অর্থনীতি


চালের দাম ও সরবরাহ পরিস্থিতি যথেষ্ট স্থিতিশীল: বাণিজ্যমন্ত্রী


নিজস্ব প্রতিবেদক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত:১৭ জুন ২০২৬, ১০:৫৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার

আপডেট:১৭ জুন ২০২৬, ১০:৫৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার

চালের দাম ও সরবরাহ পরিস্থিতি যথেষ্ট স্থিতিশীল: বাণিজ্যমন্ত্রী

রাজধানীর পাইকারি ও খুচরা চালের বাজার পরিদর্শন শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেছেন, দেশের চালের বাজারে দাম ও সরবরাহ পরিস্থিতি বর্তমানে যথেষ্ট স্থিতিশীল রয়েছে। সরকারের হাতে চাল ও গমের সন্তোষজনক মজুদ আছে এবং প্রয়োজন হলে বাজারে সরবরাহ বাড়াতে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার সক্ষমতাও সরকারের রয়েছে।

 

বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে রাজধানীর বাদামতলী পাইকারি চালের বাজার এবং নয়াবাজারের খুচরা বাজার পরিদর্শন শেষে সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।

 

এ সময় খাদ্য প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান উপস্থিত ছিলেন।

 

বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, একটি জাতীয় দৈনিকে চালের বাজারে মূল্যবৃদ্ধির সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর পরিস্থিতির প্রকৃত অবস্থা যাচাই করতে তিনি এবং খাদ্য প্রতিমন্ত্রী সরেজমিনে বাজার পরিদর্শনে যান। বিভিন্ন পাইকারি আড়ত ও খুচরা দোকান ঘুরে তারা দেখতে পেয়েছেন, চালের দামে উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন হয়নি।

 

তিনি বলেন, কয়েকজন ব্যবসায়ী জানিয়েছেন যে ঈদের পর কিছু ধরনের চালের দাম কেজিপ্রতি এক থেকে দেড় টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। তবে এই বৃদ্ধি বাজারে বড় ধরনের মূল্যবৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয় না।

 

বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে জানা গেছে, কিছু মিল মালিক বস্তাপ্রতি ১০০ টাকা দাম বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তবে বাজারে সেই মূল্য কার্যকর হয়নি এবং পরে তা কমে এসেছে।

 

তিনি বলেন, বিভিন্ন মানের চালের ক্ষেত্রে স্বাভাবিকভাবেই দুই থেকে চার টাকা পর্যন্ত মূল্য পার্থক্য দেখা যায়। নতুন ও পুরোনো চালের দামেও কিছুটা ভিন্নতা থাকে। নতুন চালের ফলন ভালো হলে তার দাম তুলনামূলক কম থাকে। এ ধরনের এক-দুই টাকার ওঠানামা বাজার ব্যবস্থার স্বাভাবিক অংশ।

 

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার পরিস্থিতি প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ভোজ্যতেলসহ অন্যান্য পণ্যের সরবরাহও স্বাভাবিক রয়েছে এবং বাজারে মূল্য স্থিতিশীল আছে। প্রতিদিন সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মাধ্যমে বাজারদর ও সরবরাহ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

 

সরকারি খাদ্যশস্যের মজুদ সম্পর্কে তিনি বলেন, সরকারের হাতে বর্তমানে চাল ও গমের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। ভবিষ্যতে বাজারে সরবরাহ বৃদ্ধির প্রয়োজন দেখা দিলে সরকার দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পারবে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সে ধরনের কোনো প্রয়োজন হয়নি।

 

বাজেট-পরবর্তী মূল্য পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, মুদ্রাস্ফীতির হিসাব একটি ভিত্তিমূল্যের ওপর নির্ভর করে। গত কয়েক মাস এবং আগের বছরের একই সময়ের সঙ্গে তুলনা করলে খাদ্যপণ্যের বাজার বর্তমানে অনেক বেশি স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে। তিনি বলেন, সয়াবিন তেলের দাম লিটারপ্রতি চার টাকা বাড়ানোর কারণও আগেই স্বচ্ছভাবে জানানো হয়েছে।

 

তিনি আরও বলেন, বাজার পরিস্থিতি সরকার নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। বর্তমানে চালের মূল্য ও সরবরাহ উভয় ক্ষেত্রেই সন্তোষজনক অবস্থা বিরাজ করছে। প্রয়োজন হলে বাজারে হস্তক্ষেপের সক্ষমতা সরকারের রয়েছে।

 

খাদ্য প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী বলেন, দেশে চালের সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও সচল রয়েছে। সরকারের হাতে বর্তমানে প্রায় ২০ লাখ টন খাদ্যশস্যের মজুদ রয়েছে, যা নির্ধারিত আপৎকালীন মজুদের তুলনায় অনেক বেশি।

 

তিনি জানান, চলমান ধান-চাল সংগ্রহ কার্যক্রমের মাধ্যমে সরকারি মজুদ ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে চালের বাজার নিয়ে সাধারণ মানুষের উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই।

 

খাদ্য প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, বাজার পরিদর্শনের সময় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, চালের সরবরাহ ব্যবস্থায় কোনো ঘাটতি বা সংকট নেই। বাজারে পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে এবং কোনো ধরনের অস্বাভাবিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়নি।

 

 


সম্পর্কিত

রাজধানীবাণিজ্যমন্ত্রীচালগম

জনপ্রিয়


অর্থনীতি থেকে আরও পড়ুন

নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য বিনা জামানতে ১০ লাখ টাকা ঋণ, স্টার্টআপে ৪% সুদে বিশেষ তহবিল

নতুন উদ্যোক্তাদের ঋণপ্রাপ্তি সহজ করতে কুটির, মাইক্রো ও ক্ষুদ্র (সিএমএসএমই) খাতের নতুন উদ্যোক্তা পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের আকার ১০০ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০০ কোটি টাকায় উন্নীত করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ তহবিল থেকে নতুন উদ্যোক্তারা বিনা জামানতে সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ সুদে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবেন। একই সঙ্গে স্টার্টআপ উদ্যোক্তাদের জন্য ৪ শতাংশ সুদে ঋণ সুবিধা দিতে ৫০০ কোটি টাকার একটি বিশেষ পুনঃঅর্থায়ন তহবিল গঠন করা হয়েছে।

আজকের স্বর্ণের দাম: ০৭ জুলাই ২০২৬

দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমানো হয়েছে। ফলে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৫ হাজার ২৯০ টাকা।

৪ জুলাই ২০২৬: ২২ ক্যারেট স্বর্ণের ভরি কত?

টানা দুই দফা কমার পর দেশের বাজারে ফের টানা দুই দফা স্বর্ণের দাম বাড়িয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। সবশেষ ভরিতে ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা বাড়িয়ে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২৮ হাজার ৫৫৬ টাকা নির্ধারণ করেছে সংগঠনটি।

২ জুলাই ২০২৬: ২২ ক্যারেট স্বর্ণের ভরি কত?

দেশের বাজারে টানা দুই দফা স্বর্ণের দাম কমার পর আবারও দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ভ্যাটসহ ২ হাজার ২১৬ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা।