ছোটবেলায় অনেকেরই স্বপ্ন থাকে পাইলট হওয়ার। পাখির মতো আকাশে উড়ে বেড়ানোর এই পেশা শুধু রোমাঞ্চকরই নয়, বরং সুযোগ–সুবিধা ও আয়ের দিক থেকেও অত্যন্ত আকর্ষণীয় হিসেবে বিবেচিত হয়।

বর্তমানে বিশ্বজুড়ে বিমান চলাচল বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পাইলটের চাহিদাও দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রতি বছর বিশ্বে প্রায় ১৭ হাজার নতুন পাইলটের প্রয়োজন হয়। ফলে সঠিক প্রস্তুতি ও প্রশিক্ষণ থাকলে এই পেশায় ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগও অনেক বেশি।

পাইলটের বেতন কত

citytouch 728-X-90

ক্যারিয়ারের শুরুতে একজন পাইলট সাধারণত মাসে প্রায় দেড় থেকে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত বেতন পেয়ে থাকেন। অভিজ্ঞতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই বেতন ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পায়। বিদেশি এয়ারলাইন্সে কর্মরত পাইলটদের বেতন ও সুযোগ–সুবিধা তুলনামূলকভাবে আরও বেশি হয়ে থাকে। অনেক ক্ষেত্রে অভিজ্ঞ পাইলটরা মাসে কয়েক লাখ টাকারও বেশি আয় করতে পারেন।

পাইলটদের সুযোগ–সুবিধা

পাইলটদের বেতনের পাশাপাশি আরও বেশ কিছু সুবিধা দেওয়া হয়। এর মধ্যে রয়েছে- আন্তর্জাতিক ভ্রমণের সুযোগ, ফ্রি বা ডিসকাউন্টে এয়ার টিকিট, স্বাস্থ্যসেবা ও বিমা সুবিধা, আবাসন বা হোটেল সুবিধা, আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ ও ক্যারিয়ার উন্নয়নের সুযোগ। এই কারণেই পাইলট পেশাকে বিশ্বের অন্যতম আকর্ষণীয় চাকরি হিসেবে ধরা হয়।

পাইলট হতে কী যোগ্যতা লাগে

পাইলট হওয়ার জন্য সাধারণত বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এইচএসসি পাস করা প্রয়োজন। তবে অনার্স সম্পন্ন করার পরও পাইলট প্রশিক্ষণ কোর্সে ভর্তি হওয়া যায়। প্রশিক্ষণে ভর্তি হওয়ার জন্য কয়েকটি শর্ত পূরণ করতে হয়। যেমন- কমপক্ষে ১৬ বছর বয়স হতে হবে, শারীরিকভাবে সুস্থ ও ফিট থাকতে হবে, ইংরেজি ভাষায় ভালো দক্ষতা থাকতে হবে। কিছু প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার দক্ষতাও বিবেচনা করা হয়।

ভর্তি প্রক্রিয়া

পাইলট প্রশিক্ষণ কোর্সে ভর্তি হওয়ার আগে প্রার্থীদের একটি ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়। এই পরীক্ষার ধাপগুলো সাধারণত- লিখিত পরীক্ষা, মৌখিক পরীক্ষা, স্বাস্থ্য পরীক্ষা। সব ধাপ সফলভাবে পাস করলেই প্রশিক্ষণের সুযোগ পাওয়া যায়।

প্রশিক্ষণের ধাপ

পাইলট হওয়ার প্রশিক্ষণ সাধারণত তিনটি ধাপে সম্পন্ন হয়।

১. গ্রাউন্ড কোর্স এই ধাপে বিমান চালনার তাত্ত্বিক বিষয়, ফ্লাইট পরিচালনার নিয়মনীতি এবং বিমান প্রযুক্তি সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হয়।

২. স্টুডেন্ট পাইলট লাইসেন্স (SPL) এই লাইসেন্স পাওয়ার আগে সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ একটি পরীক্ষা নেয়। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে প্রশিক্ষণার্থী ৪০ থেকে ৫০ ঘণ্টা বিমান চালানোর অনুমতি পান।

৩. প্রাইভেট ও কমার্শিয়াল পাইলট লাইসেন্স পরবর্তী ধাপে প্রাইভেট পাইলট লাইসেন্স নেওয়া হয়। তবে এটি দিয়ে বাণিজ্যিক বিমান চালানো যায় না। এজন্য প্রয়োজন কমার্শিয়াল পাইলট লাইসেন্স (CPL)।এই লাইসেন্স পেতে সাধারণত ১৫০ থেকে ২০০ ঘণ্টা বিমান চালানোর অভিজ্ঞতা থাকতে হয়।

কত সময় লাগে

পুরো পাইলট প্রশিক্ষণ কোর্স সম্পন্ন করতে সাধারণত সর্বোচ্চ তিন বছর সময় লাগে।

প্রশিক্ষণের খরচ

পাইলট প্রশিক্ষণ নিতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন হয়। সাধারণত পুরো কোর্স সম্পন্ন করতে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টাকা খরচ হতে পারে।

তবে বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, প্রশিক্ষণ শুরুর আগে অন্তত ৫০ লাখ টাকা প্রস্তুত রাখা ভালো। কারণ পর্যাপ্ত অর্থ না থাকলে প্রশিক্ষণ দীর্ঘায়িত হতে পারে এবং প্রয়োজনীয় ফ্লাইট ঘণ্টা পূরণ করা কঠিন হয়ে যায়।

চাকরির সুযোগ-সুবিধা

লাইসেন্স পাওয়ার পর সাধারণত পাইলটদের চাকরির অভাব হয় না। বাংলাদেশেই বেশ কয়েকটি বেসরকারি ও সরকারি এয়ারলাইন্স রয়েছে, যেখানে নিয়মিত পাইলট নিয়োগ দেওয়া হয়। এ ছাড়া অভিজ্ঞতা ও যোগ্যতা অনুযায়ী বিদেশি এয়ারলাইন্সেও কাজ করার সুযোগ রয়েছে।