দ্য ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম বলেছেন, নতুন যে বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখা হচ্ছে, সেখানে যেন সমালোচনামূলক সাংবাদিকতা ও স্বাধীন গণমাধ্যমের পূর্ণ সুযোগ থাকে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে যে ভবিষ্যৎ কল্পনা করা হচ্ছে, সেখানে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও ক্রিটিক্যাল জার্নালিজমের পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে।
রোববার (২১ ডিসেম্বর) রাজধানীর একটি হোটেলে বিএনপির আয়োজনে গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে এই মতবিনিময় সভায় দৈনিক পত্রিকা, অনলাইন নিউজ পোর্টাল, টেলিভিশন ও রেডিওর সম্পাদক ও বার্তাপ্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।
মাহফুজ আনাম বলেন, বাংলাদেশের ৫৩ বছরের ইতিহাসে কখনো কোনো গণমাধ্যম কার্যালয়ে আগুন দেওয়া হয়নি। কিন্তু সম্প্রতি প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টারের কার্যালয়ে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, “আমরা কী অপরাধ করেছি যে আমাদের কার্যালয়ে আগুন জ্বালানো হলো?” এ বিষয়ে সব গণমাধ্যমকে সত্য অনুসন্ধান ও প্রশ্ন তোলার আহ্বান জানান তিনি।
Related posts here
তিনি আরও বলেন, গণতন্ত্রের জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হলো সমালোচনামূলক মতপ্রকাশকে সহ্য করা। কেবল মতপ্রকাশের স্বাধীনতা থাকলেই হবে না, সরকার ও ক্ষমতাসীনদের সমালোচনা করার স্বাধীনতাও থাকতে হবে। তিনি বলেন, আমি আপনাদের সমালোচনা করব, যাতে আপনারা আরও ভালো করতে পারেন এই মানসিকতাই গণতন্ত্রকে এগিয়ে নেয়।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদের প্রতি ইঙ্গিত করে মাহফুজ আনাম বলেন, ক্ষমতার বাইরে থাকলে অনেকেই গণমাধ্যমবান্ধব হন, কিন্তু ক্ষমতায় গেলে সেই উদারতা টিকে থাকে কি না সেটিই আসল প্রশ্ন। অতীত অভিজ্ঞতার আলোকে তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতের বাংলাদেশে সরকার সমালোচনাকে ভয় না পেয়ে তা গ্রহণ করবে।
মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, তারেক রহমানের দেশে ফেরাকে কেন্দ্র করে জনগণের প্রত্যাশা হলো এর মাধ্যমে বাংলাদেশের গণতন্ত্র আরও শক্তিশালী হবে। তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৮ বছর নির্বাসিত জীবন কাটানোর পর তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন গণতন্ত্র পুনর্গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ।
এ সময় সালাহউদ্দিন আহমদ প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টার কার্যালয়ে হামলার ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, এই ঘটনা শুধু দুটি গণমাধ্যমের ওপর নয়, বরং পুরো জাতির জন্যই লজ্জাজনক। তিনি এ ধরনের সহিংসতার নিন্দা জানান এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
মতবিনিময় সভায় গণমাধ্যমের ভূমিকা, স্বাধীনতা ও ভবিষ্যৎ গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে সাংবাদিকতার পরিবেশ নিয়ে খোলামেলা আলোচনা হয়।
.webp&w=3840&q=75)









