হাটে ঢোকার আগে টাকা, গরু নামানোর জন্য টাকা, মাটি ভরাট করতে টাকা, আবার বের হতেও লাগবে টাকা। হাসিলের নামে কুরবানির হাটে একদিনেই উঠছে শত কোটি টাকার চাঁদা। এমনই অভিযোগ সামনে এসেছে পুরো দেশের কোরবানির হাট গুলোতে। যেখানে হাটের ভেতর থেকে শুরু করে মহাসড়কের প্রতিটি মোড়ে মোড়ে যেন অর্থ আদায়ের এক অদৃশ্য নেটওয়ার্ক সক্রিয় হয়ে উঠেছে।

কোরবানির পশুর হাটে ঢুকলেই যেন শুরু হয় এক ভিন্নধর্মী যুদ্ধ। সরকার নির্ধারিত হাসিলের বাহিরে প্রকাশ্যেই আদায় করা হচ্ছে গরুপ্রতি অতিরিক্ত ৫০০ থেকে দেড় হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা। কোথাও খুঁটির ভাড়া, কোথাও প্যান্ডেল খরচ, আবার কোথাও নাম লেখানোর অজুহাতে কেটে নেওয়া হচ্ছে টাকা। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের কোরবানির হাট ঘুরে দেখা গেছে, ইজারাদারদের কর্মীরা রীতিমতো সংঘবদ্ধভাবে এসব অর্থ তুলছেন। অথচ বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সেই অতিরিক্ত টাকার নেই কোনো রসিদ নেই কোনো হিসাব।

হাটে ঢোকার পর থেকেই শুরু হয় এ কের পর এক চাপ। টাকা না দিলে মিলছে না জায়গা, দেওয়া হচ্ছে না গরু বাঁধতেও, এমনকি দেখানো হচ্ছে নানা ঝামেলার ভয়ও।

citytouch 728-X-90

হাটে গরু নিয়ে আসা খামারি, গৃহস্থ আর ব্যাপারীদের অভিযোগ, সরকার নির্ধারিত হাসিল থাকলেও বাস্তবে তা মানছে না কেউই। অনেক জায়গায় আবার ৫০০ টাকার সরকারি রেট দেখিয়ে আদায় করা হচ্ছে ৭০০ থেকে ১৫০০ টাকা পর্যন্ত। কেউ প্রতিবাদ করলে বলা হচ্ছে, “বাড়তি খরচ আছে, দিতেই হবে।” সবচেয়ে ভয়ংকর বিষয় হচ্ছে, এই অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের কোনো হিসাবও থাকছে না। শুধু হাটেই নয়, পশুবাহী ট্রাক রাস্তায় নামার পর শুরু হয় আরেক দফা ভোগান্তি। মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে ট্রাক থামিয়ে নানা অজুহাতে টাকা চাওয়ার অভিযোগ উঠেছে কিছু অসাধু সদস্যের বিরুদ্ধে। মামলা, কাগজপত্র কিংবা চেকপোস্টের ভয় দেখিয়ে আদায় করা হচ্ছে নগদ অর্থ।

ফলে শেষ পর্যন্ত এই অতিরিক্ত চাপ গিয়ে পড়ে সাধারণ ক্রেতার ওপর। একাধিক ব্যবসায়ী জানান, একটি ট্রাক ঢাকায় পৌঁছাতে পৌঁছাতে শুধু অতিরিক্ত খরচেই কয়েক হাজার থেকে পর্যন্ত গুনতে হচ্ছে লাখ লাখ টাকা। পথে পথে থামানো, চাঁদা দাবি আর অযথা হয়রানিতে আতঙ্ক নিয়ে যাত্রা করতে হচ্ছে তাদের। অনেকেই অভিযোগ করেন, টাকা না দিলে ঘন্টার পর ঘন্টা আটকে রাখা হয় গাড়ি।

প্রশ্ন উঠেছে কোরবানির পশুর হাটে এই সিন্ডিকেটের শেষ কোথায়, আর সাধারণ মানুষই বা কতদিন এমন নীরব লুটপাটের শিকার হবে?