ইফতারে অস্বাস্থ্যকর খাবার খেলে পেটের সমস্যা ও গ্যাস্ট্রিকের ঝুঁকি বাড়ে। তাই সারা দিন রোজা রাখার পর এমন খাবার খাওয়া উচিত, যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াবে এবং গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখবে। এজন্য একজন ব্যক্তির জীবনধারা, বয়স ও বিদ্যমান রোগ অনুযায়ী ব্যক্তিনির্ভর খাদ্য পরিকল্পনা তৈরি করা উচিত।

অনেকে খেজুর দিয়ে ইফতার শুরু করেন। এতে থাকে আয়রন, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, জিংক এবং বিভিন্ন ভিটামিন। খেজুর শরীরে শক্তি দেয়, হিমোগ্লোবিন বৃদ্ধি করে এবং হজমে সহায়তা করে।

পানিশূন্যতা রোধ ও বিপাকক্রিয়ার জন্য শরবতও নেওয়া যেতে পারে। শরবতে ইসবগুল, তোকমা, কাঁচা আম বা তেঁতুল মিশিয়ে খাওয়া যায়। লেবুর তৈরি শরবত বা ডাবের পানি গ্রহণও উপকারী। তবে ডায়াবেটিস রোগীর জন্য চিনি, গুড় বা মধু বাদ দেওয়া উচিত। বিকল্প হিসেবে পরিমাণমতো সুস্বাদু স্বাস্থকর চিনি ব্যবহার করা যেতে পারে।

citytouch 728-X-90

শর্করা সমৃদ্ধ খাবারের পরিবর্তে আমিষ ও ভালো মানের চর্বি সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া পেট ভরাতে ভালো ভূমিকা রাখে। শর্করা গ্রহণের জন্য মুড়ি, চিড়া, পপকর্ন বা খই সীমিত পরিমাণে গ্রহণ করা যেতে পারে।

বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে, যেমন ডায়াবেটিস, কিডনির সমস্যা, উচ্চ ইউরিক অ্যাসিড থাকলে ডাল ও ডালজাত খাবারের পরিবর্তে মুড়ি, চিড়া, চালের গুঁড়া বা অ্যারারুটের তৈরি সমুচা, শিঙাড়া, আলুপুরি বা আলুর চপ খাওয়া যেতে পারে।

ওজনের সমস্যা বা আলসার, গ্যাসট্রাইটিস থাকলে ডুবোতেলে ভাজা ও ঝালযুক্ত খাবার কম খেতে হবে। পরিবর্তে কম ক্যালরিযুক্ত বা কম তেলে রান্না করা খাবার গ্রহণ করা উচিত।

গর্ভাবস্থায় রোজা রাখলে অবশ্যই গর্ভকালীন খাদ্য ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী খাবার নির্বাচন করতে হবে। ডায়াবেটিক রোগীদের ক্ষেত্রে ইফতারের পরিমাণ অন্যান্য সময়ে রাতের খাবারের সমপরিমাণ হওয়া উচিত, নইলে হাইপোগ্লাইসেমিয়ার আশঙ্কা থাকে।

ইফতার ধাপে ধাপে গ্রহণ করা ভালো। প্রথম ধাপে পানি ও খেজুর, দ্বিতীয় ধাপে বিভিন্ন ধরনের পানীয় এবং পরবর্তী ধাপে অন্যান্য খাবার।

লেখক: বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির সিজিএইচআর বিভাগের সিনিয়র নিউট্রিশন অফিসার এবং মনোয়ারা হাসপাতালের বাংলাদেশ হাই রিস্ক প্রেগনেন্সি কেয়ার অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টারের ক্লিনিক্যাল নিউট্রিশন কনসালট্যান্ট