ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদের বক্তব্য হিসেবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও নিয়ে নানা প্রশ্ন ও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করে ভিডিওটির সত্যতা ও বক্তব্যের বিশ্বাসযোগ্যতা যাচাই করেছে দ্য ডিসেন্ট।

দ্য ডিসেন্টের বিশ্লেষণে প্রথমেই স্পষ্ট করা হয়েছে, আলোচিত ভিডিওটি এআই জেনারেটেড নয়। ভিডিওতে ফয়সাল করিম মাসুদের চেহারা, মুখভঙ্গি ও অভিব্যক্তি তার বাস্তব উপস্থিতির সঙ্গে পুরোপুরি সাযুজ্যপূর্ণ। পাশাপাশি ভিডিওর ব্যাকগ্রাউন্ড নয়েজ বিশ্লেষণ করেও কৃত্রিমভাবে তৈরি হওয়ার কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। অন্তত চারটি নির্ভরযোগ্য এআই যাচাই টুলে পরীক্ষা করার পর সবকটিই একই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে ভিডিওটি এআই দ্বারা তৈরি নয়।

তবে ভিডিওটির কিছু ফ্রেমে বিভ্রান্তিকর একটি বিষয় লক্ষ্য করা গেছে। নির্দিষ্ট কিছু মুহূর্তে ফয়সালের থুতনিতে থাকা দাড়ি অদৃশ্য হয়ে যেতে দেখা যায়। দ্য ডিসেন্টের মতে, এটি ভিডিও রেকর্ড করার সময় কোনো ফিল্টার চালু থাকার প্রভাব হতে পারে। বর্তমানে ব্যবহৃত অনেক ফিল্টারেই এআই প্রযুক্তি যুক্ত থাকায় এমন ভিজ্যুয়াল গ্লিচ দেখা দেওয়া অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু এই একটি বিষয় দিয়ে পুরো ভিডিওকে কৃত্রিম বা সাজানো বলা যায় না।

citytouch 728-X-90

Related posts here

ভিডিওতে ফয়সাল করিম মাসুদ দাবি করেছেন, তিনি বর্তমানে দুবাইয়ে অবস্থান করছেন। তবে দ্য ডিসেন্ট জানায়, শুধু ভিডিও বক্তব্যের ভিত্তিতে তার অবস্থান নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। তিনি নিজেও দুবাইয়ে থাকার কোনো দৃশ্যমান বা প্রামাণ্য প্রমাণ উপস্থাপন করেননি।

বিশ্লেষণে আরও বলা হয়েছে, ভিডিওতে ফয়সাল অন্তত একটি প্রমাণিত মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, ওসমান হাদিকে হত্যার সময় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলে তিনি ছিলেন না। অথচ দ্য ডিসেন্টের আগের অনুসন্ধান এবং পরবর্তীতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তে স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে হাদিকে হত্যার সময় ব্যবহৃত বাইকের পেছনে বসে গুলিবর্ষণকারী ব্যক্তি ছিলেন ফয়সাল করিম মাসুদ এবং বাইক চালাচ্ছিলেন তার সহযোগী আলমগীর শেখ। এই তথ্য দেশের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমেও প্রকাশিত হয়েছে।

ভিডিওতে ফয়সাল আরও অভিযোগ করেন, অর্থ ও খাদ্য মন্ত্রণালয়ের দুটি কাজ তদবিরের মাধ্যমে পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে ওসমান হাদি তার কাছ থেকে আগাম পাঁচ লাখ টাকা নিয়েছিলেন। দ্য ডিসেন্টের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, হাদির মৃত্যুর পর এমন অভিযোগ যাচাই বা প্রমাণ করা কার্যত অসম্ভব। তাছাড়া, হাদির বিরুদ্ধে এর আগে কখনোই তদবির বাণিজ্যের অভিযোগ ওঠেনি। বরং তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের ভেতরে থাকা প্রভাবশালী ব্যক্তিদের অনিয়মের বিরুদ্ধে বরাবরই সোচ্চার ছিলেন। এমন অবস্থায় মৃত্যুর পর এ ধরনের অভিযোগকে সন্দেহের চোখে দেখছেন বিশ্লেষকেরা।

সবশেষে দ্য ডিসেন্ট জানায়, ভিডিওটি বাস্তব হলেও সেখানে উত্থাপিত সব দাবি সত্য এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। বরং কিছু বক্তব্য ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠিত তথ্য ও তদন্তের ফলাফলের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ফলে এ ধরনের ভিডিও দেখার ক্ষেত্রে আবেগ নয়, বরং যাচাইকৃত তথ্য ও প্রমাণের ওপর নির্ভর করার আহ্বান জানানো হয়েছে।