বক্তব্যে তোলপাড় হয়েছিল রাজনৈতিক অঙ্গন। কেউ বলেছিলেন আবেগ, কেউ বলেছিলেন চ্যালেঞ্জ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ফলাফলে প্রমাণ করলেন নিজ অবস্থানে অটল এই স্পষ্টভাষী নেতা।

ফল প্রকাশের পর ফেসবুকে তিনি লেখেন, “আলহামদুলিল্লাহ, কিশোরগঞ্জ-৪ রাজাকার পরাজিত করে মুক্তিযুদ্ধা আবার বিজয়ী হলো। এই বিজয় আমার নয়, এটি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের মানুষের।” মধ্যরাতে আরেক পোস্টে তিনি বিজয় উৎসর্গ করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানসহ সকল মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি।

জামায়াতে ইসলামীকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “রাজাকার জামায়াত নাকি ৪০ আসন নিয়ে সরকার গঠন করেছে!” অন্য এক পোস্টে স্বাধীনতার ঘোষককে ঘিরে চলমান বিতর্ক প্রসঙ্গে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে তিনি লেখেন, “স্বাধীনতার ঘোষক অলির নাকি পেন্ট খুলে গেছে?”

উল্লেখ্য, ইটনায় ৫৪ হাজার ২৮৯, মিঠামইনে ২৬ হাজার ৭৫৬, আর অষ্টগ্রামে ৪৮ হাজার ৯০৯ ভোট পেয়ে তিন উপজেলাতেই শক্ত অবস্থান নিশ্চিত করেন তিনি। বিজয়ের পর আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন, “শেষ বয়সে এলাকার মানুষ যে সম্মান দিয়েছে, তা রক্ষা করার চেষ্টা করবো।”