দ্রুত ওজন কমানোর আশায় অনেকেই কঠোর ডায়েট বা ক্র্যাশ ডায়েট অনুসরণ করেন। কেউ কেউ অল্প কয়েক দিনে কয়েক কেজি ওজন কমানোর লক্ষ্যও নির্ধারণ করেন। তবে এ ধরনের তাড়াহুড়ো করে ওজন কমানোর চেষ্টা শরীরের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। বয়স, জীবনযাপন, খাদ্যাভ্যাস, হরমোনজনিত সমস্যা, শারীরিক অবস্থা ও ওষুধ সেবনের ইতিহাস বিবেচনায় নিয়ে ধীরে ও নিয়ম মেনে ওজন কমানোর পরামর্শ দিচ্ছেন পুষ্টিবিদরা।
বিশেষ করে নগরজীবনে কর্মব্যস্ততা, অনিয়মিত খাবার, দীর্ঘসময় বসে কাজ করা, মানসিক চাপ ও পর্যাপ্ত ঘুমের অভাবে অনেক নারীর ওজন বাড়ছে। অতিরিক্ত ওজন শুধু শারীরিক গঠনের পরিবর্তন নয়; এর সঙ্গে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, ফ্যাটি লিভার, পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম (PCOS), জয়েন্টের সমস্যা ও হৃদ্রোগের মতো বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকিও সম্পর্কিত।
নিউট্রিশনিস্ট নাহিদা আহমেদের পরামর্শ, ওজন কমানোর ক্ষেত্রে প্রথমেই খাবারের গুণগত মান ও পরিমাণের দিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন। সকালের নাস্তায় পর্যাপ্ত প্রোটিন রাখা, প্রতিদিনের খাবারে শাকসবজি ও সালাদের পরিমাণ বাড়ানো এবং অতিরিক্ত ক্যালোরিযুক্ত খাবার কমানোর মাধ্যমে খাদ্যাভ্যাসে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা যায়।
খাবার ধীরে ধীরে খাওয়াও ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে। মনোযোগ দিয়ে খাবার খেলে শরীরের ক্ষুধা ও তৃপ্তির সংকেত বোঝা সহজ হয়। পাশাপাশি বড় প্লেটের পরিবর্তে তুলনামূলক ছোট প্লেটে খাবার নেওয়া এবং একবারে অতিরিক্ত খাবার না খাওয়ার অভ্যাসও দৈনিক খাদ্যগ্রহণ নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখতে পারে।
ওজন কমানোর ক্ষেত্রে শুধু খাবারের পরিবর্তনই যথেষ্ট নয়। নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম, পর্যাপ্ত ঘুম এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণও গুরুত্বপূর্ণ। নিজের খাবার ও দৈনন্দিন অভ্যাস পর্যবেক্ষণের জন্য ক্যালোরি বা খাবার ট্র্যাকিং অ্যাপ ব্যবহার করেও সচেতনতা বাড়ানো যেতে পারে।
তবে সবার জন্য একই ডায়েট কার্যকর নয়। বিশেষ করে দ্রুত ওজন কমানোর কোনো কঠোর পরিকল্পনা শুরু করার আগে ব্যক্তির বয়স, শারীরিক অবস্থা ও প্রয়োজন বিবেচনা করা জরুরি। তাই নিরাপদ ও দীর্ঘমেয়াদি ফলাফলের জন্য প্রশিক্ষিত পুষ্টিবিদ বা চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ব্যক্তিভেদে উপযোগী খাদ্য ও জীবনযাপন পরিকল্পনা করা উচিত।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ওজন কমানোর ক্ষেত্রে দ্রুত ফল পাওয়ার চেয়ে এমন একটি পদ্ধতি অনুসরণ করা বেশি গুরুত্বপূর্ণ, যা দীর্ঘদিন ধরে স্বাস্থ্যকরভাবে বজায় রাখা সম্ভব। ক্র্যাশ ডায়েটের বদলে সুষম খাবার, নিয়মিত শরীরচর্চা ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের অভ্যাসই হতে পারে টেকসই ওজন নিয়ন্ত্রণের ভিত্তি।










