শফিকুর রহমান।

বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ মাঠে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের উদ্যোগে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ কোনো আধিপত্যবাদী শক্তির কাছে মাথা নত করবে না। তিনি বলেন, ‘কোথাও কোনো প্রভুর আধিপত্য আমরা মানব না। আর কোনো ফেলানী যেন কাঁটাতারে ঝুলে না থাকে এটাই আমাদের অঙ্গীকার।’

citytouch 728-X-90

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এমন একটি বাংলাদেশ চাই, যেখানে পরিবারতন্ত্র, গোষ্ঠীতন্ত্র কিংবা আধিপত্যবাদ থাকবে না। এই দেশ হবে ১৮ কোটি মানুষের। বাংলাদেশ সবার বন্ধু থাকবে, কিন্তু কোথাও কাউকে প্রভু মানব না।’

জুলাই আন্দোলন ও শহীদদের আত্মত্যাগ স্মরণ করে জামায়াত আমির বলেন, ‘২০২৪ সালের জুলাইয়ে দেশের যুবক-যুবতী, কৃষক-শ্রমিকসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষ আন্দোলনে অংশ নিয়েছে। ১ হাজার ৪০০ শহীদের রক্ত এই জাতির ঘাড়ে দায় হিসেবে রয়েছে। আমরা তাদের সঙ্গে কোনোভাবেই বেঈমানি করব না।’

নারী নিরাপত্তা নিয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে নারীদের ওপর হামলা ও হুমকির ঘটনা অত্যন্ত লজ্জাজনক।

তার ভাষায়, ‘আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেখানে আমার মা, আমার বোন ও আমার মেয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত থাকবে তার ঘরে, চলাচলে এবং কর্মস্থলে। এখানে জাত-ধর্মের ভিত্তিতে কোনো বৈষম্য থাকবে না। এই দেশের আকাশের নিচে, মাটির ওপর যারা নারী তাদের সম্মান করা আমাদের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।’

কুড়িগ্রামের নদীভাঙন ও দীর্ঘদিনের অবহেলার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘৫৪ বছরে নদী শাসনের নামে লুটপাট হয়েছে। যদি আমাদের সুযোগ দেওয়া হয়, জনগণের লুট হওয়া অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফিরিয়ে আনা হবে।’

তিনি আরও বলেন, দেশের সবচেয়ে বঞ্চিত জেলা কুড়িগ্রাম থেকেই উন্নয়নের সূচনা হবে। উত্তরবঙ্গকে কৃষি ও শিল্পের রাজধানীতে পরিণত করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

জনসভায় আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান জামায়াত আমির। একই সঙ্গে তিনি কুড়িগ্রামের চারটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন।